
এদিক-ওদিক ব্যাপক আম-লিচু করে বেড়িয়েছে। নিজের স্টুডিওতে আজেবাজে শুটিং করেছে। পরে বিরাট এক মদের কারবারির মেয়েকে বিবাহ করেছে। তাও আবার বাচ্চাকাচ্চা সহ। নিশ্চতই টাকা টুকা হাতানোর জন্যে। বিয়ের পরপরই জামাই-শ্বশুর মিলে সেই মদ আবার অবৈধভাবে মজুদও করেছে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ঘরদোর ঘেঁটে তার ট্যাক্স ফাইলের সাথে মেলালে ব্যাপক গরমিলও পাওয়া যাবে নিশ্চিত। সরকার সঠিক পথেই তাই আগাচ্ছে।
.
কিন্তু বিষয় হলো তার সকল পাপের বিরুদ্ধে সরকার ফুল পুলিশি অ্যাকশনে গেল গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে। এতদিন এই মহাপাপী সানন্দে নাচাগানা করে দিন পার করে আসছিলো। মানে তার লুচ্চামি, তার বিবাহ, তার মদ আর মদের মজুদের কারবার, ব্যাংক হিসাব সবই বহু বছরের পুরনো। তার শ্বশুরজি অনুমোদনের বাইরে বাড়তি দুইটা মদের গুদামও গত মাসের ২৬ সেপ্টেম্বরে বানাননি। সেভাবে কেউ জানতও না এতদিন।
.
”এই নষ্ট বান্দাকে যথেষ্ট পরিমাণে টাইট দেওয়া উচিত” - এই উপলব্ধি সরকার বাহাদুরের এসেছে যখন সে সরকার পরিচালনাকারী দলটাকে চাঁদাবাজ বলেছে তার পর। তার নিজের স্টুডিও চান্দাবাজরা ভাঙ্গার পরে, তাদের পরিচয় জেনে-বুঝে তাদের পুরো দলটাকে চাঁদাবাজ না বলার আগ পর্যন্ত মুক্তাদির আর তার শ্বশুরের কোনো কাজেই সরকারের সমস্যা ছিল না!
.
বাকি প্রজাসাধারণের জন্য সরকারি দলটা যে বার্তা দিচ্ছেন তার প্রথমটা হলো – সকল পাপী মানুষদের কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া জায়েজ। এদিকে আমরা সবাই পাপী, আপন পাপের বাটখারাতে অন্যের দোষ মাপি।
.
দ্বিতীয় বার্তা হলো – চাঁদাবাজকে চাঁদাবাজ, চোরকে চোর, বাটপারকে যদি বাটপার না বলে টিকে থাকা যায় তাহলে স্রেফ চাঁদা দিলেই হবে। আপনার অন্যান্য পাপ - যেমন ব্যবসা, মজুদ, ব্যাংক হিসাব, ট্যাক্স ইত্যাদি নিয়ে যা খুশি করা যাবে। তেমন টেনশন নাই। ব্যাক্তিগত জীবন নিয়ে স্যোশাল মিডিয়াতেও কেউ তেমন ছি: টি বলবে না।
.
এদিকে এই সরকার বাচ্চাকাচ্চাসহ হাজার দেড়েক মানুষের জান আর তাজা রক্ত মাড়িয়ে আয়রন থ্রোন-এ বসেছে। আর এই রক্তগুলো ঝরেছিল এই চাঁদাবাজি, চুরি, গুন্ডামি বন্ধের দাবিতে। কথা বলার স্বাধীনতার দাবিতে। এই দুঃখ ভুলাতে চাইলে তো মানুষকে প্রচুর লাল পানি গিলাতে হবে। তার জন্য আবার মুক্তাদিরের শ্বশুরের আরও কয়টা মদের গুদাম লাগবে। সেগুলো অসময়ে সিলগালা করলে তো মানুষ মন্দ বলবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


