somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

"এগুলারে মরতে দ্যান"

০৮ ই মে, ২০০৭ দুপুর ২:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ডাক্তার হিস্ট্রি শুনেই বললেন,"এপিলেপসি"। একদঙ্গল ইনভেস্টিগেশন অ্যাডভাইজ করলেন। মমিনুল বোঝে না। আমি বোঝানোর চেষ্টা করলাম। রোগ নির্ণয়ের জন্য কতগুলো পরীক্ষা নিরিক্ষা করাতে হয়। প্রত্যেকটি পরীক্ষার জন্য কতগুলো বিশেষ যন্ত্র রয়েছে। পরীক্ষাগুলো নির্দিষ্ট কতগুলো প্রতিষ্ঠানে সম্পন্ন করাতে হয় ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি বোঝাই আর মমিনুল ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। অবিশ্বাস নিয়ে তাকায়। তাঁর তাকনোই বলে দেয় এসব তাঁর ভালো ঠেকছে না। এসব ইন্ভেস্টিগেশনের মানে কী? সে তো বড় ডাক্তারের কাছেই এসেছে। কত কষ্ট করে সিরিয়াল পেতে হয়েছিল। একান্ন জন রোগী দেখা হয়ে যাবার পরে তাঁর ডাক এসেছিল। অথচ সেই ডাক্তার কিনা নিজে বুঝতে পারছে না রোগীর রোগটা কী? আর একজন পরীক্ষা করে বলে দেবেন তারপর ডাক্তার বুঝবেন! অদ্ভুদ ঠেকে মমিনুলের কাছে। একটা হতাশা গ্রাস করে তাঁকে। দেশের বাড়িতে প্রভানন্দ ডাক্তার কত বার চিকিৎসা করেছে। জ্বরের চিকিৎসায় দুই টাকার অসুধেই অব্যর্থ কাজ করেছে। আর এসব কী বলছে?

অনেক কষ্ট করে সাতশো টাকা জোগাড় করতে হয়েছিল তাঁর। এর ওর কাছে চেয়ে চিন্তে যোগাড় করেছিল কিছু। বাকী টাকা কর্জ করেছে। ছেলেদুটোকে বিয়ে করিয়ে মস্ত ভুল করেছে বলে তাঁর ধারণা। আগে যা হোক ছেলেদুটো অন্ততঃ বিপদে আপদে একটা শক্তি ছিল। এখন নিজেদের সংসার নিয়েই তাঁরা অস্থির। ঢাকায় রিক্সা চালিয়ে কিছু টাকা জমিয়ে বাড়ি ফিরে আসে। টাকায় টান পড়লে আবার ঢাকা। অবশ্য মমিনুল এখন কোন কিছুই আশা করে না তাঁদের কাছে। শুধু একটা ঘটনাই ছেলেদের প্রতি তাঁর সব আস্থা নষ্ট করে দিয়েছে বলে জানায়। সপ্তাহান্তে গ্রামীণ ব্যাংকের কিস্তির টাকাটার কথাটা মনে হলে তাঁর মাথাটা চক্কর দিয়ে ওঠে। খেয়ে না খেয়ে কিস্তির টাকা জুগিয়ে যেতে হয়। একবার কোন ভাবেই পেরে উঠছিল না। অবশেষে ছেলেদের কাছে হাত পাতে সে। কিন্তু দুটো ছেলেই দারুনভাবে নিরাশ করে তাঁকে। তখন থেকে তাঁদের কাছে কখনই কিছু চাইবে না বলে পণ করেছে। তবে ঢাকায় আসার আগেই এ সপ্তাহের কিস্তির টাকাটা বউ এর কাছে রেখে এসেছে সে। এদিক থেকে কিছুটা নিশ্চিন্ত এবার।

সব ইনভেস্টিগেশনের রিপোর্টগুলো পেতে আরও দু’দিন কেটে যায়। ঢাকা শহর অসহ্য হয়ে ওঠে মমিনুলের। কেন অসুখ-বিসুখ হয়? বসে বিড়ি খাওয়া ছাড়া আর কোন কাজ নেই। এত মানুষ-জন, গাড়ি-ঘোড়া ভালো লাগে না তাঁর। এভাবে মানুষ বাস করে কীভাবে?

অবশেষে বিরক্তিকর দিন দু’টো অতিবাহিত হয়। আবার অপক্ষা। ডাক্তার আসেননি এখনও। কখন আসবেন তারও কি ঠিক আছে? এদিকে রোগী আর রোগীর সঙ্গী-সাথীরা মিলে পুরো জায়গাটাই গরম করে ফেলেছে। এত কথা বলছে মানুষগুলো! কী এত কথা? এসবই ভাবছে মমিনুল। এমন এক সময় ডাক্তার এলেন। সবাই যেন চুপ হয়ে গেল মুহুর্তেই। মমিনুলের ডাক পড়ল আরও অনেক পরে। ঢুকতেই ডাক্তার হুঙ্কার ছুঁড়লেন, "কি টেস্টগুলো করিয়েছেন?" আমিই উত্তর দিলাম, "হ্যাঁ, করানো হয়েছে।" রিপোর্টগুলো নেড়ে চেড়ে দেখলেন ডাক্তার। বললেন, " এ ওষুধ গুলো খান, দু সপ্তাহ পরে আবার দেখা করবেন।" মমিনুল সোজা সাপ্টা উত্তর দিলেন, "মুই আর আসিবার পারিবার নহ, মুই টাকা পাম কুনঠে?" ডাক্তার ভদ্রলোক মুহুর্তেই যেন অগ্নি মুর্তি ধারণ করলেন: "এইসব গরুরে নিয়ে আসেন ক্যান? এগুলারে মরতে দ্যান। যখন লেখাপড়ার সময় ছিল খোঁজ নিয়ে দেখেন তখন বিয়ে করে ফেলছে। এরা এভাবেই মরবে। এগুলা না থাকলে দেশটা অনেক শান্তিতে থাকত।"

ডাক্তারের কক্ষ থেকে মাথা নীচু করে বেরিয়ে এলাম আমরা।মমিনুল কী বুঝেছে জানি না। আমি বুঝতে চাইনি কোন কিছুই...
৮টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×