
ইসরায়েল দেশটা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ইহুদীদের জন্য; কিন্তু উহা মুসা নবীর (আ: ) তোরাহ, আর তালমুদের ভিত্তিতে না চালিয়ে, সাধারণ মানুষের লিখিত সংবিধান অনুসারে চালানো হচ্ছে; তারপর, আবার বলা হচ্ছে, দেশটা ধর্মনিরপেক্ষ! তাদের নবী ছিলেন অনেক অনেক দক্ষ মানুষ, সেই ফেরাউনদের রাজ্যে বড় পদে ছিলেন, বই লিখে গেছেন; সেইসব বই প্রতিদিন পড়া হচ্ছে, সেইসব বই অনুসারে উপাসনা করা হচ্ছে ঘরে, সিনাগগে; কিন্তু জাতির সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান বলছে, উহা ভালো, তবে দেশ চালানোর মতো নয়। ওরা কি তালেবানদের চেয়ে কম বুঝে, ইরানীদের চেয়ে কম বুঝে?
ইসলাম ধর্মানুসারে আফগানিস্তান চালাচ্ছিলো তালেবানরা, সারা বিশ্ব কেন ওদের বিপক্ষে চলে গেলো ১৯৯৭ সালে? আজকে ওদের নিজের দেশ নিজেরা আফগান সরকার থেকে দখল করার পর, সারা বিশ্ব কেন তাদের বিপক্ষে কথা বলছে? তাদের নিজের মানুষ কেন তাদের ভয়ে পালাতে গিয়ে মারা যাচ্ছে? ইসলাম ধর্মানুসারে বিচার আচার চলে আসছে সৌদীতে, বিশ্বের কেহ কেন উহা পছন্দ করে না? কেন সারা বিশ্ব ইসলামিক নিয়মের বিপক্ষে? ইসলাম ভালো দেখে তারা কি ইর্ষাপরায়ন? সৌদী, ইরানী, আফগানী মুসলমানেরা বলছে যে, স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা আমাদের জন্য আইন-কানুন পাঠায়েছেন, এরপর কেন তারা ড: কামাল হোসেনের লেখা (সংকলিত ), কিংবা টমাস জেফারসনের লেখা দিয়ে দেশ চলবে!
ভারতও ধর্মনিরপেক্ষ দেশ; তারা নিজেদের জন্য নিয়মকানুন লিখে নিয়েছে; মোদী আসার আগ অবধি সারা বিশ্ব ভারতের পার্লামেন্টারী সিষ্টেম পছন্দ করেছে! মোদীর সময় "অলিখিতভাবে ধর্মীয়" নিয়ম কানুন যখন চালু করছে, ভারতের অনেক মানুষ উহার বিরোধীতা করছে, বিশ্ব নাখোশ, এমন কি বাংলাদেশের চাষী, মুজুরেরাও নাখোশ! ব্যাপার কি! বেদবাক্যানুরেসারে, রামের জীবনের মতো করে, মহাভারতের উদাহরণ অনুযায়ী দেশ চালালে বাংলাদেশের বাংগালীরা কেন ক্ষেপছে?
বাংগালীরা মুসলমান, তারা কেন কোরান, হাদিস অনুসারে দেশ চালনার বিপক্ষে? মনে হয়, বাংগালীরা ড: কামাল হোসেনের লেখা নিয়মকানুনকে খোদার দেয়া নিয়মকানুন থেকে বেশী পছন্দ করেন? ইহা কি হওয়া উচিত?
মানুষ বুঝতে পেরেছে যে, তোরাহ-তালমুদে, কোরান-হাদিসে, বাইবেলে, বেদে, ত্রিপিটকে যেসব নিয়মকানুন অনুসারে জীবন চালানোর কথা বলা হয়েছে, উহা আজকের মতো বিশ্বে পুরোপুরি অচল; আজ থেকে ২/৩ হাজার বছর আগে, যখন মানুষ পড়ালেখা জানতেন না, দেশ চালাতো জমিদার, সামন্ত রাজা, বড় রাজারা, যখন নিয়মকানুষ মানুষের পক্ষে ছিলো না, তখন ধর্মীয় নিয়মকানুন গুলোকে অনেক দামী মনে হয়েছিল, আজকে মানুষ তার থেকে বেশী প্রয়োজনীয় নিয়ম কানুষ লিখছে, যা মানুষের জীবনকে উন্নত করছে; আগের মানুষ অনেক কষ্টে ছিলো, সভ্যতা পেছনের দিকে যেতে পারবে না; উহা ক্রমেই আরো ভালো দিকে যাচ্ছে, মানুষের জীবনভাবনা ধর্মীয় বইগুলো থেকে উন্নততর।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০২১ দুপুর ১২:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


