somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রবীন্দ্রনাথ

০১ লা অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ৭:৩২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১৯৭১। ২৬ মার্চ। সকাল বেলা।
একটা ছোট্ট উঠান; কাঁঠাল গাছ, শ্যাওলা ধরা প্রাচীর। উঠানে রোদ ছিল। রোদ ছিল কাঁঠাল গাছে আর শ্যাওলা-ধরা পাঁচিলের গায়।
গতরাতে একটা যুদ্ধ আরম্ভ হয়ে গেছে । অরেকট যুদ্ধ চলছিল উঠানটায়।
যুদ্ধটা চলছিল আমার মা-বাবার মধ্যে।
রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে!
আমার মা, থলথলে, বেঁটে;আমার বাবা দীর্ঘ শীর্ণকায়। দুজনের হাতেই রবীন্দ্রনাথের গেরুয়া পরা মাটিট রঙা একটা বারো ইঞ্চি মূর্তি; ওটা নিয়ে উঠানের ওপর ধস্তাধস্তি চলছে। আমার তখন চার বছর বয়েস। আমি উঠানের ওপর ধস্তাধস্তির দৃশ্যটা দেখছি। যতটুকু বুঝতে পারিÑ আমার বাবা চাইছেন মূর্তিটা ভেঙ্গে ফেলতে, উঠানের মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে চাইছে। মা কিছুতেই দেবে না; মূর্তিটা না-ভেঙ্গে উঠানে পুঁতে ফেলতে চান মা। পরে বিপদ কেটে গেলে ধুয়ে মুছে ঘরে আবার সাজিয়ে রাখবেন।
বললাম আমার তখন বয়স চার বছর। ওই বয়েসের কথা কি কারও মনে থাকে? আসলে ৭১-এর পর থেকে মধ্যবিত্ত বাঙালির আলোচনার মূল বিষয়ই ছিল একাত্তর। আমিও বয়স্কদের আসরে বসে হাজারবার ঘটনাটা শুনেছি। কিংবা মায়ের মুখে ...
গতরাতেই পাঁচিল ডিঙিয়ে কয়েক জন লোক পুলিশ লাইন থেকে প্রাণে বেঁচে আমাদের উঠানে আশ্রয় নিয়েছে। দৃশ্যটা তারাও দেখছিল। তাদের চোখে আমি ওই বয়েসেই মৃত্যুভয় দেখেছি।
আজ ভোরে মা-বাবা ওদের খাওয়ালেন, লুঙ্গি-গামছা দিলেন, খোঁজখবর নিলেন।
এ ব্যাপারে আমার মা-বাবা একমত।
কেবল ওই বরীন্দ্রনাথ নিয়েই ...
অথচ ওই সময়ে আমাদের পরিবারে সুখশান্তি ছিল। সহসা কলহ হত না। কেবল ওই রবীন্দ্রনাথ নিয়েই ...
আমার বাবা, পরে জেনেছি,ছিলেন moderate muslim, আওয়ামী লীগের মিটিং-এ যেতেন আবার ...আর আমার মা আগাগোরা কাব্যপ্রেমিক, romantic। সেই ১৯৬১ তেই ইডেন কলেজে নাটক করতেন ...
উঠানে রোদের ভিতরে রবীন্দ্রনাথের মূর্তিটা নিয়ে ধস্তাধস্তি চলছে।
রোদ পড়েছিল কাঁঠল গাছে, প্রাচীরের ওপর। প্রাচীরের ওপাশে জমাজমি; টিনশেডের ঘর। তারপর একটা সরু গলি। যে গলি ধরে হাঁটলে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে যাওয়া যায়। রাজারবাগ পুলিশ লাইন আমাদের বাড়ির খুব কাছে। গতরাতে আর্মিরা ঢাকায় ক্র্যাক ডাউন করেছে ...যত্রতত্র অনেক লাশ ...
আমার moderate muslim বাবার ধারনা রবীন্দ্রনাথের মূর্তিটা এ সময় বিপদজনক।
আমার কাব্যপ্রেমিক romantic মা ঝুঁকিটা নিতে চান। মূর্তি ভাঙ্গার বদলে উঠানে পুঁতে ফেলতে চান।
মূর্তিটা নিয়ে শেষমেষ কী হয়েছিল আজ আর মনে নেই।
কাউকে যে জিজ্ঞেস করব তেমন কেউই বেঁচে নেই।
এখন লিখতে লিখতে আমার মনে হলো: রবীন্দ্রনাথের সেই মূর্তিটা গত ৩৬ বছর চোখে পড়েনি আমার!
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৪৩
২৭টি মন্তব্য ১৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Miles to go before I sleep

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ১৭ ই জানুয়ারি, ২০২২ রাত ১০:২৮

কবিতা আমার তেমন একটা পছন্দ না। খুব বেছে খুটে গোটা দশেক কবিতার কথা আমি বলতে পারি যা আমি টুকটাক পছন্দ করি।



ব্লগে কবিতা দেখলে কেমন যেন লাগে। আমি সাধারণত কবিতার পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

কখন, কিভাবে বুঝবেন আপনি ছোটলোক?

লিখেছেন ফারহানা শারমিন, ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২২ রাত ১২:৩৬


মোশাররফ করিমের একটা নাটকের ডায়ালগ আমার খুব মনে ধরেছে , সেটা হচ্ছে গরিব ধনী হয় কিন্তু ছোটলোক কোনদিন বড়লোক হয় না। ধরেন আপনার জন্ম এক হতদরিদ্র পরিবারে।দু এক জায়গায় ছোটলোক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্যবহারে বংশের পরিচয় আর মন্তব্যে ব্লগারের

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ১০:০৬

'১৩ সালে সামহোয়্যার ইন ব্লগের সাথে পরিচয়। তখন অবশ্য সক্রিয় ছিলাম না। '১৫ সাল থেকে '১৬ পর্যন্ত সক্রিয় ছিলাম। এরপর থেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলাম। গত বছর একেবারেই নিষ্ক্রিয়।

তো এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

রোহিঙ্গা সংকট সমাধান হবে কবে?

লিখেছেন হাবিব , ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২২ সকাল ১০:২৮



আরসা প্রধানের ভাই বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়েছে। ঠিকানা দিয়েছে চট্টগ্রামের কোন এক এলাকার। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিনামূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার দেয়া হয়েছে যাতে তারা কাঠ কেটে বন ধ্বংস না করে। অথচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

এগিয়ে চলেছে বেয়াদবির কালচার!

লিখেছেন ঋণাত্মক শূণ্য, ১৮ ই জানুয়ারি, ২০২২ দুপুর ১:৩১

একটা সময় ছিলো, যখন প্রচুর মুভি দেখতাম। মুভি দেখা প্রথম শুরু হয়েছিলো মূলত ইংরেজী শেখার নাম করে। ২০১৪ এর দিকে এসে পরিচয় ঘটে একটা টিভি সিরিজ The Big Bang Theory... ...বাকিটুকু পড়ুন

×