প্রহসন নং 1
বিটিভির আলোচনা সভা চলছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বলছেন বানিজ্য উপদেষ্টা বরকতউল্লাহ ভুলু।উনি ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, জিনিসপত্রের দাম বাড়া আসলে আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সূচক।উদাহরন হিসেবে তিনি হাজির করলেন, চিনির দাম বাড়ছে তার মানে চিনির চাহিদা বাড়ছে। অর্থাৎ আগে গ্রামের লোকেরা চিনি খেতোনা এখন তারা চিনি খায়। সুতরাং মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। ফলাফল, দ্রব্যমূল্য বাড়ছে মানে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ছে। কে খন্ডন করবে এই অকাট্য যুক্তি? এই চমৎকার যুক্তি শুনে পাবলিক বুঝতে পারছে যে আসলেই তার ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে তারপর না খেয়ে ঘুমোতে যাচ্ছে। কারন বাজারে গিয়ে সে কিছু কিনতে পারেনি।
বিটিভির ঐ অনুষ্ঠানে বলার কেউ ছিলোনা যে প্রতিদিনই কি পরিমান কালো টাকা বাজারে ঢুকে বিপর্যস্ত করছে আমাদের অর্থনীতি এবং বাজারের স্থিতিশীলতাকে। কারন আলোচক হিসেবে যারা হাজির ছিলেন তারা সকলেই কালো টাকার মালিক।
প্রহসন নং 2
সাফল্য,সাফল্য, সাফল্য.. জোট সরকারের বিরাট সাফল্য! বিটিভির ঘোষনা মোতাবেক স্মরণ কালের সর্বোচ্চ বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ এখন মজুদ রয়েছে। দাতারা পিঠ চাপড়াচ্ছে। যদিও কয়েক হাজার কলকারখানা বন্ধ হয়ে শিল্পায়ন প্রায় ধ্বংস তাতে কি? অর্থনীতির উন্নতি হচ্ছে। সম্পদের ক্ষেত্রে ধনী:গরীব বৈষম্য আরো কয়েক গুন বেড়েছে তাতে কি? প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। এমনিতে না খেয়ে মরে শুধু উত্তরবঙ্গের লোক; দাম এভাবে বাড়তে থাকলে এবার মরনের হাত থেকে নিম্নবিত্ত দূরে থাক মধ্যবিত্তের ও রেহাই নেই কিন্তু ক্ষতি কি? বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ তো বাড়ছে (এই তথ্য সত্য কিনা তাতে যথেষ্ট সন্দেহ আছে তারপরও আমরা ধরে নিচ্ছি যে এটা সত্য)
অমর্ত্য সেন বলে একজন অর্থনীতিবিদ আছেন যিনি তৃতীয় বিশ্বের অর্থনীতি নিয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হাজির করেছেন। বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ এবং তথাকথিত প্রবৃদ্ধি যে কোনভাবেই তৃতীয় বিশ্বের সত্যিকার অর্থনীতির অগ্রগতিকে প্রতিনিধিত্ব করেনা তা চমৎকারভাবে পরিস্কার করেছেন তিনি। কিন্তু কি আসে যায়?
বরকতউল্লাহ ভুলু তো অর্থনীতি অমর্ত্য সেনের চেয়ে কম বোঝেন না। কি আসে যায় যদি সর্বোচ্চ বৈদেশিক মূদ্রার রিজার্ভ ইকুয়াল টু সর্বনিম্ন জীবনযাত্রার মান হয়?
অর্থনৈতিক উন্নয়ন কিন্তু হচ্ছে!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


