somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আল্লামা শফির কওমীপন্থী মাদ্রাসায় ছাত্রকে যৌন নির্যাতন করেছে মাদ্রাসা শিক্ষক

১৭ ই জুলাই, ২০১৩ দুপুর ২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হাটহাজারী পৌরসভাস্থ ক্বওমীপন্থী ফটিকা আবু হুরাইরা আদর্শ হেফজখানার এক শিক্ষক ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির এক ছাত্রকে যৌন নির্যাতন (বলৎকার) করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৬ জুলাই। ঘটনার পর ছাত্রটিকে চমেক হাসপাতালের মানসিক বিভাগে ভর্তি করানো হয়। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিদের টাকার বিনিময়ে বিষয়টি সালিশের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। দশদিন আগে ঘটনা ঘটলেও মামলা হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার (১৬ জুলাই)। এ ব্যাপারে ছাত্রের মা পারভিন আক্তার বাদী হয়ে গতকাল মঙ্গলবার হাটহাজারী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-১৮, তাং ১৬/০৭/১৩। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন। তবে তাকে গতকাল প্রকাশ্যে হাটহাজারী বাজারে ঘুরাফেরা করতে দেখা গেছে বলে জানান এলাকাবাসী।

মাদ্রাসার পরিচালক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে আলাপে জানা যায়, পৌরসভাস্থ আবু হুরাইরা আদর্শ হেফজখানায় চলতি বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি ভর্তি করানো হয় উপজেলার গড়দুয়ারার মোঃ সেলিমের ৯ বছরের পুত্র শিফাতুর রহমান শাওনকে। তার পিতা সেলিম পেশায় জাহাজের সারেং। পুত্রের জন্মের পূর্ব থেকে সেলিমের ইচ্ছা ছিল ছেলেকে হাফেজ হিসাবে গড়ে তুলবেন। মাদ্রাসায় প্রত্যেক মাসে তিনি ছেলের খোরপোষ বাবদ দুই হাজার আটশ’ টাকা দিতেন। গত পবিত্র শবে বরাতের আগের দিন পিতা সেলিম তার ছেলেকে দেখতে ও খোরপোষের খরচ দিতে মাদ্রাসায় যান এবং ছেলেকে দেখে বাড়ি ফিরে যান।

পরবর্তীতে গত ৬ জুলাই একই মাদ্রাসার শিক্ষক তথা মাদ্রসা পরিচালকের আপন সহোদর মাওলানা মোঃ শফিক শিফাতুর রহমান শাওনকে ভয় দেখিয়ে পাশবিকভাবে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালায়। নির্যাতনের এক পর্যায়ে শাওনের প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। রক্তক্ষরণ দেখে মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মাওলানা মোঃ রফিক আহমদ ও মাওলানা মোঃ শফিক একটি গাড়ি করে শাওনকে কোথায় নিয়ে যান এবং সেখানে চিকিৎসা করান। এরপরে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এ অবস্থা দেখে মাদ্রাসার বাবুর্চি তার মাকে খবর দেন। খবর পেয়ে তার মা দ্রুত মাদ্রাসায় এসে ছেলেকে নিয়ে প্রথমে হাটহাজারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান। কিন্তু অবস্থা অপরিবর্তিত দেখে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। নগরী একটি প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করানো হলে সেখানেও অবস্থা অপরিবর্তিত দেখে তারা তাকে চমেক হাসপাতালের মানসিক বিভাগে ডা. মহিউদ্দিন সিকদারের অধীনে চিকিৎসা শুরু করেন।

এদিকে ঘটনার পর থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তৎপরতা শুরু করে। তারা স্থানীয় রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও পুলিশের কাছে বিষয়টি আপোষ মীমাংসার জন্য ছুটে যায়। মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা হাফেজ মোঃ রফিক আহমেদের সাথে মুঠোফোনে ঘটনার ব্যাপারে জানতে চাইলে প্রথমে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন।

তিনি বলেন, যা শুনেছেন তা সত্য। তবে ঘটনাটিতো ৭ জুলাই সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে। তিনি জানান, সালিশে স্থানীয় আবছার চেয়ারম্যান, দিদারুল আলম বাবুল ও কালু সওদাগর উপস্থিত ছিলেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও শালিশদারগণ ছেলেটির পরিবারকে ঘটনাটি প্রচার না করার অনুরোধ জানান।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে জানা গেছে, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দেড় লক্ষ টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি আপোষ রফা করে। প্রথম দফায় এক লক্ষ টাকা লেনদেন হয়েছে। তবে ওই ছাত্রের পরিবারের পক্ষ থেকে এ যাবত কোন টাকা গ্রহণ করা হয়নি বলে তার পিতা মোঃ সেলিম সারাং জানান।

হেফজখানার ছাত্র শিফাতুর রহমান শাওনের ওপর পাশবিক যৌন নির্যাতনকারী শিক্ষক মাওলানা মোঃ শফিক ফটিকছড়ি উপজেলার বাগান বাজার ইউনিয়নের পুরান রামগড় গ্রামের কাজী বাড়ির মাওলানা করিমুল হকের পুত্র। তার অগ্রজ ভাই হাফেজ মাওলানা রফিক আহমদ উক্ত মাদ্রাসার পরিচালক। ২০০৮ সালে হাটহাজারী পৌরসভাস্থ ৬নং ওয়ার্ডে এডভোকেট শাহ আলমের বিল্ডিং ভাড়া নিয়ে তিনি ওই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন।

এ ব্যাপারে হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম লিয়াকত আলী জানান, এ ঘটনায় ছাত্রটির মা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। ঘটনার সাথে জড়িত শিক্ষককে আটকের জন্য সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাকে নিদেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, রক্ষণশীল মাদ্রাসাগুলোতে জুনিয়র ছাত্রদের উপর সিনিয়র ছাত্র ও শিক্ষকদের যৌন নির্যাতন (বলৎকার) নিত্যনৈমত্তিক ঘটনা। বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সন্ধীপে অল্প বয়সী সুদর্শন বালকদের উপর যৌন নির্যাতনের হার খুবই বেশি। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে সামাজিক লোকলজ্জার ভয়ে এ ধরনের ঘটনা ধর্ষিত বালকের অভিভাবকরা প্রকাশ করেন না, তাছাড়া অনেক এলাকায় একে খুব একটা বড় অপরাধ বলেও মনে করা হয় না।

সূত্র: দৈনিক আজাদী, চট্টগ্রাম : ১৭-০৭-২০১৩
১৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এই সমাজ- ৭২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৩



দেশের সরকার অযোগ্য অদক্ষ হলে, জনগনের শান্তি থাকে না।
দেশের জনগন সারাদিন কাম কাজ করে। অফিসে নানান রকম যন্ত্রনা পোহায়। নানান জক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়। অফিসে থাকে না... ...বাকিটুকু পড়ুন

তেল গ‍্যাস অনুসন্ধান আর বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে, সুদি মহাজন আর খাম্বা/কার্ড সরকারের মিথ্যাচারের জবাব॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮



২০০৮-২০২৪ এই ১৬ বছরকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন "chronicle of shoddy gas exploration" - মানে গ্যাস অনুসন্ধানের ধীরগতির ইতিহাস।

২০০৮-২০২৪ এর মূল চিত্র

< Between 2008 and 2024, bureaucratic interference... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল ইশরাত মঞ্জিল ধ্বংসের আসল খলনায়ক কে?

লিখেছেন মৌন পাঠক, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১১

কথায় কথায় বামপন্থী, সেক্যুলারদের গালি দেয়া হচ্ছে ইশারাত মঞ্জিলের ইতিহাস মুছে ফেলার জন্য।

কিন্তু দালিলিক ইতিহাস হলো— ১৯৫১-৫২ সালে মূল ইশারাত মঞ্জিল বিল্ডিংয়ে কোনো হিন্দু, বামপন্থী বা আওয়ামী লীগার বুলডোজার চালায়নি!

তাহলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবননগর

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪১



গ্রাম দেখতে কোলাহলের বাইরে গিয়ে দেখি-
কোথাও নেই একরত্তি গ্রাম!
বিলুপ্ত হয়েছে যাবতীয় সবুজ সুন্দর;
সর্বত্র বিস্তার লাভ করেছে কংক্রিটের বন!
ভ্রমণক্লান্তিতে খুব তৃষ্ণার্ত হয়ে-
জলপানাঙ্ক্ষা জানাতেই পেলাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৯ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:২৬

বাংলাদেশ নেপালের চেয়েও ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।



বাংলাদেশে যদি একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প বা বড় ধরনের নগর দুর্যোগ আঘাত হানে, তাহলে দেশটি নেপালের অভিজ্ঞতার চেয়েও বহুগুণ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে পারে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×