somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হৃদয়ে মুক্তিযুদ্ধঃ২৫শে মার্চ ১৯৭১,আজ সেই কালরাতঃ পাকিস্তানি সৈন্যদের বরবর্তায় মুছেগেল হাসনাহেনার গন্ধ ।

২৫ শে মার্চ, ২০০৮ সকাল ৭:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হঠাৎ করে থেমে গেল ঢাকা । নেমে এলো কবরের নিস্তবদ্ধতা । দানবের অশুভ শক্তির পদভারে কাঁপছে পুরোদেশ । মানুষের রক্তের স্রোতে ভেসে যাচ্ছিল সোঁদা মাটি । গন্ধ মিলিয়ে গেল হাসনাহেনার । চার দিকে রক্তের গন্ধ । বাঁচার জন্যে নারি-পুরুষের আকুতি ।কোন কিছুতেই পাকিস্তানি দানব , পশুশক্তি সৈন্যদের মন গলে না । ঘরে ঘরে চলে নির্বিচার হত্যাকান্ড ।
আজ সেই কালরাত ।পচিঁশে মার্চ । বাঙ্গলীর জীবনে এক দগ দগে গা । যে গা ইচ্ছে করলে ও কোন দিন মুছে ফেলা যাবেনা ।স্বাধীনতার লাল টুকটুকে সূর্যটাকে চিনিয়ে আনবে বলে বেরিয়ে পড়ে বাংলামায়ের দামাল ছেলেরা ।

রাত ১টায় শুরু হয় পাকবাহিনীর বরর্বরচিত উন্মত্ততা।ইতিহাসের এই নিষ্টুর হত্যাকান্ডের নাম ''অপারেশন সার্চলাইট'' । এই ব্লুপ্রিন্ট বাস্তবায়ন করতে ঢাকায় ডেকে আনা হয় ''বেলুচিস্তানের কসাই '' খ্যাত জেনারেল টিক্কা খান কে । বঙ্গবন্ধুর সাথে প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার আ লোচনা ছিল একটি শঠতা , সময়ক্ষেপন মাত্র । নইলে আলোচনার ফলাফল জানার জন্য যখন উদগ্রীব সারা বিশ্ববাসী তখন চোরের মত পালিয়ে গেল কেন ইয়াহিয়া ?

ইয়াহিয়া পালিয়ে ঢাকা ত্যগের সাথে সাথে শুরু হয় ঘুমন্ত নিরস্র জনতার উপর হানাদার বাহিনীর পৈশাচিক হত্যাযঘ্য ।
কাপুরোষোচিত ক্রেকডাউনের পর পরই বাঙ্গলীর অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ধানম্ডির ঐতিহাসিক বত্রিশ নম্বরের বাড়ী থেকে আনুস্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেন ।এর কিছুক্ষন পরই পাকবাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে ক্যান্টমেন্টে নিয়ে যায় ।সেখান থেকে পরবর্তিতে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয় বঙ্গবন্ধুকে ।
অন্যদিকে এইদিনেই বঙ্গবন্ধু ৩২ নম্বরের বাড়ীর সামনে আগত জনতার উদ্দ্যেশ্যে বলেন ,''বিশ্বের কোন শক্তিই পূর্ব বাংলার সাড়ে সাত কোটি মানুষের ন্যায়সঙ্গত দাবীকে নস্যাত করতে পারবে না ''। তিনি বলেন,জনতার দাবীকে শক্তির দাপটে যদি কেউ রক্তচক্ষু দেখায় আমরা তা বরদাশত করবোনা ।তার দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিব ।

বঙ্গবন্ধুর ডাকে উজ্জীবিত বাঙ্গালী ২৫শে মার্চের পর নতুন করে উজ্জীবিত হয় ।প্রস্তুত হয় পৃথিবীর ইতিহাসের নৃশংস হ্ত্যাকান্ডের প্রতিশোধ নেয়ার ।ঝাঁপিয়ে পড়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে । নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে চিনিয়ে আনে প্রিয় স্বাধীনতা । লাল-সবুজের পাতাকা নিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে জন্মনেয় বাংলাদেশ । আমার প্রিয় বাংলাদেশ ।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৮ সকাল ৮:২৫
২৭টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিংবদন্তি আভিনেতা শ্রদ্ধেয় হুমায়ুন ফরীদি এর কিছু পুরনো দিনের ফটো

লিখেছেন একজন অশিক্ষিত মানুষ, ১৫ ই জুন, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:৩২


তার অভিনিত আমার দেখা প্রথম নাটকটির নাম মনে নেই তবে সে নাটকে তার নাম ছিল কানকাটা রমজান আলী।
তারপর ওনার অভিনিত অনেক নাটক ও ছবি দেখেছি।যত দেখেছি ততই ভালো লেগেছে।
... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলো না হারাই

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৫ ই জুন, ২০১৯ রাত ৮:৫৯


সুন্দর এই সন্ধ্যা
লাগছে ভীষণ ভালো—ভ্যাপসা গরম কেটে গেছে
ঘর্মাক্ত দেহটি এখন আর নেই
মনটিও সতেজ তাই ভাবছি বসে আনমনে
শুধু তোমাকেই। দেখ বেদনা কাব্য পুড়ে হয়ে গেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের টিভি সংবাদ

লিখেছেন গিয়াস উদ্দিন লিটন, ১৫ ই জুন, ২০১৯ রাত ৯:২১




সকালে ঘুম থেকে উঠে টিভি ছাড়লাম। স্ক্রলে ভেসে উঠছে-

তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান সুরেন্দ্র কুমার সিনহার অধীনে আগামী সংসদ নির্বাচন। খালেদা জিয়ার মুক্তি, সারা দেশে শোকরানা দিবস পালন করেছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দূর আকাশে ভেসে...

লিখেছেন নস্টালজিক, ১৬ ই জুন, ২০১৯ ভোর ৫:৪৬



শোনো সহস্র শিশু ইয়েমেনে মরে
না খেতে পেয়ে, বলি
শিশু অধিকারে সরব(!) যারা
তাদের পথেই চলি।

যে পথে ফুল বিছানো সদ্য
কবি লিখছেন নতুন পদ্য
সেই পদ্যে জাদুকরী রঙে
শব্দ কল কাকলি ...

শোনো ধর্মের কথা মৃয়মান... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই সমাজ- ২

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই জুন, ২০১৯ সকাল ৭:২০



প্রায় প্রতিদিনই দেখি মসজিদ নির্মানের জন্য টাকা তুলছে।
রাস্তার ফুটপাতে মাইক বাজিয়ে অথবা বাস যখন রাস্তার জ্যামে পড়ে তখন এক হুজুর ইনিয়ে বিনিয়ে মসজিদ নির্মান ও এতিম বাচ্চাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×