somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বুয়েটিয়ানদের সাথে একদিন। (ফটোব্লগ + সামান্য সাহিত্য)।

১০ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত শুক্রবার সিলেটের লাউয়াছড়ায় গিয়েছিলাম একেবারে হুট করেই। বৃহঃস্পতিবার বিকেলে শুনলাম বুয়েটের কিছু ছাত্র-ছাত্রী বাধন (সেচ্ছায় রক্তদাতাদের সংগঠন) এর ব্যবস্থাপনায় লাউয়াছড়া যাবে, ছাত্র-ছাত্রীদের গেষ্টও যেতে পারবে।

লাউয়াছড়ার নাম শুনেছি, সংরক্ষিত বনাঞ্চল, আদিবাসিদের আবাস (প্রধানত খাসিয়া) এবং প্রকৃত পশুপাখি অর্থাৎ যেগুলো সত্যিকার অর্থেই এই বনের বাসিন্দা সেই পশুগুলোকে এখানে প্রাকৃতিক ভাবে রাখা হয়েছে। তাছাড়া বোনাস হিসাবে সিলেটের চা বাগান তো আছেই। আমার শ্যালিকা বুয়েটের উচু ক্লাসে পড়ে, ও ই ফোন করে জানলো। গিন্নিকে রাজি করিয়ে ভোর ৬:০০ এর মধ্যেই হাজির হলাম বুয়েটের শহীদ মিনারে। কথাছিলো বাস ছাড়বে ৬:৩০ টায়। আমরা বুয়েটে পৌছে একটু হকচকিয়ে গেলাম বিরাট জন সমাবেশ একটা বাস ব্যানার-ট্যানার লাগিয়ে দাড়িয়ে আছে, সিট বাম্পার, ছাদ, ইঞ্জিন কভার সব মিলিয়ে এত লোকের জায়গা হবে না।

সত্যি একটা কথা বলি, আমি ঠিক পিকনিক করার জন্য গিন্নিকে পটিয়ে পাটিয়ে লাউয়াছড়া রওনা হয়েছি এইটা সত্যি না। বিয়ের পর অনেক চেষ্টা করেও ছবি তুলতে কোথাও যেতে পারিনি, কত ঝগড়া, অভিমান, রাগারাগি...... কিন্তু বাস্তবতা হলো শুক্রবারগুলো আসলেই সংসারের নানান ফেলে রাখা কাজ করার একমাত্র উপায়। বউ অবশ্য মাঝে মাঝে বলে, তুমি ছবি তোলা একেবারেই ছেড়ে দিলে, তোমার এত নেশা ছিলো......। আমি আসলে এই শুক্রবার টা চান্স নিয়ে নিলাম। শালির গেষ্ট হয়ে যাবো তাই বউ এমনিতেই সাইজ (খিকঃ খিকঃ খিকঃ খিকঃ)।

এখন যদি ৪/৫ ঘন্টা দাড়িয়ে-ঝুলে যাওয়া লাগে তাহলেই হইছে। মুখ শুকনা করে দাড়িয়ে আছি, সাড়ে সাতটার মত বাজে, হঠাৎ একজনকে দেখলাম একটা হ্যান্ড-মাইক নিয়ে সবাইকে এক যায়গায় আসতে বলছে। অবাক বিষ্ময়ে দেখলাম পুরো শহীদ মিনার মাথায় ভর্তি হয়ে গেল। গোনা হল মোট ১৭০ জন, ৩০ জন মেয়ে। আয়োজকরা সম্ভবত এত উপস্থিতি ধারনা করেনি, শেষ মুহুর্তে বাস জোগাড় করতে হয়েছে তাই রওনা হতে একটু দেরী হবে। আমি ধরেই নিলাম ১০-১১ টার আগে রওনা হতে পারবো না। চুড়ান্ত বিরক্তি নিয়ে অপেক্ষা করছিলাম বলেই বোধহয় খেয়াল করিনি, আরো দুটো বাস এসে দাড়িয়েছে আর সোয়া সাতটা নাগাদ যখন হ্যান্ডমাইক থেকে বলা হচ্ছিল কে কোন বাসে উঠবে তখন সত্যিই অবাক হলাম। যারা বুয়েটিয়ান তারা বোধহয় অবাক হচ্ছেন না। আমি সারা জীবন নানান স্কুলে কলেজে আর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছি কম করে হলেও শ’খানেক পিকনিক করেছি এমন কান্ড দেখি নাই। ছাত্রগুলো নির্দেশ মেনে নির্ধারিত বাসে উঠে গেল মেয়েদের কে একটা বাসে উঠতে বলা হল। আমাদের সময় দেখেছি মেয়েদের বাসগুলোতে ব্যাপক ভিড় হয়, এখানে দেখলাম উল্টা। একটা কথা না বললে শান্তি পাচ্ছিনা, চারদিকে ১৬৯ টা “বাড়ির সবচেয়ে শান্ত শিষ্ট পড়ুয়া আর নিরীহ” টাইপ ছেলে মেয়ের সাথে আমি কখনও কোথাও যাইনি। এইটা একটা ইউনিক অভিজ্ঞতা। এতগুলা পোলাপাইন, কোন গ্যাঞ্জাম হইচই নাই, সবাই খুব সিরিয়াস ভাবে হ্যান্ডমাইকের নির্দেশ ফলো করছে। বাস চলতে শুরু করার পর আমার পাশে শুধু একজনকে পেলাম একটু আলাদা। সারা রাস্তা আশেপাশের সবাইকে তার নানান ধরনের কৃতিত্বের কথা বলে বিরক্ত করে ছাড়ছে। পরে শুনেছি, সে অতি সম্প্রতি অতি ভাল রেজাল্ট করে বুয়েটের শিক্ষক হতে যাচ্ছে। জুনিয়র একটা মেয়ের সাথে তার “ক্যাম্পাস বিখ্যাত” প্রেম। প্রেমিকাকে নিয়ে সে পিকনিকে যেতে রাজি হয়েছে, সেই অস্বস্তি বোধহয় তাকে সারাটা রাস্তা ছাড়েনি। যাই হোক, পিকনিকের বাকি সময় ভালোই কেটেছে, ব্যাবস্থাপনা ছিলো ভাল। আমি অনেকদিন পর বেশ কিছু ছবি তুলেছি, কিছু শেয়ার করলাম। মন্তব্য করলে কৃতজ্ঞ থাকবো।


এই রাস্তা দিয়েই যেতে হবে লাউয়াছড়া।


প্রবেশ পথের পাশেই খুব সুন্দর ভাবে রাখা হয়েছে ম্যাপ।

একগাদা অতি ভাল ছাত্র/ছাত্রী।

টিলার উপর স্যুভেনি শপ। আমরা অবশ্য কোল্ড ড্রিংকস ছাড়া আর কিছু পাইনি।

বনের একপ্রান্ত দিয়ে গেছে এই রেল লাইন। এরপর থেকে শুরু হয়েছে ঘন জংগল।

বেত পাতা।

বুনো ফুল।

এরকম অনেক ছড়া বা পানির প্রবাহ দেখতে পাবেন এখানে।

বনের গহীনে।

খাসিয়া পল্লির পথে।

পাহাড় জুড়ে লেবু বাগান। ঢাকার ট্রাফিক সিগনালে যে লেবু পাওয়া যায় সেগুলো এখানে জন্মায়

কমলা বাগান।

বুনো মাকড়শা, এগুলা অনেক বড় বড় জাল বানায়। আমি ২/৩ ফুট জাল ও দেখেছি। ছবিতে অবশ্য বোঝা যাচ্ছে না।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০০৯ রাত ১১:৫৩
১৫টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×