

১. লেখিকা ও শিক্ষাবিদ জাহানারা ইমামের তরুণ সন্তান রুমী ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। তাই তিনি 'শহীদ জননী' উপাধি পান। উনার মত আরো অনেক শহীদ জননীকে শ্রদ্ধা জানাই। '৯০-এর দশকে গোলাম আজম যখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিষ্ঠা পেয়ে যান তখন জাহানারা ইমাম সহ আরো অনেকে মিলে প্রতিষ্ঠা করেন, 'একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি'। সেই কমিটি গণ আদালত স্থাপন করে। সেই আদালতে গোলাম আজমের ফাঁসির রায় হয়...
২. অন্যদিকে গোলাম আজমের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব মামলাও ঠুকে দেওয়া হয়। অভিযোগ করা হয়, তিনি পাকিস্তানের নাগরিক। যাই হোক, আইনী লড়াইয়ে গোলাম আজম জিতে যান। সেই মামলার বিচারক ছিলেন পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের সুহৃদ বিচারপতি হাবিবুর রহমান। ওদিকে সরকার 'সংবিধান বিরোধী' গণ আদালত প্রতিষ্ঠার কারণে জাহানারা ইমাম সহ আরো অনেকের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দেয়। তেনারা জামিন পান। আর এ অবস্থায় 'রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা' মাথায় নিয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন...
৩. দেশের নামী ক্লাব যেমন ঢাকা ক্লাব, চট্টগ্রাম ক্লাব -এর সদস্যপদ অনেকের জন্য একটা সম্পদ। বংশ পরম্পরায় এই সদস্যপদ বিক্রি হয় চড়া দামে। কয়েক বছর আগে আমরা পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারলাম 'মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট'-ও একটা সম্পদ। এই সার্টিফিকেটও নাকি হাতবদল হয়, বিক্রি হয়। এছাড়া ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট তো আছেই। এগুলো সঠিক যাচাইয়ের ব্যবস্থা না থাকার কারণে যে যেভাবে পারছে ফায়দা নিচ্ছে। ফায়দা নিতে নিতে সেটা সচিব পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে...
৪. এখন যারা মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহালের দাবিতে আন্দোলন করছে তাদের সবার যদি সার্টিফিকেট যাচাই করা হয় তাহলে পরনের কাপড় থাকবে? বয়স সঠিক প্রমাণ করতে পারবে? ১৪ বছর(!) বয়সকে মুক্তিযোদ্ধার সর্বনিম্ন বয়স ধরেছে সরকার। তাহলে এখন তেনাদের বয়স হবে ৬১ বছর। তাহলে কয়জনের সন্তানদের এখনো সরকারী চাকুরিতে প্রবেশের সময় আছে? এদের সংখ্যা কতই বা হবে...
৫. ব্লগ, ফেসবুকে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা অনেকেই বলেছে, তারা লজ্জিত এই কোটা সিস্টেমের কারণে। কয়েকজনের লোভের কারণে, তারা মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হয়ে অপমানিত হতে চান না। নাতি-পুতির ভাগতো প্রশ্নই আসে না। তাহলে কারা আন্দোলন করছে? এরা কি আসলেই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান নাকি আওয়ামী লীগের ক্যাডার? এরা কি শেখ হাসিনার চেয়েও বড় আওয়ামী লীগার? এদের পুলিশ এখনো সরাচ্ছেনা কেন? যদি আসল মুক্তিযোদ্ধার সন্তানও হয়ে থাকে, তবুও রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধী কাজের জন্য এদেরও প্যাঁদানি দেয়া হোক, জেলে ভরা হোক...
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই অক্টোবর, ২০১৮ রাত ১:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



