অদ্ভুত দেশ আমাদের। আমরা শুধু ১৬ ডিসেম্বর সমাগত দেখে ফেসবুক প্রোফাইল পিকচারে জাতীয় পতাকা দেই। ২১ ফেব্রুয়ারি আসার কয়েকদিন আগে থেকে ভং ধরতে গায়ে দিই অ আ ক খ লেখা জামা, পাঞ্জাবী, ফতুয়া কিংবা টি-শার্ট। তারপর ফেসবুকে মারি বাঘ। হটাত্ কেউ যদি ক্রিকেট খেলা নিয়েও বিশেষ দেশের প্রশংসা করে বসে ব্যস শুরু হয়ে যাবে ঘেউ ঘেউ। আজ সকাল থেকেই বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল এবং অনলাইন পত্রিকা একটি সংবাদ বার বার দেখিয়ে আশংকার জন্ম দিয়েছে মনে, রামপালের প্রেতাত্মা অন্যভাবে ফিরে এলো নাকি সুন্দরবন গ্রাস করতে। নাহলে এমনটি কেনো ? খবরে প্রকাশ, গতকাল মঙ্গলবার ভোররাতে আরেকটি কার্গো জাহাজের ধাক্কায় তেলবাহী জাহাজ ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ জাহাজটি শ্যালা নদীতে ডুবে যায়। জাহাজটিতে তিন লাখ ৫৭ হাজার ৬৬৪ লিটার জ্বালানি তেল ছিল। বিভিন্ন অনলাইন দৈনিক এবং টেলিভিশনের সংবাদ থেকে জানা যায়..আজ সকাল আটটায় রওয়ানা হয়ে উদ্ধারকারী জাহাজ নির্ভীক সন্ধ্যা নাগাদ পৌঁছানোর কথা থাকলেও এখন অবধি পারেনি। আর প্রত্যয় আগামী কালকের আগে পৌঁছতেই পারবে না।
একটি দৈনিক অনলাইন মাধ্যমে প্রকাশ করেছে, যাঁরা নদীর পানি খেতেন, দৈনন্দিন কাজে ব্যবহার করতেন, তাঁদের জুটেছে এক নতুন সমস্যা। তেলের ঘন কালো আস্তরণের কারণে শ্যালা নদীর পানি ব্যবহারের কোনো উপায় নেই। এতে ক্রমশই বাড়ছে ওই এলাকার মানুষের উৎকন্ঠা। এমনই একজন জয়মণি এলাকার সোলেমান শানা। হাঁস পালন করে জীবিকা নির্বাহ করা সোলেমানের দাবি, গতকাল তেল মিশ্রিত পানি খেয়ে তাঁর খামারের পাঁচটি হাঁস মারা পড়েছে। খাল, নালা, নদী সব জায়গায়ই তেলের বিস্তার। কোথায় চরাবেন হাঁস এ প্রশ্ন তাঁর। আর আমার প্রশ্ন এমন আবেগী জাইত নিয়া আমরা কি করবো যাদের আবেগ কাজে নাই, শুধূ ফেসবুকের প্যানপ্যানানিতে সমৃদ্ধ। শুধূ এটুকু বলে রাখছি দুইদিন পর জাতীয় পতাকার প্রোপিক লাগাইয়া চেতনা উদ্ধার করতে যারা ১৬ ডিসেম্বরের নাচানাচিতে যোগ দিবেন। তাদের কৈষা লাত্থি দিয়া কমু সুন্দরবন অঘটনে তোরা কোথায় ছিলি? তখন কেনো চেগাইয়া ওঠে নাই তোগো চেতনা ??

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


