somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এন ইডিয়ট ইন লাভ!!! (সাত)

২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ৭:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
(এই সিরিজের পোস্টগুলা শুধু বিনুদনের জন্য! জিন্দা কিম্বা মুর্দা কারুর সাথে কাহিনী মিল্লা গেলে কেউ দায়ী নহে!!!)



(আগের পুষ্টের পর.........।)
আমার ফ্রেন্ডের কেরামতিতে কয়েকদিনের মধ্যে ইডিয়টের অফিসিয়াল পিরিত হইয়া গেল! সম্বোধন, আপনি থেকে তুমিতে নাইমা আসল! সময় নাই অসময় নাই খালি মুপাইলে পিরিতের আলাপ! এত্ত সময় পিরিতের কি পিরিতের আলাপ করতাম এইগুলাই এখন মাথায় ঢুকে না আমার! তবে আলাপগুলা ছিল এরকম,

- কি কর?
- কিচ্ছু না? কিচ্ছু না মানে কি?
- কিচ্ছু না মানে, কিছু না! তুমার লগে কতা কইতেছি!
- আমার লগে কথা কওয়া কি কাম না?
- নাহ!
- ঠি আছে ঠিক আছে! ভাত খাইছ?
- খাইছি?
- কি দিয়া খাইছ?
- ব্লা ব্লা ব্লা ব্লা......দিয়া খাইছি! জান, আজকে না আম্মা শুটকির তরকারিতে জিরা মসলা দিতে ভুলে গেছিল!
- তাই নাকি? ক্যামনে করল এত্তবড় ভুলটা?
- কে জানি? আম্মা মনে হয় আমার ভাবির সাথে ঝগড়া করতেছিল রান্না করার সময়!
- ভাবি!!! তুমার আম্মা রান্না করে ক্যান! তুমার ভাবি রান্না করেনা?
- নাহ! লাট সাহেবের বেটি একটা! খারাপ-আত্মা ডাইনি পুরা! খালি সোনো-পাউডার নিয়া বইসা থাকে! আরেকটা কথা শুনবা?
- কি কও!
- আইজকে ওই ছেলেটা আবার ফোনদিছিল!
- কুন ছেলে? অ্যাঁ?
- ওই ছেলেটা! যেইটা আর্মিতে নাকি চাকরি করে!
- তুমারে না কইছি, ওই পুলার সাথে কথা বলবা না! ফুন দিলে ধরবা না! পছন্দ হইছে ওই ছেলেরে না? যাও অর লগে পিরিত কর!
- আরে নাহ! রাগ কর ক্যান।বেশিক্ষণ কি বলছি নাকি। মাত্র তিন মিনিট কইছি!!! আর তুমারে কমু না কেউ ফুন দিলে। তুমিখালি খালি রাগ কর! তুমি তো আমারে চিন। চিন না? আমারে অবিশ্বাস করতে পারলা! ভ্যা.........! ভ্যা.........।
- আরে নাহ! কান্দ ক্যান? আমি তো এমনে কইছি! আর আমারে বলবা না ক্যান! বলবা! আমারে না বললে কারে বলবা! আমি না তুমারে পিরিত করি!!!!
- অ্যাঁই!!!
- কি হইছে?
- একবার বল না!
- কি বলবো?
- বলনা? ঐযে সেই এক মাস আগে কইছিলা!
- নাহ কি ঝামেলা!
- এখন না না কইলে কিন্তু আগামী তিন দিন কথা বলা বন্ধ! ওই আর্মি পুলারেও মিস্ক্ল দিমু!
- আচ্ছা আচ্ছা! আগে তুমি কইবা! আর সাবধান কইরা দিতাছি ওই আর্মি না কি বালছাল পুলার নাম আমার সামনে কক্ষনো নিবা না!
- ব্লাব্লা ব্লাব্লা ব্লাব্লা। এইবার তুমি!
- মি ব্লাব্লা ব্লাব্লা ব্লাব্লা ঠু।

(ফুনের ব্যালেন্স শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই খাজুড়ি/বাঁকা-ত্যাড়া আলাপ চলতে থাকবে)

এইভাবে কথা বলতে বলতে বহুত কিছু জানছিলাম মাইয়ার সম্পর্কে! মাইয়ার বাপ নাকি থানার দারোগা, মা হইল ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার! আর কিছু ভয়ে জিজ্ঞাসা করি নাই! আমার বাপে হইল, হাইস্কুলের মাস্টার। ক্যামনে হয়? থানার পুলিশ আর মাস্টার!!! আরও হাজারো রকমের গল্প শুনাইয়া আমার কান পচাইয়া ফালাইছিল! আসলে, এই ভুং ভাং গল্পগুলা শুনতে অবশ্য ভালোইলাগত ওইসময়!

মাইয়াটারে আমার কাছে খ্রাপ মনে হয় নাই! তবে ওরসাথে আমি যেই পরিমাণ কথা কচ্ছিলাম আর ও যেইভাবে বক বক করেচ্ছিল তাঁতে একটা বিষয় মুটামুটি ক্লিয়ার ছিল! কথা বলার অ্যাডভান্সড ট্রেনিং তাঁর বেশ আগেই নেওয়া ছিল!

প্রায় মাস তিনেক এই পিরিতের আলাপ সুপারসনিক গতিতে আগাইতেছিল! আর আমারও এডমিশন টেস্ট গুলাও সামনে চলে আসছিল! পড়াশুনা বাদ দিয়া ফুন লইয়া ব্যাস্ত থাকলে যা হয় আরকি! মেডিকেলের টেস্ট দিয়া মুটামুটি ডাব্বা মারছি! মানে চান্স হয় নাই আরকি! কনফিডেন্স লেভেল গ্রাউন্ড লেভেলের কাছে নাইমা পড়ছিল মেডিকেলে এই আকাম কইরা! এই ব্যারথতার কারণ অনুসন্ধান করতে যাইয়া দেখলাম ব্লেইম করার মত একটাই কারণ! পিরিত করা! তাও আমার আমার ফ্রেন্ডের ফান্দ মুতাবেক!!! ক্যামনে হইল এইটা! এইটা থেকে মুক্তি খুব দরকার! কিন্তু কে এই ইডিয়টকে পিরিতের চোরাকাদা থেকে উদ্ধার করবে?

(চলপে.........।)
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×