
আমাদের চারিপাশের বিশ্ব মেটেরিয়েল থেকে তৈরি, মেটেরিয়েলের প্রাকৃতিক বিবর্তনই প্রাণ ও জীবনকে ধারণ করার মত উপযুক্ত পরিবেশের সৃষ্টি করেছে; প্রাণীর মাঝে মানুষই সবচেয়ে বুদ্ধিমান হয়েছে কালক্রমে; বুদ্ধির চর্চা করতে হয়, নতুবা জন্মের সময়ে প্রাপ্ত মানুষের সাধরণ জেনেটিক বুদ্ধির লেভেলেই থেকে যায় মানুষ।
শিক্ষা হলো মানুষের সন্চিত লব্ধ জ্ঞানকে আয়ত্ত করার ও উহাকে সম্প্রসারণ করার প্রয়াস; যারা শিক্ষা পায়নি, তারা মানুষের হাজার হাজার বছরের লব্ধ জ্ঞানের সুক্ষতা থেকে বন্চিত হয়ে থাকে; অশিক্ষিতদের যে জ্ঞান থাকে না, তা নয়, সময়ের তুলনায় তাদের জ্ঞানের সুক্ষতা থাকে না। অশিক্ষার অন্য পাশ্ব-প্রতিক্রিয়া হলো, ভুল ধারণাকে জ্ঞান হিসেবে ধারণা করা; যেমন এস্ট্রোলোজী ও ধর্মকে ফিলোসফির অংশ হিসেবে ভাবা।
প্রতিটি বড় ধর্মের উৎপত্তি হয়েছে রাজতন্ত্রের সময়; সেই সময়ে মেটেরিয়েল ও পরিবেশ সম্পর্কে মানুষের ধারণা ছিল সীমিত; যেমন, ৩ হাজার বছর পুর্বেও মানুষ তামা ও লৌহ ব্যবহার করেছে; কিন্তু তারা তামার কন্ডাকটিভিটি গুণ সম্পর্কে জানতো না, বা লোহা থেকে ইস্পাত তৈরি করতে জানতো না। এখনো অনেক জাতি আছে, যারা তামা থেকে কম্প্যুটারের মাদার বোর্ডের সুক্ষ কন্ডাক্টরের নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারে না, বা লোহা থেকে ইস্পাত তৈরি করতে পারে না। যারা ধর্মীয় ভাবনায় মানব জীবনকে ব্যাখ্যা করেন, তারা হাজার বছর আগের সীমিত লব্ধ জ্ঞানের আলোকেই ব্যাখ্যা করছেন।
বিশ্বে যদিও প্রায় ৬০/৭০ ভাগ মানুষ ধর্মে বিশ্বাস করেন, কিংবা ধর্মের ট্রেডিশন পালন করেন, আসলে ইউরোপ, আমেরিকা ও অষ্ট্রেলিয়া মহাদেশের মানুষেরা ধর্মীয় ভাবনা ও মেটেরিয়াল জ্ঞানকে ভিন্নখাতে নিয়ে গেছেন। আধুনিক মানব জীবন সায়েন্স ও লজিকের ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে; লজিক্যাল ভাবনা মানুষকে পরিবেশের সাথে তাল মিলায়ে উন্নত জীবনের সন্ধানে সাহায্য করছে।
মুসলমানেরা সীমিত জ্ঞানের যুগের জীবনধারাকে এখনও মেনে চলছেন, ও নতুন ভাবনাকে সীমিত জ্ঞানের যুগের জীবনধারার পদ্ধতির সংস্করণে পরিণত করছেন; ফলে পুরাতন জীবন পরিক্রমা থেকে কিছুতেই বের হতে পারছেন না; ফলে, বিশ্বের সাথে তাল মিলাতে পারছেন না।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৭ সকাল ১০:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



