somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এন ইডিয়ট ইন লাভ!!! (পাঁচ)

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
(এই সিরিজের পোস্টগুলা শুধু বিনুদনের জন্য! জিন্দা কিম্বা মুর্দা কারুর সাথে কাহিনী মিল্লা গেলে কেউ দায়ী নহে!!!)




(আগের পুস্টের পর............। )
এইবারের কাহিনী হইল, ইডিয়টের দি ওয়ান এন্ড অনলি পিরিতের কাহিনী! কাহিনীটা শুরু করার আগে যথারীতি কিঞ্চিৎ ব্যাকগ্রাউন্ডের দরকার আছে, একটা ওয়ার্ম আপ কাহিনীও আছে, নাইলে আমার টারগেটেড অডিয়েন্সের ঠিক জিনিসটা ফলো করতে কষ্ট হপে!!

দিনাজপুরে থাকাকালীন সময়টাতে একটা ইন্টারেস্টিং ট্রেন্ড ছিল আমাদের মধ্যে! আসলে আমরা মনে হয় একা ছিলাম না, আমার মনে হয় দেশের সবাই সেই ট্রেন্ডে আক্রান্ত ছিল (এখনো সেইটা চালু আছে কিনা জানি না)! ট্রেন্ডটা ছিল, কামে আকামে বিভিন্ন আননোন নাম্বারে কল দিয়া মাইয়া পাইনরে খুঁজা আর পাইলে তাঁরে বিরক্ত করা! মানে এইটা একটা মহামারী আকার ধারণ করছিল আরকি! এই আকাম করতে যাইয়া কত্ত লোকের যে ঝাড়ি খাইছি! কিন্তু সেই ঝাড়ি খাওয়ার মধ্যেও এক ধরনের পৈশাচিক আনন্দ ছিল! যদিও এখন কেউ আমারে দিয়া আর ওই কাম করাইতে পারবে না।

তখনকার আমলে জিপির অফার ছিল, রাত বারটা থেকে সকাল ছয়টা জিপি টু জিপি মাত্র পঁচিশ পয়সা/ফ্রি! ঘুমের মাথা খাইয়া দল বাইন্ধা অপেক্ষা করতাম কখন রাত বারটা বাজবে। একজন কথা বলত আর পাঁচজন চারপাশে গোল হয়ে শুনত! যে কথা বলত তাঁর ভাবখানাই ছিল আলাদা! তাহার মুখের ভাষার যে কি ছিরি ছিল না! আর নতুন নাম্বার যোগাড় করার কাহিনী লিখতে গেলে তো মহাভারত লেখা লাগবে! যার মুপাইল আলা বান্ধবী ছিল সে তো তেলের উপ্রে ভাসত! সবাই অরে নাম্বারটা নেওয়ার জন্য সকাল বিকাল নাস্তা খাওয়াইত! নাম্বারটা দিলেই অবশ্য অর আর কুনো ভেল্যু থাকত না!

বান্ধবীগুলার তো আর কথাই নাই! অগোরে আমরা তেল দিতাম ওদের রুমমেট দের মহামূল্যবান নাম্বারটা হস্তগত করার জন্য! উহাদের ভাবও কম ছিল না। কইত, অয় পিরিত করে, পিরিত করপে না, মুপাইল নাই, ব্লা ব্লা ..................... ব্লা ব্লা!

যাইহোক, একদিন আমার নাঙ্গা কালের এক বান্ধবীরে পটাই একটা মাইয়ার নাম্বার নিয়া নিলাম! মাইয়ার বাসা নাকি আমাদের এলাকায়, আমাদের সাথেই নাকি পড়ে! আমারে আর কেঠা পায়! কিন্তু এইখানে একটা ব্যাপার ছিল, সেইটা হইল মাইয়া আমারে ফিজিক্যালি চিনত কিন্তু আমি ওরে চিনতাম না। মাইয়ার একখান নায়িকার মতন (ময়ূরীর লাহান না কিন্তুক!!) চেহারা চিন্তা করতে থাকলাম আর আমার দিলরে ফিলিপ খাওয়াইতে লাগলাম! অবশ্য এর মধ্যে প্রথম আলোতে একটা ফোন দিয়ে ডিস্টার্ব করা নিয়া ফিকশন গল্প পইড়া আননোন নাম্বারে কল দিয়া মাইয়াগোরে জ্বালানো ছাইড়া দিছিলাম!

যাইহোক, একদিন বুকে বল বেধে, সাহস সঞ্চয় করে এই মাইয়ারে কলটা দিয়াই ফেলাইলাম! মাইয়া তো বহুত রিস্পন্সিভ! মুখে খই ফুটে! থামতে চায়না! আমার চাইয়ে ওরই আগ্রহ বেশি! কয়েকদিন পরে একটু পর পর খালি মিস্কল দিত আর আমি আমার বাপের টাকার বারটা বাজাইতেছিলাম!

এই মাইয়ার লগে “বন্ধু” হইয়া গেছিলাম! তবে ভুলেও পিরিতের কথা মুখে আনতাম না! আমার বাপে যদি জানত, যে আমি পিরিত করতেছি তাইলে আমার হাড্ডি থেইকা মাংস আলাদা কইরা লাইত! একদিন দুপরে খাওয়া দাওয়ার পর অর লগে কি নিয়া যেন তাং ফাং আলাপ করতে ছিলাম! আলাপ করার ফাঁকে কি যেন চাইছিলাম অর কাছে, ঠিক মনে নাই! আমি ভালা ছাওয়াল, আমার মনে কুনো খারাব চিন্তা আছিল না এইটা কসম কাইট্টা কইতে পারি! মাইয়া কয় দিমু? আমি কইলাম দেও! এরপরে আমি মুপাইলের ওইপাশ থেইকা চপাশ কইরা একটা শব্দ শুনলাম! প্রথমে আমি ঠিক বুঝতে পারি নাই কাহিনিডা কি! প্রায় তিরিশ সেকেন্ড পর যখন কাহিনিডা বুঝলাম, শোয়া থেইকা লাফাই উইঠা পরছিলাম! ওই রাতে আমার ঘুম ভাল হয় নাই, খালি ভাইঙ্গা ভাইঙ্গা যাইতেছিল!

পরদিন সকালে উইঠা চিন্তা করতেছিলাম, ক্যামনে পারল এই কামটা করতে? মেঘ না চাইতেই জল ক্যামনে হয়! কাহিনীতে লিচ্চয় গড়বড় আছে! ডালমে নির্ঘাত তেলাপোকা হ্যাঁয়! এরপর আমার সোর্স গুলারে কল দিলাম! আর যেই ইনফো পাইলাম, তাঁতে আমার মুখমণ্ডল কালা থেকে কালাতর হইতে হইতে আদর্শ কৃষ্ণবস্তু হইয়া গেল!

(চলপে)
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বলুন - "হ্যালো আল্লাহ্‌, আমি এখনো বেঁচে আছি!"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আপনার কাছে মনে হচ্ছে, আল্লাহ্‌ আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
তিনি আপনার দোয়া কবুল করছেন না।
আপনার কাছের মানুষকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন।
আপনার কোন চাকরী নাই। রিজিক ছোট হয়ে এসেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

×