somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'৫২তে কি শুধু প্রমিত বাংলার লাইগা রক্ত ঝরসিলো?

০৬ ই এপ্রিল, ২০১১ রাত ৯:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

*** একুশে ফেব্রুয়ারীর আগের রাত্রে লিখসিলাম এইডা। কোন একটা কারনে পোস্ট করা হয় নাই। এই আলোচনা পুরোনো হওয়ার না। ***

'মাগো ওরা কয় আমারে নাকি তোমার ভাষায় কথা কইতে দিবো না। এইডা কি হয়? তুমিই কও মা।'

একজন আজকে বইমেলায় দাঁড়ায়া কইতাসে - "আমরা যেই এলাকারই লোক হই, আমাদের এলাকার ডায়ালেক্ট আমরা ঘরের ভিতরে বলবো আর বাইরে "শুদ্ধ" বাংলায় কথা বলবো।"

শুদ্ধ বাংলা মানে কি? প্রমিত বাংলা?

'৫২তে মায়ের ভাষার লাইগা রক্ত ঝরসে। শুধু বাংলা ভাষায় কথা কওয়ার লাইগা। চাটগা, নোয়াখালি, বরিশাল, সিলেট - এইসব এলাকার ভাষা নাকি শুদ্ধ ভাষা না।

আরে! এইসব এলাকার যে ভাষা তা কি তাগো লাইগা মাতৃভাষা না? জন্মের পর তারা কি তাগো মায়েগো মুখে এইসব ভাষা প্রথম শুনে নাই? মাতৃভাষার লাইগা যখন রক্ত ঝরসিলো তখন কি শুধু প্রমিত বাংলা ভাষার লাইগা রক্ত ঝরসিলো?

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস - এই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার বাইরে পইড়া গ্যালো নাকি আমাগো এই ভাষাগুলি?

আমার তো মনে হয় আমাগো ভাগ্য অনেক ভালো। আমাগো মানে যাগো ঢাকায় জন্ম, বড় হওয়া। ঢাকায় যে স্ট্যান্ডার্ড ডায়ালেক্ট আসে, মানে মান ভাষা, মানে ঢাকার বেশিরভাগ বাসিন্দা যেই ভাষায় কথা কয় (পুরান ঢাকায় কিছু লোক বাদ দিলে, কারন অগো নিজেগো আলাদা মানে কিনা স্বতন্ত্র ডায়ালেক্ট আসে) তা কিন্তু অনেক উন্নত।

ঢাকা বাংলাদেশের রাজধানী তাই এইখানে গোটা বাংলাদেশ থাইকা মানুষ আসে। প্রতিদিনই আশতাসে। তাগো এলাকার ভাষা তারা কাইতাসে। বরিশালের পোলা ঢাকায় আইসা নোয়াখালীর মাইয়ার লগে প্রেম করতাসে। চাটগার মাইয়ার বেস্ট ফ্রেন্ড হইতাসে নাটোরের আরেক মাইয়া। এইযে এরা এতো সময় একলগে কাটাইতাসে, তাতে তাগো একজনের মুখের বুলি আরেকজনের মুখে চইলা যাইতাসে। এইটাই কিন্তু ভাষার স্বভাব। ভাষা এমনেই বইয়া যায়। এইভাবেই একটা ভাষা আগাইয়া যায়। মানে আমি যেইটুক বুঝি আরকি।

এইজন্যই আমি যখন কই যে 'ধরে দেবেনে' - আমার কিন্তু বরিশাইল্যা হওয়া লাগে না। আমার যদিও এইরকম বলার কোন কারন নাই যেহেতু আমি ঢাকার মানুষ আর আমার বাপ-মা একজন নরসিংদির আরেকজন বিক্রমপুরের। কিন্তু আমি এ্যামনে কই কারন আমার মনে হয় এইভাবে কইলে আমি যা কইতে চাই তা সবচেয়ে ভালো বুঝান যায়।

পুরা পৃথিবীতে যদি এক বাতাস বয় আর তারে কয় 'গ্লোবালাইজেশন' তাইলে এখন ঢাকায় যেইটা হইতাসে তারে বলা উচিৎ 'বাংলাদেশাইজেশন এ্যান্ড ডি-ওয়েস্টবেঙ্গলাইজেশন'। বাংলাদেশের সব ভাষা আইসা এইখানে মিশতাসে। এই ব্যপারটা যাতে আরো ভালো মতন ঘটতে পারে সেই ব্যবস্থাই করা উচিৎ আমাগো। ওই পশ্চিম বঙ্গের ভাষা লইয়া টানাটানি আর মাথা খুড়াখুড়ি কইরা কি হইবো?

আমরা তাগো এলাকার বাংলা চ্যানেলে বিচিত্র বাংলা উচ্চারণে সিরিয়াল দেইখা নাকের পানি চোখের পানি এক করি। কিন্তু আমগো দ্যাশের কোন চ্যানেল তাগো ওইখানে দেখা যায় না।

শুদ্ধ বাংলা কওয়া লইয়া শক্তিক্ষয় করার চাইয়া এই বিষয়টা নিয়া ভাবাটা অনেক বেশি জরুরী। আমরা যে বাংলাটা আসলে অগো থাইকা অনেক ভালো জানি সেইটা অগো জানানো দরকার। অরা বাংলা ভাষাটারে লইয়া যেইরকম যা-তা করতাসে সেইটা যে ভুল, আমাগো চ্যানেলগুলা দেখলে বুঝতে পারবো।

ইংলিশ মিডিয়ামের পোলাপাইন তো বাংলা বর্ণমালার সবকয়টা অক্ষরই চিনে না। সেইটা যাতে চিনে সেই বিষয়ে শক্তিক্ষয় করা দরকার। সবাইরে শুদ্ধ বাংলা ব্যবহার করা শিখানো তো অনেক পরের বিষয়।

কয় খবরের কাগজ, টিভি রেডিওতে নাকি প্রমিত বাংলাই কইতে হইবো। আরে! গণমাধ্যম তো গণমানুষের মাধ্যম। এই মাধ্যমের ভাষা তো তাইলে গণমানুষের ভাষা হওয়া উচিৎ।

"সবাইরে প্রমিত বাংলা শিখাইতে হইবো"।

হ। ঠিকই আসে। যেইটা আমাগো কারোরই মাতৃভাষা না। তার লাইগা আমাগো দ্যাশের সব ভাষারে মাইরা ফালাও। রফিক, সালাম, জব্বর মিয়া - জব্বর একখান কাম করসো তুমরা। আবার যদি জন্ম হয় তাইলে আর এই ভুল কইরো না।
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×