( বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে ধারাবাহিক কয়েকটি লেখার পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের। চেষ্টা শুরু হলো যে সেই পরিকল্পনা কে কাজে পরিণত করা যায় কিনা? এ প্রচেষ্টার প্রথম পর্ববিশ্ববিদ্যালয় ধারণা বিষয়ক এই লেখা। লেখাটি চার কিস্তিতে শেষ হবে)
বিশ্ববিদ্যালয় ধারণা সংক্রান্তযে কোন আলোচনায় প্রথম যেটি লক্ষনীয় সেটি হলো মূলত ধারণা কে কেন্দ্র করে এক লম্বা দড়ি টানাটানির অধ্যয় নির্মিত হয়ে আছে। বিশ্ববিদ্যালয় আসলে কি? সমাজে-রাস্ট্রে তার ভূমিকা কি হবে? কে নিয়ন্ত্রন করবে বিশ্ববিদ্যালয়? রাজনীতির সাথে তার সম্পর্ক কি হবে? বিশ্ববিদ্যালয়ে কারা পড়বে? বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের পুরো সময়কালটিতে এসব প্রশ্নের ব্যাপারে কখনো সবাই একমত হতে পারেনি। যে দড়ি টানাটানির কথা শুরূতে বলা হচ্ছিল তার দুটি পক্ষ হিসেবে রাস্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয় কে প্রায়শই পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিতে দেখা গেছে। এরকম টি কেন ঘটে?
একথা সত্যি যে প্রতিটি সমাজ, সংগঠন ও রাস্ট্র স্থিতিশীলতা চায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশ্ন উথথাপন ও মুক্তবুদ্ধি চর্চার মাধ্যমে উপলব্ধির জগত কে ক্রমাগত পূণনির্মানের যে প্রক্রিয়া চলার কথা তা সাধারণ ভাবে স্থিতিশীলতার সহায়ক নয়।বস্তুত: বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলনীতি সত্যের সন্ধান করা এবং তা পরীক্ষা-নীরিক্ষা, প্রশ্ন উথথাপন, স্বাধীন ভাবনা ও মুক্তবুদ্ধির মধ্য দিয়ে।বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃংখলা হলো এর গতিশীলতার মধ্যে নতুন জ্ঞান ও অভিনব সব উদ্ভাবন কে, উপলব্ধির চেতনায়, সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বিন্যস্ত ও সমন্বিত করা। একারনেই রাস্ট্র ও এবং সমাজের নানা স্তরের প্রশাসকদের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয় সম্পর্কে একটি বৈরি মনোভাব কাজ করে। তারা আশা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা হবে শুধুমাত্র রাস্ট্রের প্রশ্নহীন অনুসঙ্গে পরিণত হয়ে কথিত উন্নয়ন কে অগ্রসর করা। তারা বুঝতে চাননা যে অগ্রগতির জন্য ঝুকি গ্রহণ একটি সামাজিক মূল্য যা আমাদের অবশ্যই দিতে হবে ভবিষ্যতের কথা ভেবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির জগতে যে বিপুল অগ্রগতি এবং তার অফুরন্ত ফসল মানুষ ভোগ করছে, সেখানে শুধু নতুন প্রযুক্তিই আসেনি প্রকৃতির নিয়মকে জানতে হয়েছে নতুন করে,জ্ঞানের জগত ও উপলব্ধির জগতে নানান বিপ্লবী পরিবর্তন এনে এর জন্য মূল্য দিতে হয়েছে অনেক বিজ্ঞানী কে।কারাবাস, অবমাননা, অবজ্ঞা এমনকি মৃতু্য দন্ড পর্যন্ত দেয়া হয়েছে। শুধু বিজ্ঞানের জগতে নয়, সমাজবিজ্ঞান ও সাহিত্যের ক্ষেত্রেও একই প্রতিক্রিয়া ঘটেছে পরিবর্তনের বিরুদ্ধে।... ( চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


