8.
রাত গভীর। ফ্যানের গর গর শব্দ। খোলা জানালায়, ডালিম গাছটা আমাকে দেখছে। আমি গাছের সাথে কথা বলি, তাকে বলি তোমার কথা, বলি, আমাকে তোমার ভালো লাগে না। বৃ হা হা করে হাসে, আমার রাগ হয়। এই বৃটি আমাকে গভীর ভালোবাসে। সব সময় আমার প নেয়, অথচ যে-ই তোমার বিরুদ্ধে চলে যাই, তখন সে তোমার প নেয়, আর আমাকে বুঝাতে বসে এবং আমি যে মিছে মিছে অভিমান করছি, তা বিভিন্ন যুক্তি তর্ক দিয়ে আমাকে অবহিত করতে থাকে এবং আমি বার বার পরাস্ত হই। আজও আমাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে, দালাল বৃটির যুক্তিবানে চূড়ান্ত পরাজিত হবার পূর্বে তোমার আগমন এবং তুমি এমনভাবে ঘরে ঢুকলে যেন এটা স্বাভাবিক এবং আমি এমন ভাব করলাম, যে, তুমি ঠিক সময়েই এসেছ। আমরা কোন কথা বললাম না, পরস্পরকে দেখতে লাগলাম, দেখতে দেখতে আমরা আরব্য রজনী শেষ করে ফেললাম, তারপর তুমি আমার শিয়রে বসলে, তোমার শরীর কিঞ্চিৎ থর থর করে কাঁপছে, আমি শীতল চাপ অনুভব করছি। তোমার একটা হাত আমার মাথার দিকে এগিয়ে এল, আমি চোখ বুঝলাম আর অপো করতে লাগলাম মায়াবি স্পর্শের প্রথম অভিজ্ঞতার জন্যে, সময়ের পর সময় অতিবাহিত হয়ে গেল, কিন্তু কোন স্পর্শ আমার শরীরে অনুভূত হল না। আমি চোখ খুললাম, দেখলাম, তুমি আমার শিয়রে নেই। আমি কেঁপে উঠলাম, উঠে বসলাম, দেখি তুমি বসে আছো ফোরে, দেয়ালে হেলান দিয়ে, তোমার শাড়ি এলোমেলো, চুল অগোছালো, চেহারায় মলিনতা, তবুও সব মিলে নান্দনিক ঐক্য গড়ে তুলেছে, অদ্ভুত সুন্দরী লাগছে তোমাকে। অতঃপর তোমার দূরাগত স্বর-
তুমি কি এখানে একাই থাক...
হঁ্যা...
আর কেউ নেই...
আছে...
কে...
তুমি...
অতঃপর নিরবতা, নিরবতা, নিরবতা, নিরবতা, নিরবতা...
অতঃপর...
তোমার মা কোথায়...
মামা বাড়ি...
বাবা কোথায়...
গ্রামে...
তারা কি আলাদা থাকেন, মানে...
না তেমন কিছু নয়, তবে আলাদা থাকেন, হয়তোবা না...
বুঝলাম না...
আমি কোন কথা বললাম না। এত রাতে আকাশি আমার ঘরে, প্রজাপতি হয়ে কাছে এসেছে ! আমি এক ইউক্যালিপটাস, প্রজাপতির গুণগুণাানিতে আনন্দবোধ করছি।
তোমার মা মামা বাড়ি কেন...
মা বৃ পছন্দ করেন আর নিঃসঙ্গতা। মা সেখানে আম্রকুঞ্জের নিচে, সাড়ে তিন হাত মাটির তলায় শুয়ে আছেন, আমরা মায়ের শয্যাকে স্মৃতিবহ করে রাখার জন্যে লাল ইটের ঢিঁবি তৈরি করে দিয়েছি...
আহ ! আর তোমার বাবা...
বাবা তার নিঃসঙ্গ অবসর সময়ে অপো করতেন, কখন তার সন্তান আসবে, কিন্তু আমরা আসতাম না, বাবা অপো করতে করতে স্পন্দনহীন হয়ে পড়েন। বাবা ভাবতেন আমরা তার দীর্ঘ বন্ধুর জীবনে কিছুটা মসৃণ স্বস্তি এনে দেব, কিন্তু আমরা তার স্বপ্ন ধরতে পারিনি। তাই ব্যর্থ যন্ত্রণায় আমরা তার থেকে পালিয়ে বেরিয়েছি... এমনি ফেরারি সময়ে বাবাই আমাদের ছেড়ে পালিয়ে যান। এখন তিনি গোরস্তানে শুয়ে আছেন, গোরস্তানটি রাস্তার পাশে, হয়তো বাবার চিন্তা ছিল এমন, এই রাস্তা ধরে আমরা আসব, আমাদের আগমনী ধ্বনির জন্যে তিনি অপো করছেন... কিন্তু আমরা যাই না। এমন কি আমাদের সময় আমাদের অমানবিক করে দিয়েছে...
তুমি কাঁদছ কেন...
কই কাঁদছি...
তোমার চোখে পানি...
এমনিই, আমি কাঁদছি না, এই যে হাসছি, হা হা হা...
তোমার চোখের পানি আরও বেশি করে পড়ছে...
হা হা হা...
তোমার খুব কষ্ট হচ্ছে...
হা হা হা...
আমি কি তোমাকে একটু আদর করে দেব...
না...
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




