somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কৃতদাসের হাসি

০৩ রা অক্টোবর, ২০১১ সকাল ১১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মাঝে মাঝে আমি একটা স্বপ্ন দেখি। পৃথিবীটা একদল কালো পোশাক পরা মানুষ দখল করে নিয়েছে। এরা হঠাৎ কোত্থেকে এসে পৃথিবী দখল করে নিল। সব জানোয়ার শাসকগুলোকে কুচিকুচি করে কেটে ফেলল। পৃথিবীর প্রত্যেক মানুষকে নামের বদলে একটা করে নম্বর দেওয়া হল। কেউ একটা অপরাধ করলেই এরা এসে তাকে মেরে ফেলে। এই রবোট মানুষ সমাজে কোন জরা নাই, সুখ কিংবা অসুখ নাই, মোহ নাই, আকাংখা নাই, শব্দ নাই, ভালোবাসা নাই।

গত কয়েকদিন ধরে আমি একটা গল্প লেখার চেষ্টা করছি। গল্পটা এরকম একটা ছেলে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা শহরে আসবে। শেষবারের মত। কারণ ওর ফ্লাইট ঠিক হয়ে আছে। সামনের শুক্রবার এয়ার এমিরেটস এর যে ফ্লাইটটা ঢাকা ছাড়বে সেটাতে করে ওর মিডেল ইস্টে চলে যাওয়ার কথা – কুয়েত, এই দেশে অনেক টাকা পয়সা। এই গল্পে প্রেম আছে, অসহায়ত্ব আছে, অসুস্থ মা আছেন আর আছে মৃত্যু। গল্পের শেষে ছেলেটা মারা যাবে। রোড অ্যাক্সীডেন্ট।

খুব করুন একটা গল্প হইতে পারত, তাই না!

আমি গল্পটা লিখতে পারি নাই। আমি করুণ গল্প লিখতে পারি না। কারণ ঐ মানুষটির স্থলে আমি নিজেকে কল্পনা করে ফেলি আর ভয়ে শিউরে উঠি। এটা করুন গল্প না। এটা একটা ভয়ংকর সত্য গল্প। এটা একটা ভয়ংকর ভয়ংকর সত্য গল্প। “সত্য” আমাদের এসি রুমে সময় কাটানো শাসকবর্গের কাছে, প্রধান মন্ত্রী এবং তার পারিষদ মন্ডলীর কাছে ছোট বড় পাতি মাঝারি উঠতি নেতাদের কাছে গল্পের মতই লাগে। তিক্ত স্বাদ যুক্ত এই গল্পটি তারা খুব দ্রুত মিথ্যার মুড়ক কাগজে লুকিয়ে ফেলেন।

--বাংলাদেশ বিশেষ করে ঢাকায় এখন অনেক উচুঁ উচুঁ দালান কোঠা, ফ্ল্যাট বাড়ী, শপিং মল, খাবারের রেস্তোরা যেখানে দেশি বিদেশি সুস্বাদু সব ডিশ মেলে, অবশ্যই উপযুক্ত মূল্যের বিনিময়ে – নাম না জানা আরো কত কি করার জায়গা। সুবেশ তরুণের দলের সাথে সুবক্ষা নারীরা আনন্দের উপকরণ সহযোগে মেতে উঠে সাময়িক বিনোদনে এই কৃত্তিম স্বর্গোদ্ব্যানে।

-- এরা বাংলাদেশ নামক তৃতীয় বিশ্বের হতদরিদ্র একটি রাষ্ট্রে যে শংকর চেহারার মানুষ গুলি বাস করে তাদের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ। আমার বোধ হওয়ার পর থেকে আমি নিজেকে এই কথাটা বারবার বলি। জানি না আরো কতদিন বলতে হবে। আমি তখন ক্লাস ওয়ানে পড়ি। ছোট’পা পড়ে ক্লাস ফাইভে। ও সেবার কোন এক প্রতিযোগীতায় মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের লেখা “দুষ্ট ছেলের দল” বইটা পুরস্কার পেল। আমার পড়া উনার প্রথম উপন্যাস এইটা। তখন অবশ্য ত কিছু বুঝতাম না। আমি অনেক দিন পর্যন্ত বুঝি নাই উনি কেন বলছেন যে গরিব হওয়ার মাঝে লজ্জার কিছু নি। এই পৃথিবীটা গরীব মানুষ দিয়ে ভর্তি। এই গ্রহের শতকরা ৮০ ভাগ সম্পদ মাত্র ২ পার্সেন্ট মানুষের কব্জায়।

এই ভোগে উন্মত্ত নরনারীর দলকে দোষ দেই না। এরা নির্বোধ। সরকারকেও দোষ দেই না। জোকের কাজ শোষন করা। এটা তার জেনেটিক কোডে লেখা আছে। আমি দোষ দেই নিজেকে। সবস্ময় সব কিছু পাওয়া যায় না, কিন্তু যেটা প্রয়োজন সেটাতো পাওয়া উচিত। আমার দোষ আমার পিঠ দেয়ালে ঠেকে যাওয়ার পরেও আমি এই জোঁকটার মুখে লবণ দিতে পারি নাই।

তাই আপনি যখন আজকে সারাদিন কাজের পর আরাম করে টিভি কিংবা কম্পিউটার সেটটার সামনে বসবেন, “ভালোবাসা পাই...” নামক কিছু অর্থহীন নাটক বা সিনেমায় বূঁদ হয়ে কিছুক্ষন পর ঘুমে তলিয়ে যাবেন আমি তখন মুখ ভর্তি বমি করব প্রক্ষালন কক্ষে গিয়ে। আমার মনে হতে থাকে যে ভয়ংকর স্বপ্নটা আমি দেখি সেটা খুব শীঘ্রই রিয়েলেটিতে পরিনত হবে। আমার পেটে ভাত নাই। শরীরে কাপড় নাই। মগজে যথেষ্ঠ শিক্ষা নাই। আমি এই দাসবৃত্তি হইতে মুক্তি চাই। আমি ঐ শব্দ-ভালোবাসাহীন পৃথিবীর রবোট নাগরিক হইতে চাই না।

----------------------------------------
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০১৩ ভোর ৪:৪৯
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সবাইকে একসঙ্গে লড়তে হবে এর কোনো বিকল্প নেই।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ ভোর ৬:৩৫

সবাইকে একসঙ্গে লড়তে হবে এর কোনো বিকল্প নেই।
যারা ভাবছেন ঘরে বসে থাকলেই সবকিছু আপনাআপনি হয়ে যাবে, তারা ভুল ভাবছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে জনগণের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই।... ...বাকিটুকু পড়ুন

Out of the frying pan into the fire- কড়াই থেকে অগ্নিকুণ্ডে!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:৫২



Out of the frying pan into the fire- কড়াই থেকে অগ্নিকুণ্ডে!

ইংরেজি প্রবাদ “Out of the frying pan into the fire”- অর্থাৎ এক বিপদ থেকে বাঁচতে গিয়ে আরও বড় বিপদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

চিঠির সঙ্গে আমার এক অন্যরকম সম্পর্ক

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:৫৩



চিঠির সঙ্গে আমার এক অন্যরকম সম্পর্ক

উনি আমাদের ভবেরচর পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার। অত্যন্ত ভালো মনের একজন মানুষ। তাঁর সঙ্গে আমার পরিচয়টা শুধু পোস্ট অফিসের প্রয়োজনের কারণে নয়; বরং দীর্ঘদিনের এক আন্তরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীরব আত্মপক্ষ।

লিখেছেন রাজা সরকার, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০

নীরব আত্মপক্ষ।

স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র আন্দোলনের মাসুল বাঙালি হিন্দুকে গুণে গুণে দিতে হয়েছিল ব্রিটিশকে । বাকিটা মুসলিম লীগ ও নেহেরুইয়ান কংগ্রেস মিলে যা করার করে গেছে। এবং পরবর্তীকাল থেকে মুসলিম... ...বাকিটুকু পড়ুন

এই সমাজ- ৭২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৮ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৩



দেশের সরকার অযোগ্য অদক্ষ হলে, জনগনের শান্তি থাকে না।
দেশের জনগন সারাদিন কাম কাজ করে। অফিসে নানান রকম যন্ত্রনা পোহায়। নানান জক্কি ঝামেলা পোহাতে হয়। অফিসে থাকে না... ...বাকিটুকু পড়ুন

×