
এক:
আমি নিউইয়র্ক শহরে কাজ করার সময় সাবওয়ে ট্রেনে যাওয়াআসা করতাম, ট্রেনে ছোটখাট এটাসেটা ঘটে থাকে; ইহা ১ দিনের ছোটখাট একটা ঘটনা:
কাজ থেকে ফিরছি, ট্রেনে মোটামুটি ভীড়; দরজার কাছে দাঁড়ানোর জয়গা পেলাম; সামনে একটি আফ্রিকান আমেরিকান মেয়ে, স্মার্ট-ফোনে বুমবাম যুদ্ধ-যুদ্ধ গেইম খেলছে; আওয়াজও হচ্ছে, সিনারিও বদলাচ্ছে ঘনঘন; দেখতে না চাইলেও চোখ চলে যায় স্ক্রীনের দিকে; আমি অনেকটা বেখেয়ালভাবেই দেখছি। কিছুক্ষণ পরে, সে খেলা বন্ধ করে ই-মেইল চেক করছে; অভ্যাসবশত: আমার চোখ তার ফোনের স্ক্রীনেই আছে, ২টি শব্দই চোখে পড়লো ইংরেজীতে, " চুরি করেছ"; মনে হয়, হৃদয় চুরির কথাবার্তা হতে পারে। মেয়েটি ফোন ঘুরায়ে আমাকে প্রশ্ন করলো:
-তুমি আমার ই-মেইল দেখছ?
-হ্যাঁ, দেখছি।
-এটা কমনসেন্স যে, কারো ই-মেইল দেখতে হয় না; তুমি ব্যাকওয়ার্ড ধরণের লোক!
- ভীড়ের মাঝে, আমি তোমার পেছনেই স্হান পেয়েছি, চোখ অবশ্যই বন্ধ করে রাখিনি; আমার মনে হয়, কোথায় কি চুরিদারী করেছ, সেইসব ঘটনা নিয়ে ই-মেইল ইত্যাদি ট্রেনে খোলাটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়, ট্রেনে আন্ডার-কাভার ডিটেকটিভ মিটেকটিভ থাকে, আমি বললাম।
-তুমি চুরি ইত্যাদির কথা বলছে কেন? ২/১টা শব্দ পড়ে কি পুরো ইমেইলের অর্থ বুঝা যায়?
-২ শব্দ দেখতেই তুমি যেভাবে আক্রমণ করছ, পুরোটা পড়ার সুযোগ পেলাম কোথায়? পুরোটা পড়লে হয়তো তোমার সম্পর্কে ভালো ধারণা হতে পারতো!
দুই:
জ্যাকসন হাইটে ভারতীয় ও পাকিস্তানীদের স্বর্ণ-দোকানগুলোতে অনেক বাংগালী নারী কাজ করতেন; এঁরা কাষ্টমারদের সাথে বাংলাদেশের মতোই আচরণ করতেন, এটা একজন বাংগালী সেলস-পারসন'এর সাথে আমার ছোট ঘটনা:
আমার পরিচিত এক বাংগালী মহিলা পাকিস্তানী স্বর্ণের দোকান থেকে ১ জোড়া চুড়ি কিনেছেন; ২ মাস পরেই একটার জোড়াটা খুলে গেছে; উনি গিয়েছিলেন বদলায়ে আনতে, বদলায়ে দেয়নি; সেলস-পারসন নাকি বাংগালী মেয়ে। বেচারী আমাকে অনুরোধ করলেন চেস্টা করে দেখতে। দোকানে গেলাম, দেখি ২৩/২৪ বছরের বাংগালী নারী ক্যাশে; আমি অনুরোধ করলাম চুড়িটা বদলায়ে দিতে, রিসিপ্ট দিলাম; উনি বললেন,
-এটা রিপেয়ার করতে হবে, রিপেয়ারের খরচ দিতে হবে।
-২ মাসের ভেতরে ভেংগে গেছে, বদলায়ে নতুন একটা দেন, কিসের আবার খরচ?
-এটা তো আমরা ভাংগিনি, কাস্টমার ভেংগেছে!
-কাস্টমারও ভাংগেনি, এটা ভেংগে গেছে, পঁচা কোয়ালিটি।
বদলায়ে না দিয়ে উনি ভেতর থেকে মালিককে নিয়ে আসলন; মালিককে কি বলেছে কে জানে, মালিক বেশ অফ মুডে; আমার সামনে মহিলা মালিককে বলছে, কাস্টমার ছুড়ি ভেংগেছে, এখন বদল চায়।
আমি মহিলাকে বাংলায় বললাম:
-মালিককে যখন ডেকেই এনেছেন, আপনি চুপ করেন।
-আমি ষ্টোর চালাই।
-সেটা ভালো, চালাতে থাকেন; আপনি এখন কথা কম বললে ভালো হয়, আপনার দাঁতগুলো বেশ অপরিস্কার ও আঁকাবাঁকা, আপনি চুপ করে থাকলে আমি সহজে নিশ্বাস নিতে পারবো।
মহিলা পেছনে সরে গেলেন; পাকী মিয়া আমাকে হাইকোর্ট দেখানোর বৃথা চেস্টা করলো ২/৩ মিনিট; আমি চুপ করে শুনলাম; তারপর বললাম:
-শোন, কথা না বাড়িয়ে বদলায়ে দাও, এসব ব্যাপারে কোথায় যেতে হয়, সেটা আমি জানি; তখন অনেক ধরনের কথা এসে যাবে, কতটা স্বর্ণ, কতটা পিতল বিক্রয় করছ, তুমি নিশ্চয় এসব ঝামেলা চাও না?
লোকটা কথা না বাড়ায়ে একই মডলের আরেকটি চুড়ি বের করে দিয়ে দিলো।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০২১ রাত ৮:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




