somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

আশিক সরকার শুভ (আবীর)
আমি আশিক। প্রচন্ড স্বপ্নবাজ একজন মানুষ। একাধারে অনেক কিছু হবার ইচ্ছে।খুব আত্মকেন্দ্রিক একজন । অনেক কথা কারো সাথে তাই বলা হয়ে ওঠেনা। তাই এখানে আসা। যা কিছু মনে আসে, তার মধ্য থেকেই সবার সাথে শেয়ার করা.. এইতো.. আর কিছু বলার নেই...

ভাবনা-১০

২০ শে আগস্ট, ২০১৮ রাত ১০:৩৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রমজান নামক পবিত্র মাসটি বছরের একটি সময়ে অনেকটা হঠাৎ করে চলে আসে। হঠাৎ করে একটি সময়ে শেষও হয়ে যায়। রমজানের ঈদ চলে যেতে না যেতেই একটি সময়ে ঢাকার মত পৃথিবীর সবচেয়ে বসবাস অযোগ্য কাঠখোট্টা শহরটিতে গ্রাম গঞ্জ থেকে গবাদি পশুগুলো ঢুকতে শুরু করে। আমরা তখন বুঝতে শুরু করি, আরেকটি ঈদের ঘ্রান বাতাসে ছড়িয়েছে.... ঈদ-উল-আযহা বা কুরবানীর ঈদ...

আমদের জীবনে অনেক সুসংবাদের আগমন ঘটে। কখনো কখনো অপ্রত্যাশিত হলেও দুঃসংবাদগুলোও সে পথ চিনে যায়। ফলে সেসকল দুঃসংবাদ কিছুটা হলেও প্রতিদিনের স্বাভাবিকতা থেকে আমাদের ছিটকে দেয়।

আমার প্রায় সময়ে মনে হয়, সুসংবাদ এবং দুঃসংবাদ মূলত আলাদাভাবে আসে না। প্রকৃতি প্রায় প্রতিটি সময়েই একইসঙ্গে একটি সুসংবাদ ও দুঃসংবাদ দিয়ে থাকে। আমরা যেকোন একটি বেছে নেই। অন্যটিকে অবচেতনমনেই নির্বাসিত করে দেই.. ।

আজকের দিনটির মত বেঁচে যাওয়াটি আমাদের জন্যে একটি বড় সুসংবাদ। আমাদের প্রতিটি দিনই তেমন একটি সুসংবাদ দিয়েই শুরু হয়। সে সুসংবাদকে মেনেই নিয়েই প্রতিটা দিন আমরা ঘর থেকে বেরিয়ে প্রবল রোদ মাথায় নিয়ে কর্মস্থলে যাই। দিনশেষে বাড়ি ফেরার সময় কোন এক এফএনএফ নম্বরে যুক্ত হয়ে ৫ মিনিটে সারাদিনের রোদবৃষ্টির ক্লান্তি ভুলতে চাই।

এই বেঁচে যাওয়াটা একদিক থেকে যেমন সুসংবাদ, তেমনি দিনের পর দিন বেঁচে যাওয়ায় আমাদের এমন কিছু বাস্তবতা দেখার সুযোগ তৈরী হয়, যা দেখে পুরো মহাবিশ্বে পাওয়া পৃথিবী নামক সবচাইতে সুন্দর গ্রহটির প্রতিও ঘৃণা জন্মে যায়...

পরিবারের কেউ চলে যাওয়ায় হয়তো সে পরিবারে একজনের খাবার আজীবনের জন্যে বেঁচে যায়। যৌক্তিক দৃষ্টিকোন থেকে সেটি হয়তো এক প্রকার সুসংবাদ। কিন্তু যে মানুষটা চলে যায় , সে মানুষটির শূণ্যস্থানটিরও অনেকগুলো ফাঁকা ছিদ্র থেকে যায়। প্রতিবার রাতে খেতে বসায় একজনের প্লেটে ভাত বাড়তে না হলেও "কেউ একজন আর ভাতের প্লেট নিয়ে বসছে না" এই ভাবনাটি পরিবারের অন্য সদস্যদের পোড়ায়। ছোটবোনটা অনেকদিন সে যন্ত্রণা থেকে ভাত ভালভাবে না খেয়েই আগে ঘুমিয়ে যায়। পরিবারের কর্তাটি এক লোকমা ভাত মুখে দিয়ে ঝিম ধরে বসে থেকে থেকে প্লেটের ভাতগুলো গলা দিয়ে কোনরকমে নামিয়ে দেয়। ছোটভাইটার উপড় এসবের প্রভাব খুব একটা প্রভাব না পড়লেও যখন দেখা যায় কোন ঈদে কেউ আর পাঞ্জাবী কেনার টাকা নিয়ে বাবার সাথে ঝগড়া করছে না, তখন সেও বুঝতে শুরু করে... কিছু একটা নেই এই পরিবারে... ।

কোন এক বড় অপরাধে, কিংবা অন্য কারো বড় অপরাধের দায় নিয়ে বছরের পর বছর যে ছেলেটা জেল খাটছে, তার প্রতিবছরের ঈদ কিভাবে কাটে আমি জানি না। কোন বাবা যখন এমন কোন ঈদে ছেলের সাথে দেখা করতে যখন জেলখানায় যায়, হয়তো সে সময়ে কে কতটা কান্না চেপে একজন অন্যজনকে মুখে প্রশস্ত এক হাসি নিয়ে ঈদ মোবারক জানাবে , তেমন একটি নিরব প্রতিযোগীতা চলে।

আমি জানিনা, সমাজের চোখে বিনা দলিলে প্রমাণিত হওয়া এরকম কোন দাগী আসামীর ছোট ভাইদের ঈদ প্রতি বছর কিভাবে কাটে। আমি জানিনা, বড় ভাই দাগী হবার অপরাধে ঈদের মত উৎসবেও অপমানিত হবার ভয়ে কোন বন্ধুর বাড়িতে পর্যন্ত যাওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে কিনা। কিংবা সমাজের চোখে বিনা দলিলে প্রমাণিত কোন এক কুলাঙ্গার জন্ম দেয়ার অপরাধে কোন মা ঈদের সেমাই রান্নার সময়ে রান্নাঘরের ময়লা জানালার ভেতর দিয়ে বাহিরে তাকিয়ে অন্যমনষ্ক হয়ে যায় কিনা...

প্রতি বছরই ঈদ আসে। তবে সে ঈদ যেমন এসিতে গাড়ীতে থাকা কোন এক ধনীর দুলালের জন্যে আসে, ঠিক তেমনি রাস্তার পাশে চিতই পিঠা ভেজে চলা পরিবারটার জন্যেও আসে..

প্রকৃতির সেই পুরনো নিয়মেই প্রতিটি ঈদ আনন্দের বার্তাবাহক হয়ে সুসংবাদ হিসেবে আমাদের মাঝে এলেও কারো কারো জন্যে হতাশার বার্তাও দুঃসংবাদ হিসেবে নিয়ে আসে...

যার জন্যে কোন কোন বাবা ঈদ মোবারক জানাতে ছেলের জেলখানায় গিয়ে এক কুঠুরীতে বছরের পর বছরে থেকে জং ধরে যাওয়া ছেলের চেহারার মলিন হাসিমুখ দেখতে যায়। যে মা সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রান্নাঘরে ঈদের রান্নায় সীমাহিন ব্যস্ততায় কাটাচ্ছে, সেও কল্পনায় ভেবে নেয় যে ছেলেকে নতুন পাঞ্জাবীতে কেমন দেখাতো...

মেসের অন্য সকলে বাড়ি চলে যাবার পরেও ফাঁকা মেসে যে ছেলেটা একলা দিন কাটাচ্ছে সেও মনে মনে ভেবে নেয়, একটা পরিবার যদি তার থাকতো, তবে কার জন্যে কি নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরতো....

(ঈদ মোবারক)
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০১৮ রাত ১০:৩৬
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×