somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পর পর তিনটি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ঘটনা-২

২৭ শে এপ্রিল, ২০১০ বিকাল ৪:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রথম পর্ব পড়তে চাইলে ক্লিক করুন-
চট্টগ্রাম
বিশ্ববিদ্যালয়ে পর পর তিনটি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্য ঘটনা-১


মহিউদ্দিন হত্যাকাণ্ডের পর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। এক সপ্তাহ পর খুলে দেয়া হয় ক্যাম্পাস। ৪৫ দিন পর ঘটে দ্বিতীয় হত্যাকান্ডটি। ২৮ মার্চ রাতে হারুন-অর-রশিদ কায়সারকে হত্যা করে ছাত্রলীগ। এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড আমি কখনোই ভুলতে পারবো না। স্বচক্ষে সেদিন দেখেছিলাম হায়েনাদের উল্লাস। সে স্মৃতি দুঃস্বপ্ন হয়ে এখনো আমাকে তাড়া করে।

কায়সার হত্যাকাণ্ড
শহরে কাজ শেষ করে রাত সাড়ে ৮টার শাটল ট্রেনে চড়ে বসেছি ক্যাম্পাসে যাওয়ার জন্য। আমি যে বগিতে উঠেছি সে বগিতে কোন লাইট ছিল না। বাইরে থেকে আসা আলোয় আবছাভাবে দেখা যাচ্ছিল বগির ভেতরটা। পুরো বগিতে মাত্র ২০/২৫ জন ছাত্র। ছাত্রলীগ ক্যাডার সাকিব, রাকিবসহ ৫/৬ জনের একটি গ্রুপকে দেখলাম বগির দরজায় দাঁড়িয়ে আছে। কিছুক্ষণ পর আমার বিপরীত সাইডে দুই সারি সামনে একজনের পাশে গিয়ে বসলো তারা। যার পাশে গিয়ে তারা বসেছে তাকে চিনতে পারিনি। শুনতে পাচ্ছি টুকটাক কথা বার্তা হচ্ছে তাদের মধ্যে। সাকিবের নাম ধরে ডাকলো টার্গেটকৃত লোকটি। সাথে সাথে কয়েকজনের হাতে বেরিয়ে এলো ছুরি। কিন্তু সাকিব তাদের থামিয়ে দেয়। সম্ভবত চিনে ফেলায় অথবা বন্ধু সম্পর্কিত কেউ হওয়ায় বেঁচে যায় লোকটি। তারা আবার দরজায় গিয়ে দাঁড়ায়। খুব ভয় করছিল তখন। মনে হচ্ছিল আমাকেই বুঝি মেরে ফেলবে তারা। নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছিল। আম্মার মুখটি ভেসে উঠলো চোখের সামনে। ভাবছিলাম হয়তো কখনোই আর ফিরতে পারবো না মা’র কোলে। এসব সাত-পাঁচ ভাবছি, হঠাৎ গোঙ্গানির আওয়াজ পেয়ে সচকিত হয়ে উঠলাম। দরজার দিক থেকে ভেসে আসছে কারো আর্তচিৎকার। সম্ভবত মুখ চাপা দিয়ে রাখায় চিৎকারটি জোরে শোনা যাচ্ছে না। কী ঘটছে তা দাঁড়িয়ে দেখারও সাহস পেলাম না। বসে থেকে যতটুকু বুঝলাম যে. কাউকে ট্রেনের মেঝেতে শুইয়ে দেয়া হয়েছে। উপুর্যুপুরী আঘাতে সে চিৎকার করে উঠছে। কিছুক্ষণ পর তাকে দরজা দিয়ে বাইরে ছুড়ে ফেলে দেয়া হল। আমরা সবাই আতঙ্কে পাথর হয়ে বসে আছি। কারো সাহস হলো না বাধা দেয়ার। হায়েনারা ঘোষণা দিল- এ ঘটনা কাউকে বলবি না। ক্যাম্পাসে কেউ যদি জানে তাহলে তোদের সবাইকে এ রকম জবাই করে দেবো।
এ ঘটনার পরের দিনই আমি বাড়ি চলে গেলাম। তার পরদিন পত্রিকায় দেখলাম হতভাগা ঐ ছাত্রের নাম কায়সার। মার্কেটিং দ্বিতীয় বর্ষে পড়তো সে। প্রথম বর্ষ ফাইনাল পরীক্ষায় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছিল।
৭টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন কাওসার চৌধুরী ও তার গল্পগুচ্ছ 'পুতুলনাচ' (বই রিভিউ)

লিখেছেন আকতার আর হোসাইন, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ২:১৫



লেখকের প্রথম বই--- বায়স্কোপ: যে বইয়ে কাওসার চৌধুরী এঁকেছেন জীবনের বায়স্কোপ

আর সবার মতন একজন লেখকেরও রয়েছে স্বাধীনতা। যার যে বিষয়ে ইচ্ছে সে সেই বিষয়েই লিখবে। জোড় করে কোন লেখকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

যীশুর রহস্যময় বাল্যকালঃ মিশর অবস্থান কাল বার বছর পর্যন্ত

লিখেছেন শের শায়রী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৩:৩০



যীশুর জীবনের অন্যতম রহস্যময় ঘটনা হিসাবে যা আমার কাছে মনে হয় তা হল যীশুর বাল্যকাল। ইতিহাস প্রসিদ্ধ ধর্মপ্রচারকদের মাঝে যীশুর জীবনির একটা অংশ নিয়ে আজো কোন কুল কিনারা পাওয়া যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাড়ী ভাড়া বিষয়ক সাহায্য পোস্ট - সাময়িক, হেল্প/অ্যাডভাইজ নিয়েই ফুটে যাবো মতান্তরে ডিলিটাবো

লিখেছেন বিষন্ন পথিক, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:১৭

ফেসবুক নাই, তাই এখানে পোস্টাইতে হৈল, দয়া করে দাত শক্ত করে 'এটা ফেসবুক না' বৈলেন্না, খুব জরুরী সহায়তা প্রয়োজন।

মোদ্দা কথা...
আমার মায়ের নামে ঢাকায় একটা ফ্লাট আছে (রিং রোডের দিকে), ১৬০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে...

লিখেছেন পদ্ম পুকুর, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:৪৫


জীবনানন্দ দাস লিখেছেন- সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন সন্ধ্যা আসে...। বনলতা সেন কবিতার অসাধারণ এই লাইনসহ শেষ প্যারাটা খুবই রোমান্টিক। বাংলা শিল্প-সাহিত্যের রোমান্টিসিজমে সন্ধ্যার আলাদা একটা যায়গাই রয়ে গেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাবার ঘরেও খেতে পাইনি, স্বামীর ঘরেও কিছু নেই!

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৮:৪৪



"বাবার ঘরেও খেতে পাইনি, স্বামীর ঘরেও কিছু নেই!", এই কথাটি আমাকে বলেছিলেন আমাদের গ্রামের একজন নতুন বধু; ইহা আমার মনে অনেক কষ্ট দিয়েছিলো।

আমি তখন অষ্টম শ্রেণীত, গ্রাম্য এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×