দেশ এইটা মোটামুটি একটা জমিদারি, সামন্ততান্ত্রিক স্টাইলে চলতেছে। আওয়ামী লীগ আমলে যখন রাজাকারদের ফাঁসি ঠেকানোর জন্য দেশজুড়ে পেট্রোল বোমা হামলা শুরু হলো, তখন এই পুলিশের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগ সরকার আন্দোলনটা সামাল দিয়েছিলো। ছাত্রলীগ, যুবলীগ, ব্লগার, কেউই ঐ ভয়াবহ হামলা মোকাবেলা করার সক্রিয় শক্তি দেখাতে পারে নাই। মানুষজনতো মোটামুটি ব্লগার শুনলেই ঘৃণায় বমি করতো, কারণ ব্লগার মানেই নাস্তিক, এই বয়ান বেশ ভালোভাবেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে উঠেছিলো। সেই যে পুলিশ আওয়ামী লিগ সরকারকে টিকে যেতে সাহায্য করলো, তার মাধ্যমেই হয়ে উঠলো, "মাছের রাজা ইলিশ, দেশের রাজা পুলিশ"। এডমিন ক্যাডারের কর্মকর্তারা, যারা আগে খুব বেশী পাত্তা পেতো না, এমনকি আমাদের স্কুলের স্যারদেরকেও দেখছি থানা নির্বাহী অফিসারকে ধমকাতে, তারা হয়ে উঠলো জমিদারের সেরেস্তা। করোনার সময় ডাক্তারদের জন্য বরাদ্দকৃত মাস্ক, গ্লাভস এগুলা সব দখল করে বসেছিলো প্রশাসনিক কর্মকর্তারা, ডাক্তাররা কোন মাস্ক বা গ্লাভস বরাদ্দ পেতো না। এই বন্দোবস্ত একচেটিয়া জারি রাখার জন্য প্রচলন করা হলো মুক্তিযুদ্ধ ও গোপালগঞ্জ এর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাবহার। না, আপনি মুক্তিযোদ্ধা ফ্যামিলির হলেই চাকরি পাবেন এমন না, আপনাকে প্রথমে প্রমাণ করতে হবে আপনার বাবা, চাচা বা পরিবারের কেউ মুক্তিযোদ্ধা ছিলো, এরপরে আপনাকে মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে পুলিশের কনস্টেবলের চাকরি নিতে হবে। সোজা বাংলায় জমিদার, তার আত্মীয়স্বজনদের পেয়াদা, সেরেস্তার বহর দিয়ে সামন্ততন্ত্রের একচেটিয়া লালন করা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের স্থায়ী কোন লাভ হয় নাই, অস্থায়ী ক্ষমতা পেয়েছে, কিন্তু আদতে দলটায় কোন নতুন রাজনৈতিক মেধা আসে নাই, দলের কোন উন্নতিও হয় নাই। যতই ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ করেন না কেনো, ওবায়দুল কাদেরের মতো ঝানু রাজনৈতিক প্রতিভা তরুণ লীগারদের মধ্যে কেউ নাই। ফলাফলা যা হবার তাই হইছে, তুর্কি জেনেসারির ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, জেনেসারিরা যেমন সুলতানকে সরিয়ে নিজেরাই ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছিলো, আমলা ও পুলিশ আওয়ামী রাজনীতিবিদদের সরিয়ে নিজেরাই ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছে। প্রত্যেকটা আমলা ও পুলিশ, কেবলমাত্র চিহ্নিত কিছু বাদে, মোটামুটি সবাই ঠিকই আগের হালের আছে, আগের হালেই সামন্ততন্ত্রের চর্চা চালিয়ে যাচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




