
বাংগালীরা কলিকাতার মানুষের খাবারের পরিমাণ ও খাবারের পদের সংখ্যা নিয়ে অনেক কৌতুক করেন; কলিকাতার লোকেরা বাংগালীদের রোগ নিয়ে হাসাহাসি করেন; এখন দরিদ্র বাংগালীরাও চিকিৎসার জন্য কলিকাতা যাচ্ছেন, কলিকাতাবাসী তা জানেন। কতটুকু খাবার সুস্বাস্হ্যের জন্য দরকার, সেটা নিউট্রিশানিষ্টরা জানেন; তবে, সাধরণভাবে অবজারবেশন করলে, বাংগালীর খাবারের পরিমাণ অনেক বেশী, অখাদ্য খাবারের পরিমাণ বেশী, এবং সামানুপাতিক হারে বিষাক্ত খাবারের পরিমাণ বেশী।
একজন বাংলাদেশী বছরে গড়ে ২১০ কিলোগ্রাম চাউল খেয়ে থাকেন, সেখানে ভারতের চাউলভোগী এলাকায়, মাথাপিছু চাউল খেয়ে থাকেন গড়ে ৭০ কিলোগ্রাম। ভারতের পশ্চিম বংগের মানুষই আসলে সবচেয়ে বেশী খেয়ে থাকেন, তারপর বিহার ও হায়দরাবাদ। বাংলাদেশের মানুষ কলিকাতাকে নিয়েই হাসাহাসি করেন, দিল্লীর লোকদের খাবারের পরিমাণ শুনলে বাংগালীরা বলবে যে, ভারতে দুর্ভিক্ষ চলছে।
বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত পরিবার ভারতীয় সমশ্রেণীর পরিবার থেকে গড়ে ৩ গুণ বেশী খাবার পাক করে থাকে পরিবারে; এসব পরিবারে গড়ে ৫ পদ খাবার থাকে; ভারতীয় মধ্যবিত্ত পরিবারে গড়ে ৩ পদ খাবার থাকে; ঢাকা ও চট্টগ্রামে বেশীরভাগ মধ্যবর্তী পরিবার আসলে দিনে ৫ বার খেয়ে থাকে, ভারতে উহা ৩ বার, খুবই সামান্য সংখ্যাক পরিবার সাড়ে ৩ বার খেয়ে থাকে। ভারতীয় মধ্যবিত্তের খাবারে দুধ বা দই সব সময় থাকে, বাংগালী মধ্যবিত্ত পরিবারে ইহা খুব একটা দেখা যায় না।
ভারতীয় ধনী পরিবারের তুলনায় বাংলাদেশের ধনী পরিবারে ৪ গুণ বেশী খাবার তৈরি করে; বাংলাদেশের ৮০ ভাগ ধনী পরিবারের খাবার প্রস্তুত করে চাকরাণী, ঝি, পাচকেরা; ভারতীয় ধনী পরিবারগুলোর খাবার ও ভারতের মধয়বিত্ত পরিবারের মাঝে খাবারের পার্থক্য খুব একটা বেশী নয়, ওদের পার্থক্য হচ্ছে বিত্তে।
ভারতীয় দরিদ্ররা বাংগালী দরিদ্রদের চেয়ে অর্ধেক খায়, কিন্তু এদের খাদ্যে বেশী সব্জি থাকে ও এরা বেশীর ভাগ খালি রুটি খায়; সেইদিক থেকে ওরা কম কিন্তু অধিক স্বাস্হ্যকর খাবার খায়।
বিশ্বে এখন বাংগালী ও চীনারা বতিত কেহ জেনেশুনে খাবারে ভেজাল ও বিষাক্ত দ্রব্য মিশায় না, ব্যবহার করে না।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:০৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




