somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রজাপতি ও ইউক্যালিপটাসের গল্প [6]

০৬ ই মার্চ, ২০০৬ বিকাল ৩:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

8.
রাত গভীর। ফ্যানের গর গর শব্দ। খোলা জানালায়, ডালিম গাছটা আমাকে দেখছে। আমি গাছের সাথে কথা বলি, তাকে বলি তোমার কথা, বলি, আমাকে তোমার ভালো লাগে না। বৃ হা হা করে হাসে, আমার রাগ হয়। এই বৃটি আমাকে গভীর ভালোবাসে। সব সময় আমার প নেয়, অথচ যে-ই তোমার বিরুদ্ধে চলে যাই, তখন সে তোমার প নেয়, আর আমাকে বুঝাতে বসে এবং আমি যে মিছে মিছে অভিমান করছি, তা বিভিন্ন যুক্তি তর্ক দিয়ে আমাকে অবহিত করতে থাকে এবং আমি বার বার পরাস্ত হই। আজও আমাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে, দালাল বৃটির যুক্তিবানে চূড়ান্ত পরাজিত হবার পূর্বে তোমার আগমন এবং তুমি এমনভাবে ঘরে ঢুকলে যেন এটা স্বাভাবিক এবং আমি এমন ভাব করলাম, যে, তুমি ঠিক সময়েই এসেছ। আমরা কোন কথা বললাম না, পরস্পরকে দেখতে লাগলাম, দেখতে দেখতে আমরা আরব্য রজনী শেষ করে ফেললাম, তারপর তুমি আমার শিয়রে বসলে, তোমার শরীর কিঞ্চিৎ থর থর করে কাঁপছে, আমি শীতল চাপ অনুভব করছি। তোমার একটা হাত আমার মাথার দিকে এগিয়ে এল, আমি চোখ বুঝলাম আর অপো করতে লাগলাম মায়াবি স্পর্শের প্রথম অভিজ্ঞতার জন্যে, সময়ের পর সময় অতিবাহিত হয়ে গেল, কিন্তু কোন স্পর্শ আমার শরীরে অনুভূত হল না। আমি চোখ খুললাম, দেখলাম, তুমি আমার শিয়রে নেই। আমি কেঁপে উঠলাম, উঠে বসলাম, দেখি তুমি বসে আছো ফোরে, দেয়ালে হেলান দিয়ে, তোমার শাড়ি এলোমেলো, চুল অগোছালো, চেহারায় মলিনতা, তবুও সব মিলে নান্দনিক ঐক্য গড়ে তুলেছে, অদ্ভুত সুন্দরী লাগছে তোমাকে। অতঃপর তোমার দূরাগত স্বর-
তুমি কি এখানে একাই থাক...
হঁ্যা...
আর কেউ নেই...
আছে...
কে...
তুমি...
অতঃপর নিরবতা, নিরবতা, নিরবতা, নিরবতা, নিরবতা...
অতঃপর...
তোমার মা কোথায়...
মামা বাড়ি...
বাবা কোথায়...
গ্রামে...
তারা কি আলাদা থাকেন, মানে...
না তেমন কিছু নয়, তবে আলাদা থাকেন, হয়তোবা না...
বুঝলাম না...
আমি কোন কথা বললাম না। এত রাতে আকাশি আমার ঘরে, প্রজাপতি হয়ে কাছে এসেছে ! আমি এক ইউক্যালিপটাস, প্রজাপতির গুণগুণাানিতে আনন্দবোধ করছি।
তোমার মা মামা বাড়ি কেন...
মা বৃ পছন্দ করেন আর নিঃসঙ্গতা। মা সেখানে আম্রকুঞ্জের নিচে, সাড়ে তিন হাত মাটির তলায় শুয়ে আছেন, আমরা মায়ের শয্যাকে স্মৃতিবহ করে রাখার জন্যে লাল ইটের ঢিঁবি তৈরি করে দিয়েছি...
আহ ! আর তোমার বাবা...
বাবা তার নিঃসঙ্গ অবসর সময়ে অপো করতেন, কখন তার সন্তান আসবে, কিন্তু আমরা আসতাম না, বাবা অপো করতে করতে স্পন্দনহীন হয়ে পড়েন। বাবা ভাবতেন আমরা তার দীর্ঘ বন্ধুর জীবনে কিছুটা মসৃণ স্বস্তি এনে দেব, কিন্তু আমরা তার স্বপ্ন ধরতে পারিনি। তাই ব্যর্থ যন্ত্রণায় আমরা তার থেকে পালিয়ে বেরিয়েছি... এমনি ফেরারি সময়ে বাবাই আমাদের ছেড়ে পালিয়ে যান। এখন তিনি গোরস্তানে শুয়ে আছেন, গোরস্তানটি রাস্তার পাশে, হয়তো বাবার চিন্তা ছিল এমন, এই রাস্তা ধরে আমরা আসব, আমাদের আগমনী ধ্বনির জন্যে তিনি অপো করছেন... কিন্তু আমরা যাই না। এমন কি আমাদের সময় আমাদের অমানবিক করে দিয়েছে...
তুমি কাঁদছ কেন...
কই কাঁদছি...
তোমার চোখে পানি...
এমনিই, আমি কাঁদছি না, এই যে হাসছি, হা হা হা...
তোমার চোখের পানি আরও বেশি করে পড়ছে...
হা হা হা...
তোমার খুব কষ্ট হচ্ছে...
হা হা হা...
আমি কি তোমাকে একটু আদর করে দেব...
না...
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১৬)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০১



সূরাঃ ১৬ নাহল, ৯৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৯৩। আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদেরকে এক উম্মাত (একজাতি) করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা হেদায়াত দান করেন।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সীমিত মগজ, লিলিপুটিয়ান, ডোডো পাখি (সৌজন্যে - চাঁদগাজী)...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ১১:২৯



১. যেনা করব আমরা, ৫০১-এ যাব আমরা, পার্কে যাব আমরা। তুমি তো আলেম। তুমি কেন যাবে? তুমি তো ইসলামের সবক দাও সবাইকে। তুমি মাহফিলে কোরআন, হাদীস বয়ান কর। তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×