ছেলেরা চাপাচাপি করছে, আমাকে কাপ্তাই হাইড্রোইলেক্ট্রিক প্ল্যান্টে নিয়েই যাবে।
সহপাঠীরা এই বন্ধে সব ভারত, নেপাল, কুয়াকাটা.... আমি হলে একা পড়ে থিসিস, ব্লগ...
কিন্তু আমি যাবোনা। থাকনা। কি দরকার? বেচে আছি এই আমার জন্য অনেক।
নিজেকে বঞ্চিত বা কষ্ট দিয়ে আমি কেন শান্তি পাই তার ব্যাখ্যা আজও দাড় করতে পারিনি।
মানুষ জনের ব্যাপক সমাবেশ, চলাচল, উপস্থিতি আমাকে স্বাভাবিক থাকতে দেয়না।
আমার মনে পড়েনা শেষ কবে বিয়ে জন্মদিন বা কোন সামাজিক অনুষ্ঠানে গিয়েছি। 10-12 বছর হবে হয়তো। তবে এতটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি, কখনও কোন আত্মীয় এর বিয়ের দাওয়াত পাইনি বা খাইনি।
তারা জানে আমি যাবনা। তাই কী দরকার ছেলেটাকে ডেকে?
গান, কবিতা, মুভি , টিভি এসবের প্রতি আমার কোন আগ্রহ নাই। ভালোও লাগেনা।
ঈদের ছুটিতে বাধ্য হয়ে বাড়িতে যাই। না যেতে হলে আরো ভালো লাগতো। ঢাকা হতে দু'ঘন্টা জার্নিই সহ্য হয়না।
কোন রকম সুখকর বিশেষ অনুভূতি কাজ করেনা , ঈদ বা বিশেষ কোন দিনে।
সমুদ্র তীরে কখনও যাইনি, দেখা হয়নি পার্ক, চিড়িয়া খানা, যাওয়া হয়নি কোন সিনেমা হলে।
আমি জীবনে সারা রাত জাগিনি। তবে কেউ ছুটির দিনে কাজ দিলে আনন্দ নিয়েই করব।
কাজ ভালোবাসি, সৃষ্টি করার নেশা আছে, তার চেয়েও প্রবল জানার আগ্রহ। স্কুলের শিক্ষকরা হতভম্ব হয়ে যেতেন আমার এসব দেখে।
নির্জন , নীরব পরিবেশ খুব শান্তি দেয় আমাকে। সঙ্গীতের সুর সেখানে প্রচন্ড বিরক্তিকর লাগে। ব্রক্ষপুত্র নদের ধারে বহু দিন চুপ চাপ একা বসে থেকেছি শান্তির অন্বেষায়।
হুমায়ুন আহমেদের একটা বইয়ের নাম (যদিও বইটা পড়া হয়নি কাজের ব্যস্ততায়) আমাকে প্রচন্ড নাড়া দেয় এক অভিমানী অনুভূতি দিয়ে....
আমি খাতায় লিখলাম,
"আজ আমি কোথাও যাবনা। "
102 কেজি ওজনের এক বন্ধু লাইনটার ঠিক উপরে লিখে দিলো,
"তুমি আমায় ডেকেছিলে ছুটির নিমন্ত্রণে"
আমি খাতাটার দিকে চুপচাপ কিছুক্ষণ তাকিয়ে থাকলাম।
কষ্ট আর অভিমানের কাব্যিক ভাষাটা এতটা সুন্দর হতে পারে!!!!!!
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


