6. কোন এক পত্রঝরা দুপুরে যখন তুমি প্রজাপতি হওনি, তুমি ছিলে আমার কল্পনার আকাশি, তখন আমি বসেছিলাম বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউসের সম্মুখে, প্রাচীন বটবৃরে নীচে। প্রাকৃতিক ব্যাকুলুতা আর বাতাসের সুরসুরি, মনেতে মাদকতা তৈরি করেছিল। এই মাদকতা এক জন কবির জন্যে খুবই প্রয়োজনীয়। এখানে বসে কবি বদরুল হায়দার গং কলকি টেনে কবিতার খই ফুটিয়েছে কতদিন, আর সোল্লাসে কলরব করেছে... গুরু নমস্কার, গুরু তিরস্কার, গুরু বটবৃ। এখানে বসেই সৃজন হয়েছে কত "সময় বিক্রির কবিতা"। এখানে আমি বসে আছি, আর দুপুরের জনশূন্যতায় পোকা-মাকড়ের গান শুনছি, মাঝে মাঝে পাখির ঝাপটানি, কখনো কণ্ঠের তাড়স্বর... এই সব দেখতে দেখতে, শুনতে শুনতে... আমি কোন এক ভাবের জগতে চলে যাই, চলে যাই রহস্যময় নীলিমায়। কখন যে আমি মেঘ হয়ে যাই বুঝতে পারি না, আমি আকাশে ভাসতে থাকি। ভাসতে ভাসতে আমি এক অচিন রহস্যময়তায় প্রবেশ করি আর হাবুডুবু খেতে থাকি, অথচ লুকানো মুক্তা উদ্ধার করতে পারিনা, অথচ আমাকে ঘিরে আছে কিছু ফিসফাস, আমাকে ছুঁয়ে যায় অজানা স্পর্শ, আমার শরীর বিদ্ধ করে অলিকজনের চোখ। অথচ আমি জানি, আমি চিনি না, আমি শুধু অনুভব করি। অনুভবের অতলে আমি মুক্তা খুঁজি, মুক্তা হাত পিছলে যায়, লুকোচুরি খেলে, আমি বিরক্ত হই অথচ নিজেকে নিবৃত্ত করতে পারি না। খুঁজে যাওয়াই যেন আমার জীবন, না পাওয়ার তিক্ততাই যেন আমাকে বাঁচিয়ে রাখার জিদ করে, যাতনাকে ভালোবাসতে শেখায়। ভালোবাসার তন্ময় গহীনে ঘোর লাগা চেতনায় আমি পাতাভাঙার শব্দ শুনি। শব্দের ভাঙনে অন্তরে আলোকচ্ছটা ছিটকে পড়ে, আমি জেগে উঠি, ভেসে উঠি... ভোরের অতল গাঙের গহীন থেকে, আর চোখ খুলে ধ্যানস্থ সাধুর মত সামনে অপ্সরীর রূপের ছটায়...দেখি তুমি, তুমি আমার আকাশি, নীলের আভায় দাঁড়িয়ে আছ, আমি কেঁপে উঠি আর নীল দেখি। আকাশি সত্যিই আমি কেঁপে উঠি, আপনার কপালের ভাঁজ দেখে আমি বুঝতে পারি, আপনি আমাকে অনুভব করছেন। আমার পাশে বসেন, আমার চোখে চোখ রাখেন। আপনার বিশালতায় আমার চোখ বুজে আসে, কেননা খোলা চোখে বিশালতার ুদ্রাংশ দৃষ্টিগোচর হয় আর বোজা চোখে বিশালতার পূর্ণ সরূপ উপলব্ধি করা যায়। চোখ বুঝে কোন এক অন্ধকার থেকে অনুভব করি আমার পাশে বসে আছে বিশাল সামুদ্রিক নিঃসঙ্গতা, আর তাতে আকাশের নীল ছায়া খেলা করছে। সমুদ্রের নীল আর আকাশের নীল মিলে প্রগাঢ় নীলে আমি আচ্ছন্ন, এই আচ্ছন্নতায় আমার মধ্যে কাব্যিক স্রোত কল কল করে, তাতে আমার মন সাঁতার কাঁটতে থাকে এবং আকাঙ্তি দ্বীপের সন্ধান করে। এই অনুসন্ধানী আবিস্কারের নেশায়, আমি দেখি আকাশির নীল বসন আকাশে ঢেউ তুলছে, চোখে ঘুমের নেশা_ তুমি তো ঘুমিয়ে থাকা মেয়ে, ঘুমিয়ে থাকো আমি তো মাতাল ছেলে, মাতাল মাতাল ঝাপিয়ে পড়ি পদ্মফোটা দীঘি মুঠি ভরা পানপাতা, পদ্ম রঙে রাঙা বুকের তলে গহীন জলে লুকোচুরি ডানকিনি মাছের নষ্ট হওয়ার হাতছানি নেশাখোরের ছোট্ট শিকারি হাত পিছলে যায়, দৃশ্যহীন ; সোনালি শস্যের জমিন সাদা রঙ আকাশ, নীল রঙ আকাশ নেশা জলে, ফেনা তোলে, বিস্রস্ত হাওয়া_ কাঁপন ধরা আপন দেহে, এসো মেয়ে বসত করি গভীর জলে, নীল যমুনায়
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০০৬ বিকাল ৩:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




