বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে, দেশের সবচয়ে বড় পদটি হচ্ছে প্রসিডেন্টের পদ, তিনি পার্লামেন্টে নির্বাচিত দলদের থেকে সরকার গঠনের নির্দেশ দেন, সরকার ভেংগে দিতে পারেন; এবং সেনা-বাহিনীর প্রধান! এই পোস্টটি যখন নির্বাচিত দলের প্রধানের ইচ্ছানুসারে হয়, তখন আমাদের মতো দেশে প্রেসিডেন্টের কোন কিছুই করার থাকে না। আপনারা ডা: বদরুদ্দোজার অবস্হা দেখেছেন, খালেদা জিয়ার ইচ্ছায় উনি পদ পেলেন, খালেদা জিয়ার ইচ্ছায় উনার চাকুরী গেলো; এখানে প্রেসিডেন্ট ও জনগণ ক্ষমতা ও অধিকারহীন; যিনি সরকার গঠনে ও ভাংগার নির্দেশ দিতে পারেন, তার নিজের চাকুরীর ঠিকানা নেই; এগুলো এ যুগে গ্রহনযোগ্য নয়, সংবিধানের দুর্বলতা; ড: কামালের ভাবনা-শক্তি সব সময়ই সীমিত ছিল।
যেহেতু নির্বাচিত দলের প্রধানই প্রেসিডেন্ট বানাচ্ছিল, খালেদা জিয়া দুনিয়ার শান্তি কমিটির রাজাকার-মনা বা কমপক্ষে '৭১ সালে যারা বাংলাদেশ বিরোধী ছিল, তাদের নিয়ে এসেছিল; আর শেখ হাসিনা এনেছে বুড়ো, ঘাটের মরাদের যেন ডাক্তারখানায় বাকী জীবনটা কাটায়।
সময় ছিল বিরোধীদল সংসদে যেতো না, তাদের জন্য নির্ধারিত অফিসে বসতো না; এখন শেখ হাসিনার সময় দেখুন, একই কোয়ালিয়নে নির্বাচিত দল বিরোধী দলে; ফলে, এই বিরোধীদল সরকারের কাজে লাগছে, মানুষের কাজে লাগছে না। আবার এরশাদের চুরির পেছনে যিনি ছিলেন, সেই ঘাটের-মরা রওশন বিরোধীদলের নেতা!
দেশে সীমিত আকারের ডিক্টেটরশীপ চলছে এখন ; আগেও সব সময় ডিক্টেটরশীপ চলে আসছিলো, কিন্তু বিরোধীদলগুলো রেললাইন তুলতো, গাড়ী ভাংতো, মানুষ মারতো; যার ফলে, মনে হতো যে, দেশে গণতন্ত্র ছিল। ডিক্টেটরশীপ বা যাই চলুক জীবন চলতে থাকে, মানুষর ইস্যু থাকে; রওশনের মতো বিরোধীদলের নেতা থাকলে, মানুষের ইস্যুগুলো কে দেখবে?
যেসব ইস্যু দেশের বড় সংখ্যক মানুষের উপর প্রভাব ফেলে সেগুলোর সমাধান হোক, বা না হোক সেগুলোকে তুলে ধরে রাখার জন্য বিরোধীদল; সাধারণ মানুষ ইস্যুকে সামনে নিতে পারে না, সমাধান অবধি ধরে রাখতে পারে না; যেমন, সাগর-রুনী হত্যা, ইস্যুটা মানুষ মনে রেখেছে, কিন্তু সরকারের উপর চাপ সৃস্টি করতে পারেনি।
৪৪ বছরে বিরোধীদলের রাজনীতি বাংগালীরা শিখতে পারেনি; ভোটে পরাজিত হওয়ার পর, তাদের কাজ ছিল ক্ষমতাশীনদের পতন ঘটানোর প্রচেস্টা; জনগণের ইস্যু নিয়ে কথা বলার জন্য পার্লামেন্টে যাবার সময় পায়নি।
জাতীয় ইস্যুগুলোকে সমাধানের জন্য প্রেসিডেন্টের অফিস যদি চেস্টা করে, তা'হলে মানুষের পক্ষে কমপক্ষে একটা বড় শক্তি থাকছে; তাই প্রেসিডেন্ট মানুসের ভোটে নির্বাচিত হোক; যেহেতু, বাংলাদেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র একটা কঠিন বিষয়, সেটাকে কিছুটা সহজ করতে পারবে মানুষের নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট। শেখ হাসিনার ঘাটের-মরারা যদি আসলে মুল্যবান কেহ হয়ে থাকে মানুষের ভোটেই তা নির্ধারিত হোক।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

