somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাস্তায় নামছে সস্তায় কেনা ১০০ বাস: সার্ভিস নিয়ে সংশয়

১১ ই মে, ২০১০ রাত ১২:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



কাল রাস্তায় নামছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশনের (বিআরটিসির) ১০০ নতুন সিএনজি বাস। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১০টায় রাজধানীর পুরাতন এয়ারপোর্টের রানওয়েতে এ বাস উদ্বোধন করবেন। তবে ঢাকার রাস্তায় চীন থেকে আমদানি করা এসব বাসের কার্যকরিতা নিয়ে উদ্বোধনের আগেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞদের মতে, যানজটে পূর্ণ ঢাকা শহরে সস্তায় কেনা এসব বাসের আয়ু সর্বোচ্চ ছয়মাস। অপরদিকে বিআরটিসির দাবি, এসব বাস ১০ বছর চালানো সম্ভব। তাছাড়া এসব বাসের প্রস্তুতকারী কোম্পানি ডংফেং ইয়াংজি মোটরস (উহান) পাঁচ বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা দেবে।

জানা গেছে, এসব বাস আমদানির অনুমোদন দিয়ে টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটিও বিব্রত। বাস ব্যাবসায়ীরাও চীনা বাস রাস্তায় নামানোর বিপক্ষে। ভরসা পাচ্ছেন না খোদ বিআরটিসিরই চালক-প্রশিক্ষকরাও। কেবল এসব বাস আমদানির উদ্যোক্তারা সাফাই গাইছেন তাদের সিদ্ধান্তের পক্ষে।

টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটির সদস্য ও বুয়েটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন বলেন, বাধ্য হয়েই চীনা গাড়ি আমদানির অনুমতি দেয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয়নীতির সামনে এছাড়া আর কোন পথ ছিলো না। কারণ, আমরা যে সব শর্ত দিয়েছি তার প্রতিটিই পূরণ করেছে ডংফেং ইয়াংজি মোটরস। তারপরও আমরা চেয়েছিলাম ভালো মানের গাড়ি আমদানি করতে। কিন্তু চীনা কূটকৌশল ও দাতা গোষ্ঠীর আগ্রহে তা হয়ে উঠেনি। আমরা বাধ্য হয়েছি চীনা বাস আনতে।

বাস মালিক ও আমদানিকারকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, চীনের তৈরি বাস কখনোই ঢাকার যানজটপূর্ণ রাস্তার উপযুক্ত নয়। কারণ চীনা বাসের বেশিরভাগই টেকসই হয় না।

বন্ধ হয়ে যাওয়া বাস সার্ভিস রাসিক পরিবহনের মালিক শামসুল হক সামদানী জানান, তিনি ২০০৩ সালে রাসিক পরিবহন চালু করতে চীন থেকে ৩০টি বাস আমদানি করেন। প্রায় ৩০ লাখ টাকা মূল্যমানের এসব বাস ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ছয় মাস চলতে না চলতেই ব্যাবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। প্লাস্টিক বডি হওয়ায় সামান্য ধাক্কাতেই এসব বাসের বড় ধরনের ক্ষতি হয়।

বিআরটিসির বেশ কয়েকজন চালক ও প্রশিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকার যানজটপূর্ণ রাস্তায় প্লাস্টিক বডির বাস নিরাপদ নয়। অন্য গাড়ির সাথে যেকোনো সময় ধাক্কা লাগতে পারে।

এ ধরনের অভিযোগের জবাবে বিআরটিসির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মেজর কাজী শফিকউদ্দীন শীর্ষ নিউজ ডটকমকে বলেন, গাড়িগুলো আধুনিক ফাইবারে তৈরি, প্লাস্টিকে নয়। আমাদের দেশের গরম আবহাওয়ায় সিএনজি চালিত বাসগুলো অল্পতেই গরম হয়ে যায়। সেই তাপ সহ্য করার জন্যই এ ফাইবার ব্যবহার করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, বাসগুলোর ক্ষতি হলেও তেমন কোন সমস্যা নেই, কারণ এক বছরের ওয়ারেন্টি রয়েছে। এর সাথে রয়েছে ৫ বছরের বিক্রয়োত্তর সেবা। বাস কেনার পর বিশেষজ্ঞ দিয়ে বাসের মান পরীক্ষা করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, বিআরটিসির একটি প্রতিনিধি দল বাসগুলো পর্যবেক্ষণ করতে চারবার চীন গেছেন। বিআরটিসির পরিচালক কর্নেল আকতার কামাল সেই টিমে ছিলেন।

তবে বিআরটিসির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, প্রতিনিধি দল চারবার চীন গেলেও দলে কোনো অটোমোবাইল বিশেষজ্ঞ ছিলেন না। একজন প্রকৌশলী থাকলেও তিনি অটোমোইল বিশেষজ্ঞ নন।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে এসব বাস কেনার প্রক্রিয়া শুরু করে বিআরটিসি। নরওয়ের দাতা সংস্থা নরডিক ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (এনডিএফ) বাস কেনার জন্য বিআরটিসিকে ৯২ কোটি টাকা ঋণ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বিআরটিসি ২০০৯ সালের জুন মাসে বাস ক্রয়ের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। ৪২ প্রতিষ্ঠান দরপত্র ক্রয় করলেও মাত্র ১০ প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়।

যোগাযোগ মন্ত্রনালয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও এনডিএফ এর প্রতিনিধির সমন্বয়ে গঠিত টেন্ডার মূল্যায়ন কমিটি ৬টি প্রতিষ্ঠানের দরপত্র গ্রহণ করে। এর মধ্যে ছিল জাপানের বিশ্বখ্যাত একটি গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানটি দরপত্রে প্রতিটি বাসের জন্য দর দেয় প্রায় ৬০ লাখ টাকা করে। তবে সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠানের ৫টিই ছিল চীনা প্রতিষ্ঠান। এদের মধ্যে সর্বনিম্ন দর দেয় চীনের উহান সিটির ডংফেং ইয়াংজি মোটরস। এ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিটি বাসের দর দেয় মাত্র ২৯ লাখ টাকা। সরকারি ক্রয়নীতি অনুযায়ী, বিআরটিসি সর্বনিম্ন দরদাতা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ডংফেং ইয়াংজি মোটরসকে কার্যাদেশ দেয়।

সুত্র: শীর্ষ নিউজ ডটকম
৯টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×