somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লগার নান্দনিক নন্দিনীর " ক্লাসমেটের সাথে প্রেম, একধরনের পাতানো ম্যাচ " ও আমার জীবনের বাস্তবতা ।

১৩ ই নভেম্বর, ২০২১ দুপুর ২:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
উৎসর্গ - ব্লগার নান্দনিক নন্দিনী'কে - যার পোস্টের মন্তব্য থেকেই পেয়ে গেলাম লেখার ধারনা ।


ছবি - sharechat.com

প্রেম যে কখন কিভাবে কার জীবনে আসবে তা আগে থেকে কেউ বলতে পারেনা বা তা পরিকল্পনা করেও হয়না। তবে সমাজে প্রচলিত একটি বাণী " প্রথম দেখাতেই ভালোবাসা " - এটা কিভাবে যেন আমার জীবনে শতভাগ সত্যি হয়ে ধরা দিয়েছিল । যদিও এর পূর্বেও জীবনে কয়েকবার প্রেম আসি আসি করছিল যার শুরুটা হয়েছিল দ্বিতীয় শ্রেণীতে থাকা অবস্থায়ই (তা হয়ত ভাল লাগা ছিল ,প্রেম নয় তবে সে এক চমতকার ঘটনা ছিল)। তার পর দশম শ্রেণীতে এবং দ্বাদশ শ্রেণীতে থাকা অবস্থায়ও সে আসবার চেয়েছিল তবে পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুকূল না থাকার কারনে এবং অন্যের ভারবহনে (দায়িত্ব পালন) অক্ষমতার কারনে সে সব প্রেমের কলি আর ফুল হয়ে ফুটেনি ,কলি থেকেই ঝড়ে গিয়েছিল।

মানুষ সামাজিক জীব। সে একা বাঁচতে পারে না। জীবনে চলার পথে বেঁচে থাকার জন্য মানুষের সংগীর প্রয়োজন।যদিও আমরা সবাই জানি দিন শেষে আমরা সবাই একা তবে একটা সময় আমরা সবাই সংগী চাই আর তখন সবাই বেমালুম ভুলে বসে থাকি, "আসবার কালে আসলাম একা, যাইবার কালেও যাইব একা…"। তারপরেও আমরা ভালবাসি-তবুও আমরা ভালোবাসি। যখন আমরা ভালোবাসি কাউকে, তখন ভাবি, " ভালোবাসার থেকে সুন্দর আর কিছু নেই"। আর যখন কারো ভালোবাসা-বঞ্চিত হই, তখন ভাবি, " ভালোবাসা বড়ই নিষ্ঠুর,ভালোবাসা যতটুকু দেয়,তার থেকে বেশি নেয়" - হায়রে বিধাতার খেয়াল…….. হায়রে অবাক ভালোবাসা।

জীবনের অনেকটা সময় পাড়ি দেওয়ার পরও কখনো সুযোগ হয়নি কোন ১লা ফাল্গুনে বাসন্তী রঙ এর শাড়ী পড়া কারো হাত ধরে ‘বসন্ত-বরণ উৎসব’ দেখতে যাওয়ার বা কোন ২রা ফাল্গুনে সকাল বেলায় সুদর্শনা বংগদেশী ললনার খোঁপায় একখানা লাল গোলাপ গুঁজে দিয়ে বলা হয়নি ভালোবাসি তোমাকে অথবা ১৪ই ফেব্রুয়ারীতে ঘোরা হয়নি বিশেষ কাউকে নিয়ে রমনার বটমূলে। তারপরেও কয়েকবারই এসেছিল প্রেম এই অভাগার জীবনে।

অনার্স প্রথম বর্ষ কিভাবে যেন চলে গেল টেরই পেলামনা। প্রেম হয়নি তবে আমার ঠিক আগের রোল নং ছিল আমারই নিজ জেলার ছোটখাট গড়নের চমতকার এক সহপাঠি লিপি (প্রথম বর্ষের পরীক্ষার পর ছুটিতে মারা যায় লিউকোমিয়ায় ভূগে। মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসীব করুন ) এবং আরেক সহপাঠি মোনার সাথে মিলেমিশে।


ছবি - sharechat.com

ক্লাসমেটের সাথে প্রেম হঠাত :P করে হয়ে গিয়েছিল ( এ যেন অনেকটা - Right moment never comes stupid, right moment always has to be made by yourself! ) অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের আষাড়ের ঘনঘোর বর্ষার এক ম্যারাথন বৃষ্টির দিনে ।

সকালে টিউটরিয়াল পরীক্ষা ১১ টায় শেষ করে বৃষ্টির কারনে পরবর্তী ক্লাস বন্ধ । বারান্দায় বৃষ্টি দেখতে দেখতে স্রষ্টার আরেক সৃষ্টির মাঝে কখন যে হারিয়ে গিয়েছিলাম টের পাইনি ।ধীরে ধীরে এগিয়ে গিয়ে পাশে বসা এবং আলাপ পরিচয়ের মাঝে কিছু সময়ের পরে অবাক হয়ে দেখি সেই বংগললনা (বাবলী) আমারই ক্লাসের (সেইম ইয়ার) এবং একই বিষয়ের । প্রায় অনেকটা সময় কাটিয়ে যখন বৃষ্টি বন্ধের পর নিজেরা যার যার পথে গিয়েছি পরে দেখি বৃষ্টির কারনে প্রকৃতি যেমন কিছুটা সিক্ত হয়েছে ঠিক তেমনি আমাদের হৃদয়ও কখন যেন সিক্ত হয়ে গেছে , নিজেদের অজান্তে ।


ছবি - http://khonjkhobor.in

তার পর কি হলো ?

তার পরের কাহিনী ?

যা হওয়ার কথা তাই হয়েছে। একসাথে-হাতে হাত রেখে শিক্ষা জীবন শেষে জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস (সংসার) শুরু তবে মাঝখানের কাহিনী এতটা সুখের নয়। একসাথে থাকার জন্য পাড়ি দিতে হয়েছে অনেকটা কঠিন ও বন্ধুর পথ । সে আরেক বিশাল ও করুণ কাহিনী।

আর এখন ?

সংসার জীবনে এখন সুখী ;) না দুঃখী?

এটাও কোটি টাকার প্রশ্ন তবে খারাপনা । তবে, " যাকে চাই,তাকে ভুল করে চাই,যাকে পাই,তাকে চাই না" - এমন নয়।

ভাল-মন্দ মিলিয়ে চলে যাচছে দু'জনের একসাথের পারিবারিক জীবন (ইতিমধ্যে সাথে বোনাস :(( আরো দুই দুইটা :> বদের পয়দা,যারা নিজেরাও হতে পারে ভবিষ্যতের ক্লাসমেট প্রেমিক - কারন ,তাদের সামনেই রয়েছে উদাহরন) এই দুনিয়ার তাবত জটিলতার মাঝেও।

সৃষ্টিকর্তার কাছে এখন একটাই চাওয়া, জীবনের বাকী দিনগুলি যেন বুড়া-বুড়ি একসাথে মিলে-মিশে পাড়ি দিতে পাড়ি , দুনিয়ার সকল জটিলতার পরেও।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৩ বিকাল ৫:১৬
২৫টি মন্তব্য ২৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আচুক্কা প্রেশ্ন!

লিখেছেন মৌন পাঠক, ১৪ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৫:৪৮

দেশে বিরোধী দল নাই, আর ও অনেক কিছু নাই।

আবার গুজব শুনি, হাসিনা - রেহানার উষ্ণ মধুর সম্পর্ক,
তা আচুক্কা প্রশ্ন জাগল, রেহানা ক্যান আলাদা দল গঠন করে না,
লাস্ট নির্বাচনই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের সাতকাহন

লিখেছেন বিষাদ সময়, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৮:০১

অনেকদিন হল জানা আপার খবর জানিনা, ব্লগে কোন আপডেটও নেই বা হয়তো চোখে পড়েনি। তাঁর স্বাস্খ্য নিয়ে ব্লগে নিয়মিত আপডেট থাকা উচিত ছিল। এ ব্লগের প্রায় সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কামিয়াব!!!!

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৮:২৯

কষ্টে কেষ্ট মেলে পরিশ্রমে সৌভাগ্য
তুমি আমি যে সোনায় সোহাগা
আমাদের দুজনের সঙ্গম অভিসার
তাই সবারই আরাধ্য ।
সুস্থতা অসুস্থতা আসে স্রষ্টার হুকুমে
ধনী দারিদ্র্যও ঠিক তাই
প্রচেষ্টায় বান্দা মদদে খোদা
তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মস্মৃতি: কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায় (চতুর্থাংশ)

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৯:২৭


আত্মস্মৃতি: কাঁটালতা উঠবে ঘরের দ্বারগুলায় (তৃতীয়াংশ)
আমার ছয় কাকার কোনো কাকা আমাদের কখনও একটা লজেন্স বা একটা বিস্কুট কিনে দিয়েছেন বলে মনে পড়ে না। আমাদের দুর্দিনে তারা কখনও এগিয়ে আসেননি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আটকে থাকা বেতন পেয়ে বাবার কথা মনে পড়ায় যা করলাম...

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ১৫ ই জুন, ২০২৪ রাত ১২:০৮

অবশেষে অনেক সংগ্রাম করে বেতন চালু করা গেলো। শুধু আমারটা না, কলেজে ফান্ডের অভাবে আরও যারা বেতন পাচ্ছিলেন না, তাদের বেতনেরও ব্যবস্থা করলাম। নিজে দুমাসের বেতন একসাথে পেলাম। বেশ বড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×