somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আহমদ ছফা'র লেখা "যদ্যপি আমার গুরু"

০৮ ই জুলাই, ২০১৭ দুপুর ১২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আহমদ ছফা নামের সাথে আমার প্রথম পরিচয় ঘটে আরেক জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ এর মাধ্যমে। এরপর বহু জায়গায় এ নামটি পেয়েছি, তবে আমার দূর্ভাগ্য হলো উনার কোন লেখা আমার আগে পড়া হয় নি। আমি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ের পাঠক, নয়তো এমনটা হতোনা। যাই হোক, এমন চমৎকার একটি বইয়ের মাধ্যমেই উনার লেখার জগতে আমার প্রবেশ। আর শুরুটাই আমাকে উনার লেখার প্রেমে পড়তে বাধ্য করেছে!

"যদ্যপি আমার গুরু" বইটি বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিমান কথাসাহিত্যিক ও বিশিষ্ট চিন্তাবিদ আহমদ ছফা বিরচিত স্মৃতিচারণা মূলক গ্রন্থ। এমন তৃপ্তিদায়ক, শক্তিশালী একটা বইয়ের রিভিউ কিংবা পাঠ প্রতিক্রিয়া লেখা আমার মতো একজন আনাড়ি পাঠকের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাপার। আবার এমন একটা বইয়ের সাথে সবার পরিচয় না করিয়ে দেওয়াটাও অপরাধবোধে ভোগাবে। সে দায় থেকেই লিখছি! অবশ্য আরো একটা কারন আছে, সে কারনটা কি? সে কারনটা বইয়ের মাঝেই পেয়েছি!

"পড়ার কাজটি অইল অন্যরকম। আপনে যখন মনে করলেন, কোনো বই পইড়্যা ফেলাইলেন, নিজেরে জিগাইবেন যে বইটা পড়ছেন, নিজের ভাষায় বইটা আবার লিখতে পারবেন কিনা। আপনার ভাষার জোর লেখকের মত শক্তিশালী না অইতে পারে, আপনের শব্দভান্ডার সামান্য অইতে পারে, তথাপি যদি মনে মনে আসল জিনিসটা রিপ্রোডিউস না করবার পারেন, ধইরা নিবেন, আপনের পড়া অয় নাই।"

কথাটা একজন গুরুর, একজন শিক্ষকের, একজন বুদ্ধিজীবির। সেই মহীরুহের গল্প নিয়েই এই বই। একজন বহুমাত্রিক, ব্যতিক্রমী, প্রচার বিমুখ সাদাসিধে মানুষের গল্প। সেই মানুষটি হল জাতীয় অধ্যাপক প্রয়াত ড. আবদুর রাজ্জাক। উনার সাথে লেখকের দীর্ঘ ২৭ বছরের সংস্পর্শে পাওয়া কিছু অমলিন স্মৃতিকথাই ফুটে ওঠেছে এখানে।

এই স্মৃতিচারণা পড়তে গিয়েই বিমোহিত হয়েছি বারবার। শুধু লোমহর্ষক থ্রিলার কিংবা টানটান উত্তেজনার ফিকশন বই-ই পাঠককে শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত আকর্ষিত করতে পারে, এ বইটা পড়ার পর আমার সেই ভুল ভাঙলো। নন-ফিকশন হওয়ার পরও শেষ পৃষ্ঠা পর্যন্ত মোহাচ্ছন্ন হয়ে ছিলাম!

মাত্র ১১০ পৃষ্ঠা আর দুই মলাটে ভর করে যেন ফিরে যাওয়া যায় সেই সময়ে, ড. আবদুর রাজ্জাক স্যারের সামনে! যেন চোখ বন্ধ করলেই শোনা যায় ঢাকাইয়া ভাষায় একজন মানুষের জ্ঞানগর্ভ আলোচনা! একজন মানুষের জানার পরিধি কত বিস্তৃত হতে পারে তা এই বই না পড়লে জানতাম না। ইতিহাস, সমাজ, রাজনীতি, দর্শন, শিল্প-সাহিত্য সবকিছুই আলোচিত হয়েছে এখানে। বইয়ের নাম আর লেখকের নাম সহ রেফারেন্স দিয়ে আলোচিত হয়েছে অনেকগুলো বই। পড়া শেষে যা আপনার জানার তৃষ্ণা বাড়িয়ে দিবে, বাড়িয়ে দিবে জ্ঞানের পরিধি।

"একটা কথা খেয়াল রাখন খুব দরকার। যখন একটা নতুন জায়গায় যাবেন, দুইটা বিষয় পয়লা জানার চেষ্টা করবেন। অই জায়গার মানুষ কি খায় আর পড়ালেখা কী করে। কাঁচাবাজারে যাইবেন কি খায় হেইডা দেহনের লাইগ্যা। আর বইয়ের দোকানে যাইবেন পড়াশোনা কি করে হেইডা জাননের লাইগ্যা।....কী খায় আর কী পড়ে এই দুইডা জিনিস না জানলে একটা জাতির কিছু জানন যায় না।"

একজন মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি কতটা প্রখর আর দূরদর্শী হলে এমন ভাবনা মাথায় আসতে পারে, ভাবতে পারেন?

পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখলেও এই বই নিয়ে আমার অনূভুতি প্রকাশ হয়তো শেষ হবে না। এবং তাও হয়তো যথেষ্ট হবেনা। তাই পাঠকের বিরক্তবোধ চলে আসার আগেই লেখা শেষ করছি!

সবশেষে, একটা কথা। একটা বই কখন স্বার্থক হয়ে ওঠে জানেন? যখন তা পাঠককে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে, যখন তা পাঠকের মনে চিন্তার উদ্রেক ঘটাতে পারে, যখন তা পাঠকের দৃষ্টিভঙ্গিকে বিকশিত করতে পারে।

আমার মতে, এই বইটা তেমন একটা বই। পড়ার অনুরোধ রইল!

হ্যাপি রিডিং!
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুলাই, ২০১৭ দুপুর ১২:৪৯
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সেই সৈনিকটি কি রাতে ঘুমাতে পেরেছিল?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:১৯


সেই সৈনিকটি কি রাতে ঘুমাতে পেরেছিল?

এই বাংলাদেশের পলিমাটিতে ইতিহাস খুব ভয়ংকর।

এখানে কখনো কখনো নদী শুধু পানি বহন করে না- বহন করে রক্তের স্মৃতি।
গাছ শুধু ছায়া দেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

কুরআন থেকে মাদ্রাসার ছাত্রের বিস্ময়কর বিদ্যুৎ আবিস্কার :-ls

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫২

চারিদিকে বিদ্যুতের জন্য ত্রাহি ত্রাহি অবস্থার মধ্যে মাদ্রাসার এই ছাত্রটি কুরআন গবেষণা করে আমাদের জন্য ফ্রি বিদ্যুতের ব্যবস্থা করেছেন। বিজ্ঞান পড়েননি, পড়েছেন কুরআন-হাদিস! সেই মাদ্রাসাছাত্রই বানালেন মাধ্যাকর্ষণ দিয়ে বিদ্যুতের যন্ত্র!

অবেশেষে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জীবন এক মরীচিকা

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:২৬


ফেসবুক এ কতজনই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠায় সবার সাথে কথা হয় না। তানিম ছেলেটি কবে থেকে ফেসবুক এ ছিল মনে নেই। একসময় সে যোগাযোগ করল আমার লেখা, পড়ার আগ্রহ দেখালো।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে----- ড্রাকুলা হাসিনা।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৭



ড্রাকুলার হাসিনা তো আর এমনি এমনি বলেনি যে, আমি ভারতকে যা দিয়েছি ভারত চিরকাল তা মনে রাখবে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যা মূলত ভারতকে একতরফা সুবিধা দেওয়ার জন্য তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবিশ্বাস্য, অবিস্মরণীয়! বাংলাদেশের দুর্দান্ত জয় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে!!! :-ls B-)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৪৯



অবিশ্বাস্য, দুর্দান্ত, অতুলনীয়,অবিস্মরণীয় যে বিশেষণই ব্যবহার করি না কেন বাংলাদেশের এই জয়ের মহত্ব বুঝাতে কোন শব্দ ভান্ডারই যেন যথেষ্ট নয়। আমি রীতিমত বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি বাংলাদেশের এমন পারফর্মেন্স দেখে!! বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×