" একজন রাজাকার চিরকালই রাজাকার, একজন মুক্তিযোদ্ধা আজীবন মুক্তিযোদ্ধা নয়", এ কথাটা বলেছিলেন ড. হুমায়ুন আজাদ; কথাটা বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে, অনেকে না বুঝে বেশ ব্যবহার করছেন; কথাটা বেশ অপক্ক ভাবনার ফসল; ড: হুমায়ুন আজাদ সাহেব যুদ্ধের বয়স সত্বেও যুদ্ধ করেননি; মুক্তিযোদ্ধাদের বুঝার সুযোগ উনার হয়নি; যুদ্ধ কঠিন ব্যাপার, বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধ, যেখানে একজন সাধারণ মানুষ এক সেনাবাহিনীর বিপক্ষে অস্ত্র ধরে, এবং শুধুমাত্র দেশ ও জাতিকে ভালোবেসে, মানুষ যুদ্ধ করেছেন, প্রাণ দিয়েছেন ।
একজন মুক্তিযোদ্ধা আজীবন মুক্তিযোদ্ধাই; অন্যেরা না বুঝলেও, মুক্তিযোদ্ধারা অন্য মুক্তিযোদ্ধাদের বুঝেন; এবং এটাই যথেস্ট!
ড: হুমায়ুন আজাদ আমার শিক্ষক ছিলেন; সবেমাত্র উনি শিক্ষকতা শুরু করছিলেন; উনি তখন শিক্ষকতায় ভালো করতে পারেননি; হয়তো উনি ভালো বাংলা জানতেন, কিন্তু আমাদের সেকশনের ছেলেমেয়েরা উনাকে ঘনিস্ট করে নেয়নি; শুনেছি, পরে উনি অনেক নাম করেছেন; তা ভালো। উনি অবশ্যই জাতির পক্ষের প্রতিবাদী ছিলেন, সেই কারণেই উনাকে রাজাকারদের দলের লোকেরা হত্যা করতে আক্রমণ করেছিল।
মুক্তিযুদ্ধ যাঁরা করেছিলেন, তাঁদের মাঝে লেখক কবি, ইতিহাসবিদ ছিলেন না; ইপিআর, বেংগলের বেশীরভাগ সৈনিক ছিলেন কয়েক শ্রেণী পাশ; ছাত্ররা এমন কিছু জানতো না যে, মুক্তিযু্দ্ধকে তাঁরা তুলে ধরতে পারতেন; আর কৃষকের ছেলেদের লেখার কি ছিল?
ছাত্ররা, যাঁরা মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন, হয়তো পরে তাঁদের অনেকই উচ্চ শিক্ষা পেয়েছিলেন; কিন্তু পুরো মুক্তিযু্দ্ধ পেছনের সারিতে চলে যাবার পর, কেহ আর আগ্রহ পায়নি এ ব্যাপারে বড় কিছু লিখতে; আমার চোখে তেমন কিছু পড়েনি।
যারা যুদ্ধ করেনি, যুদ্ধে যায়নি, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে থাকেনি, তাদের অনেকে অনুমান করে অনেক কিছু লিখেছেন; এগুলোর তেমন দাম নেই; অন্তত আমার কাছে হাসির খোরাক বলে মনে হয়েছে।
মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে, ড. হুমায়ুন আজাদের অপক্ক ভাবনার ফসল, ঐ বিশ্রী বাক্যটি ব্যবহার করা ভাবনহীনতার পরিচয় মাত্র। রাজাকারদের নিয়ে যার যা ইচ্ছে বলুক, কারণ ওরা ছিল বাগানের ভেতর কদাকার বিষাক্ত ঘেসো সাপ। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের বেলায় কিছু বলতে ভাবার দরকার আছে, বুঝার দরকার আছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



