somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

স্বাধীনতার মাস: ৩০ লাখ শহীদের ছেলেমেয়েকে কারা লালন পালন করেছে?

১১ ই মার্চ, ২০১৭ সন্ধ্যা ৭:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, কমপক্ষে ৬ কোটী মানুষ স্বাধীনতা চেয়েছিলেন; সবাই একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন, নতুন জীবন, সম্পদশালী জাতি, খেয়ে পরে সন্মানের সাথে বেঁচে থাকা; কেহ কি মরতে চেয়েছিলেন? কেহ কোনদিন মরতে চাহে না, যুদ্ধের মাঝেও প্রতিটি সৈনিক বিশ্বাস করে, সে বেঁচে থাকবে, এই কারণেই যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়। কিন্তু আমাদের যুদ্ধ শেষে ৩০ লাখ প্রাণ হারালেন; এঁরা নিজের জন্য প্রাণ হারাননি, স্বাধীনতার জন্য প্রাণ হারায়েছিলেন; এঁদের কি পরিমাণ ছেলেমেয়ে এতিম হয়েছিল, এসব এতিম ছেলেমেয়ের লালন, পালন, পড়ালেখা কার উপর অর্পিত হয়েছিল?

শহীদের সংখ্যা কত, এই নিয়ে কোটী কোটী বাক্য বিনিময় হয়েছে, কোটী মানুষ তর্ক করেছে; কিন্তু এই বাচ্ছাগুলো নিয়ে কেহ একদিনও মাথা ঘামায়নি; যে সমস্যার সমাধান দরকার ছিল জাতীয়ভাবে, সেটা কখনো মাথায়ও আসেনি, যেটা বাস্তবিক সমস্যা নয়, সেটা নিয়ে জাতি অনেক মগজ খরচ করেছে।

আপনারা যদি পারেন, কারো কাছে যদি থাকে, ১৯৭২ সালে সরকারের বড় কর্মকর্তা, বা প্রশাসনের কেহ কোন শহীদের বাচ্ছাকে কোলে তুলে নিয়ে, বাচ্ছাকে, বা বাচ্ছার মাকে শান্ত্বনা দিচ্ছেন এই রকম ছবি থাকলে ব্লগে পোস্ট করবেন। এই রকম দৃশ্য আমার চোখে পড়েনি; সরকার এদেরকে মানুষ করার জন্য কোন আইন পাশ করেনি।

যুদ্ধের পরদিন থেকে আজ অবধি, অনেকেই লেখেন, "যুদ্ধ বিধ্বস্ত বাংলাদেশে কিছু ছিলো না"; এই বাক্যটা যারা লিখেছিলেন, ও লিখেন, বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে তাদের সম্যক ধারণা নেই; বাংলাদেশ যুদ্ধে এত কম ক্ষতি হয়েছিল যে, স্বাধীনতার তুলনায় সেটা হিসেবের মধ্যেই পড়ার কথা নয়।

তখন আমরা বিরাট স্বপ্নে বিভোর থাকায়, বিশাল পরিমাণ মৃত্যু আমাদের মনের উপর কস্টের ছায়া ফেলতে পারেনি; আজকে, ৪৬ বছর পর, লেনদেন হিসেব করলে, সহজেই ধরা পড়বে যে, আমরা অসংখ্য প্রাণ হারিয়েছি; এবং যারা প্রাণ দিয়েছিলেন, তাদের রেখে যাওয়া ছেলেমেয়েদের প্রতি আমরা আমাদের দায়িত্ব পালন করিনি।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০১৭ রাত ৮:৫৩
১৯টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিএনপি একটি বেঈমান আর গাদ্দারদের দল।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫০

‘বিএনপি ৭৫এর যোদ্ধাদের রক্ষা করেনি, ২৪ এর যোদ্ধাদেরও রক্ষা করবে না।’ ...বাকিটুকু পড়ুন

এলপিজি কার্ডে সংকট কমবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:১৬


অনেক হতাশার মধ্যেও মাঝেমধ্যে সরকারের কোনো ভালো উদ্যোগের খবর দেখলে ভালো লাগে। অন্তত মনে হয়, সাধারণ মানুষের কষ্টের জায়গাগুলো নিয়ে সরকার কিছুটা হলেও ভাবতে শুরু করেছে। তেমনই একটি খবর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×