
অষ্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, দুবাই, নিউজিল্যান্ড করোনার মাঝেও খেলতে পারে: ওদের সব নাগরিকের চাকুরী আছে, সবার ঘরে খাবার আছে, সবাই টিকা পেয়েছে; সব করোনা রোগী ফ্রি চিকিৎসা পাচ্ছে। ওদের সবকিছু থাকার পরও ওদের সামান্য পরিমাণ করোনা আছে, করোনা তাদেরকে হতাশ করছে; সেই হতাশা কাটিয়ে ওঠার জন্য, মনকে ভালো করার জন্য, দেশকে স্বাভাবিক অবস্হায় আনার জন্য তারা খেলতে পারে। কিন্তু আমাদের প্রায় ১.৫ কোটী পরিবারের চাকুরী নেই, খাবার নিয়ে টানাটানি, টিকা আগামী ১ বছরেও পাবার কোন সম্ভাবনা নেই; এই অবস্হায় আমাদের কি এই অসম অবস্হানের লোকদের সাথে খেলার কোন যুক্তি আছে?
শেখ হাসিনা ও দেশের প্রেসিডেন্ড যখন আজকের দিনে খেলা দেখছেন, তখন কমপক্ষে ৩০০ পরিবার তাদের আপনজনকে কবর দিয়েছেন; এই খেলার কি খুব দরকার ছিলো? কি হচ্ছে দেশে? দেশের এই পরিস্হিতে আমরা কি অষ্ট্রেলিয়া, আমেরিকা, নিউজিল্যান্ডের মতো অবস্হানে আছি?
অষ্ট্রেলিয়ার সাথে না খেলে, নিজেদের মাঝে দেশে ২/৩ দিন খেলে যদি প্রেসিডেন্ট বা প্রাইম মিনিষ্টারের ফান্ডে দান সংগ্রহ করতো, এবং সেই টাকায় গরীব মানুষদের খাবার দিলে কি ভালো হতো না?
অলিম্পিক হচ্ছে, তাই বলে তাদের সাথে আমাদের কি নাচা উচিত? এই করোনার মাঝে কি জাপানাের কেহ না খেয়ে আছে? আমেরিকা, চীন, জাপান ও ইউরোপ খেলছে; করোনার মাঝে তাদের জীবন থেমে নেই; তারা সবাইকে খাবার মতো টাকা দিচ্ছে; সবাইকে ফ্রি চিকিৎসা দিচ্ছে; অক্সিকেনের অভাবে, হাসপাতালে সীটের অভাবে কেহ মরেনি; সেসব দেশে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তারা সবাই সর্বাধিক চিকিৎসা পেয়েছে। তারা খেলতে পারে; আমরা কিভাবে খেলতে যাচ্ছি?
আপনারা যারা বিজয়ে পুলকিত হয়েছেন, তারা নিশ্চয় দেশ-প্রেমিক, জাতির জয়ে আনন্দিত; আজকে যাঁরা জয় দেখেছেন, তাঁদের মাঝ থেক কয়েক হাজার প্রান হারাবেন বিনা টিকায়, বিনা চিকিৎসায়, বিনা অক্সিজেনে। অষ্ট্রেলিয়ার সাথে এই সময়ে খেলে আমরা কি তাদের সমানভাবে আনন্দিত হওয়ার অবস্হানে আছি?
নিজেদের মাঝে খেলে, একটা ফান্ড যোগাড় করার দরকার ছিলো!
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০২১ সন্ধ্যা ৬:১৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



