
সাম্প্রতিক সময়ে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের এক টেলিফোন আলোচনাকে কেন্দ্র করে, আমেরিকান হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ'এর স্পীকার, নেনসী পলোসি ট্রাম্পকে ইমপিচ করার চেষ্টা করছেন। টেলিফোনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০০ মিলয়ন ডলারের অস্ত্র দেয়ার কনফার্ম করছিলেন, একই সাথে ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে নির্দেশ দিয়েছেন, আমেরিকান প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ছেলের স্হগিত একটি মামলাকে পুনরায় চালু করতে। প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেনের ছেলে, হান্টার বাইডেন ইউক্রেনে গ্যাস কোম্পানীর পক্ষে আইনবিদ হিসেবে কাজ করে বেশ কয়েক মিলিয়ন ডলার আয় করেছে, ও সেখানে এক মামলায় পড়েছিলো; সেই মামলাটি আমেরিকান সরকারের চাপের মুখে অতীতে চাপা দেয়া হয়েছিলো। এখন সেটা চালু করলে, আগামী আমেরিকান ভোটে ইহার প্রভাব পড়বে; প্রাক্তন ভাইস প্রেসিডেন্ট বাইডেন আগামী আমেরিকান ভোটে ট্রাম্পের বিপরিতে ডেমোক্রেট দলের ক্যানডিডেট হবার বড় সম্ভাবনা আছে।
ডেমোক্রেট দলের লোকেরা বলছে যে, প্রেসিডেন্টে ট্রাম্প এই ধরণের নির্দেশ দিয়ে, আমেরিকার আইন ভংগ করেছে, তাকে কংগ্রেসে ভোট করে বাদ দেয়ার দরকার। বাদ দিতে হলে, হাইজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ ও সিনেটে এই ব্যাপারে ভোট হবে।
আমেরিকান কংগ্রেস (পার্লামেন্ট) হচ্ছে ২ কক্ষ বিশিষ্ঠ্ পার্লামেন্ট: প্রথনটি হলো, হাইজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ, এখানে ৪৩৫ সদস্য আছেন, অন্যটি হলো সিনেট, সেখানে ১০০ সদস্য। হাইজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভে ২৩৩ জন ডেমিক্রেট দলের সদস্য ও ১৯৭ জন রিপাবলিকান (ট্রাম্পের দল) দলের সদস্য আছেন; আর সিনেটে আছে, ডেমোক্রেটদের ৪৭ জন সিনেটর, রিপাবলিকানদের ৫৩ জন, ২ জন নিরপেক্ষ।
ট্রাম্প রিপাবলিকান দলের থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন; অতীতে ট্রাম্পের রাজনৌতিক কার্যকলাপ ছিলো না, তিনি রিয়েলষ্টেইট ব্যবসায়ী; আমেরিকানরা উনাকে নির্বাচিত করেছিলেন অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে, আমেরিকানরা রাজনীতিবিদদের উপর আস্হা হারায়েছেন বেশ কিছু কাল। ২০১্র৬ সালে, প্রাইমারীতে ( প্রার্থী হওয়ার দলীয় নির্বাচন) ট্রাম্প অনেক বড় বড় সিনেটর ও গভর্ণরদের পরাজিত করে দলীয় নমিনেশন পান। উনার নিজের দল উনাকে নমিনেশন না দেয়ার পক্ষে ছিলো; কারণ, তারা সবাই রাজনীতিবিদ, ট্রাম্পের রাজনৈতিক ব্যাক-গ্রাউন্ড ছিলো না।
নির্বাচনের পর, ট্রাম্পের বিপক্ষে অভিযোগ তোলা হয় যে, ট্রাম্প রাশিয়ানদের সাহায্য নিয়েছে নির্বাচনে; ইহা প্রমাণ করার জন্য একটি তদন্ত হয়; এই তদন্তে, ট্রাম্পের পক্ষের বেশ কয়েকজনের জেল হয়েছে ও অনেকের চাকুৈি চলে গেছে; কিন্তু ট্রাম্পকে সরাসরি দায়ী করতে পারেনি। তারপরও, ডেমোক্রেটরা তদন্তের রিপোর্টকে কেন্দ্র করা যায় কিনা তা দেখছিলো; হঠাৎ করে আবার টেলিফোনে এই ঘটনা ঘটেছে।
ট্রাম্পকে বাদ দিতে পারবে কিনা? না, বাদ পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তারপরও, নেনসি আশা করছে, যেসব রিপাবলিকান ট্রাম্পকে পছন্দ করে না, তারা হয়তো নেনসির পক্ষে আসবে। মনে হয়, সেই সম্ভাবনা কম।
ট্রাম্প টেলিফোনে যা বলেছে, কোন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট তা বলার কথা নয়; এতে সমস্যা হওয়ার কথা; কিন্তু সিনেটে ট্রাম্পের সিনেটর বেশী, এখান থেকে কেহ কি নেনসি'র পক্ষে যাবে? আরেকটা ব্যাপার, ট্রাম্প আগামী ভোটে বাইডেনকে যেই সমস্যায় ফেলটে চেয়েছিলো, সে সার্থক হয়েছে: অনেক আমেরিকান বলছে, বাইডেনের ছেলে কেন ইউক্রেন গেলো চাকুরী করতে, আমেরিকায় কি চাকুরীর অভাব আছে?
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৯ রাত ১০:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




