গ্রামের বিচার-আচার সম্পর্কে হয়তো অনেকেই অবগত আছেন...যারা শহরে বাস করেন তারা হয়তো গ্রামের বিচার সম্পর্কে ধারনা কম...গ্রামে বিচার বা পঞ্চায়েত মানেই বিরাট আয়োজন...আর যৌন সংক্রান্ত কোন বিচার মানে তো বাতাসে একান ওকান হয়ে পুরো গ্রাম ছাপিয়ে পাশের গ্রামে গিয়ে আছড়ে পরে বাতাসের তোড়...এই সমস্ত বিচারগুলোতে তরুনদের উপস্থিতি উল্লেখ করার মতো...বিচারের শুরু থেকে শেষ অব্দি এটা টান টান উত্তেজনা কাজ করে...বিচারকরা কি রায় দেন তা শোনার জন্য অধির আগ্রহে হরিণের মতো কান খাড়া করে রাখেন সবাই...তেমনি একটি বিচারের আদি-অন্ত বলার চেষ্টা করবো...সংগত কারনেই ছদ্মনাম-ঠিকানা ব্যাবহার করবো...
মধ্যেবয়সী মহিলা আলেয়া...বয়স আনুমানিক ৪০-৪৫ বছর...বৃদ্ধের পথে পা বাড়ানো আয়নাল...বয়স আনুমানিক ৫৫-৬০ বছর...বয়স জনিত কারনে আয়নালের যৌন যোগ্যতা হারিয়ে বসে আছে...প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া লেগে থাকতো...স্বামীকে অকথ্য ভাষায় বকাবকি করতো...আকার ইঙ্গিতে অপমান করতেও ছাড়তো না...একসময় স্ত্রী তার চাহিদা পূরনে ৩৫-৩৭ বছরের পরিমল নামের ব্যাটার সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পরে...এবং অনেকটা বাধ্য হয়ে স্বামীও সেই পরকীয়ায় সহায়তা করে...স্ত্রীর পরকীয়ার সময় স্বামী দরজার বাহিরে দাড়িয়ে সিগারেট ফুকে পাহাড়া দেয়...ব্যাস সংসারে সুখ আর সুখ...স্বামীর সাথে আর কোন ঝগড়া নেই...বৃদ্ধ লোকটিও যেন প্রতিদিনের ঝগড়া থেকে হাফ ছেড়ে বাঁচলো...
বাঁধ সাধলো অন্যজায়গায়...পরিমলের স্ত্রী ছিল বরিশালের মেয়ে...এমনিতেই লোকমুখে শোনা যায় বরিশালের মেয়েরা নাকি স্বামীদের অত্যাধিক ভালবাসে কিন্ত স্বামী যদি অন্য কোন মেয়ের দিকে ঝুঁকে পড়ে তবে ঐ স্বামীর খবর আছে...দুনিয়াতেই ঐ স্বামী জাহান্নামের আযাব দেখা শুরু করে দিবে...প্রায়ই স্বামী গভীর রাত করে বাড়ি ফিরে বিষয়টা ভাবিয়ে তুলছে পরিমলের স্ত্রীকে...ঘুনশুটি ঘুনশুটি হতে হতে প্রায় রাতেই স্বামীর সাথে ঝগড়া লেগে যাচ্ছে...দাম্পত্য কলহ মারামারি পযর্ন্ত গড়ায়...স্বামী-স্ত্রীর হাতাহাতির মারামারিতে পুরুষের শক্তির জয় হয়...পরিমল তার স্ত্রীকে বেধর পিটনি দিয়ে প্রায়ই বেহুশ করে ফেলে...
এদিকে আলেয়াদের বাড়িতে পরিমলের ঘন ঘন যাতায়াত লোকচোক্ষে ধরা পড়ে যায়...বিশেষ করে রাতে আড্ডা মারা যুবকদের একাংশ তাকে অনুসরন করতে থাকে...যেহেতু আলেয়ার বাড়িতে তার স্বামী সহ আছেন সেখানে খারাপ কিছু চিন্তা আসেনা...কিন্তু প্রায়ই লক্ষ্য করেন একটা সময় পরিমলকে ঘরের ভেতর রেখে আয়নাল বারান্দায় দাড়িয়ে সিগারেট ফুকে...ব্যাপারটা তাদের কাছে রহস্যময় মনে হয়...দলের একজন বলে উঠে চল রহস্য উদঘাটনে যাই...যে কথা সেই কাজ...আয়নালের কাছে সিগারেটের আগুন আনার উছিলায় যুবকেরা উপস্থিত...বৃদ্ধা এলাকার যুবকদের দেখেই হতচকিত হয়ে যায়...তার চেহারা ফেকাশে হয়ে যায়...তার এই অবস্থা দেখে যুবকদের সন্দেহ আরো ঘনিভূত হয়...সিগারেট ধরাতে ধরাতে বলে আঙ্কেল পানি খাবো...বৃদ্ধার ইজ্জত গেল ভয়ে কপালে ঘাম জমে গেছে...বিনয়ের সাথে বলতে চেষ্টা করলো বাবারা এখন পানি দেওয়া যাবেনা...কিন্তু যুবকরা একথা শুনবে কেন...আর বাহির থেকে দরজা বন্ধ দেখে যুবকদের সন্দেহ আরো বেরে যায়...বৃদ্ধকে ঠেলে সরিয়ে দরজা খুলতেই চোখ বন্ধ করা ছাড়া কোন উপায় ছিলনা যুবকদের...
পরের দিন গরম গরম বিচারের আয়োজন...উৎসুক জনতার ভীর...অপরাধী দুইজনকে আনতে লোক পাঠানো হয়েছে...আয়নাল মাথা নিচু করে বসে আছে...চোখ বেয়ে টপ টপ করে পানি পড়ছে...আয়নালকে প্রশ্ন করলে হাওমাও করে কেঁদে উঠে বৃ্দ্ধ লোকটি...নিজের অপারগতার কথা বলেই কথা জড়িয়ে যায়...অপমানে যেন মৃত্যু ছাড়া তার কোন উপায় নেই এমন অবস্থা...পরিমল লাঠির বাড়ির আগেই সব স্বীকার করে ফেলেছে...বাঁধ সাধলো অন্য যায়গায়...আলেয়া বিচারে আসতে চাচ্ছে না...দরজা বন্ধ করে বসে আছে...একপর্যায়ে ফাঁস নেওয়ার চেষ্টা করলে বাহির থেকে দরজা ভেঙে তাকে উদ্ধার করে...কিন্তু বিচারের আসরে খবর আসে আলেয়া ফাঁস নিয়ে মারা গেছে...তৎক্ষনাত এই খবর শুনে পরকীয়া প্রেমিক আয়নার পাশে থাকা ইট দিয়ে নিজের মাথায় সজোড়ে আঘাত করে...সাথে সাথে মাথা ফেটে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেড়িয়ে আসে ও অজ্ঞান হয়ে যায়...তড়িঘড়ি করে তাকে হাসপাতাল পাঠানো হয়...এদিকে খবর ছড়িয়ে পড়ে আয়নাল রক্তক্ষরনে মারা গেছে...পুরো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে পুরো গ্রামে...পুলিশ পর্যন্ত খবর পৌছে গেছে ইতিমধ্যে...বিচারের কার্যক্রম পরবর্তী সপ্তাহে পিছানো হলো...
পুলিশের উপস্থিতিতে ঐ দিন অপরাধী দুইজনকে উপস্থিত করে বিচারের রায় দেওয়া হয়...পরিমলকে জুতা দিয়ে উত্তম-মধ্যম দিয়া হয় এবং সতর্ক করে দেয়া হয় এহেন ঘৃণ্য কাজ থেকে বিরত থাকতে...পরিমলের স্ত্রী শুধুমাত্র গ্রামের মুরব্বীদের অনুরোধে এবং তার ছোট ছেলেটার কথা বিবেচনা করে তালাক অবস্থান থেকে ফিরে আসে...ঐদিকে আলেয়া-আয়নালকে সতর্ক করে দেয়া হয়...বিচারের রায়ে আলেয়াকে জুতা-পেটা ও আয়নাল বৃদ্ধ বলে তাকে কান ধরে উঠবস করিয়ে শাস্তি কার্যকর করে..
কিন্তু এর পর থেকে এই পরকীয়ায় দুইটি পিরবারে নেমে আসে রাজ্যর অন্ধকার...কিশোর ছেলেমেয়েরা এখন নিজের পিতা-মাতাকে ঘৃণা করছে...আয়নাল মানসিক অসুস্থতার সাথে সাথে শারিরিক ভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে...কেমন যেন নির্জীব হয়ে গেছে সবকিছু...
পরামর্শ:
১. যারা পরকীয়ায় আসক্ত একবার নিজের সন্তানের মুখের দিকে তাকান দেখেন তাদের মুখের দিকে...সে আপনার কাছ থেকেই শৃষ্টাচার শিখতে চায়...চরিত্র গঠন করতে চায় আপনার মতোই...তাই নিজেকে নিজে প্রশ্ন করুন...আমি কি আমার সন্তানের সুখের জন্য হলেও এমন পঁচা কাজ থেকে নিজে বিরত রাখবোনা?
২. ভাবুন একবার পরকীয়া ধরা খাবার পর সমাজে আপনার ইজ্জতের কি অবস্থা হবে...মাথা নিচু করে চলতে হবে আপনাকে...
৩. ভাবুন একবার এই ঘৃণ্য পরকীয়া দুইটি পরিবারকে চিরদিনের তরে ধ্বংস করে দিচ্ছে...
৪. আপনার সন্তান, পিতা-মাতা, ভাই, বন্ধু সবাই ছি ছি করছে...
সবশেষে বলবো ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলুন...নিজে পরকীয়া থেকে মুক্ত রাখুন...পবিত্র, সুন্দর , স্বচ্ছ জীবন-যাপন করুন...
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ দুপুর ২:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


