মেজর জিয়ার নাম শুনেছেন বাংগালীরা ২৭ শে মার্চ, ১৯৭১ সালে, যখন তিনি কালুরঘাট বেতার থেকে স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র পড়েন; স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র পড়া একটি বড় ব্যাপার ছিল; মানুষ মনে রেখেছিলেন; কিন্ত মেজরকে সাধারণ মানুষ দেখেননি, তিনি পরবর্তী ৯ মাস যুদ্ধ করেছেন; তাঁর বাহিনীর নাম ছিল, "জেড-ফোর্স"। তিনি ১নং সেক্টরের কমান্ডার নিযুক্ত হন; মে মাসের দিকে, মেজর রফিক ১নং এর কমান্ডার হন মেজর জিয়ার স্হলে; জিয়া "জেড-ফোর্স" নিয়ে সন্মুখ যুদ্ধ চালনা করতে থাকেন ১ নং সেক্টরে। মেজর রফিকের হেড-কোয়ার্টার ছিল ত্রিপুরার হরিণায়, তিনি গেরিলা ট্রেনিং দিচ্ছিলেন ও ১ নং সেক্টরে গেরিলা যুদ্ধ করছিলন।
"জেড-ফোর্সের" হেড-কোয়ার্টার ছিল ত্রিপুরার পংবাড়ীতে, বেংগল রেজিমেন্ট, ইপিআর ও স্টুডেন্ট প্লাটুন মিলে লোক সংখ্যা চার শতের মতো ছিলেন। জেড-ফোর্স মার্চের ২৭ তারিক থেকে শুরু করে আগস্ট মাস অবধি সন্মুখ যুদ্ধ করেন: কুমিরা, চট্টগ্রাম শহরে, বাড়বকুন্ড, সীতাকুন্ড, মিরসরাই, মস্তাননগর, জোরারগন্জ, করেরহাট, নারায়ন হাট, রামগড়, শুভপুর, রেজুমিয়া ও চাঁদগাজীতে তাঁরা যুদ্ধ করেন।
তাঁদের প্রথম সন্মুখ যুদ্ধ ছিল কুমিরাতে, আর শেষ সন্মুখ যুদ্ধ ছিল নোয়াখালীর চাঁদগাজীতে। প্রথমদিকে মেজর রফিক, মেজর শওকত আলী, ক্যা: এনাম, ক্যা: মাহফুজ, ক্যা: হামিদ, ক্যা: শামসুর রহমান, ক্যা: ভুঁইয়া, ক্যা: ওলি জেড-ফোর্সে ছিলেন।
জেড-ফোর্স চাঁদগাজী হারানোর পর, করেরহাট ও রামগড়ের মাঝখানে আরেকটা ডিফেন্স গড়ার সময়, মেজর জিয়াকে ১১ নং সেক্টরের প্রধান করা হয়; তিনি ১১ নং সেক্টরে যোগদান করার পক্ষে ছিলেন না; সেটা নিয়ে কর্ণেল ওসমানী ও তাজুদ্দিন আহমেদের সাথে সমস্যার সৃস্টি হয়; এ সমস্যা হয়তো পরবর্তীতে জিয়ার জীবন বদলায়ে দেয়!
(চলবে)
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ২০১৫ রাত ১২:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




