somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অচেনা পাপ

২০ শে আগস্ট, ২০২১ সকাল ১১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমরিকার ভার্জিনিয়া রাজ্যে একজন মৃত্যুপথযাত্রী ১৭ বছরের ক্যান্সার রোগীকে, হাসপাতেলের ১ নার্স একজন পতিতার সাথে থাকার ব্যবস্হা করে দিয়েছিলেন। তরুণের মৃত্যুর পর, তরুণের মাতাপিতা নার্সটির বিরুদ্ধে এইমর্মে মামলা করে যে, নার্সটি তাদের ছেলেকে পাপের পথে নিয়ে, তার বেহেশতে যাবার পথ বন্ধ করে দিয়েছে। মামলার রায়ে নার্সকে নির্দোষ ঘোষণা করা হয়; এখানে আমি সেই কাহিনীটি ছোট আকারে লিখেছি:

মিশেল নামে এক বিবাহিত নার্স ভার্জিনিয়ার এক হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগে চাকুরী করতেন; তিনি রাতের বেলায় কাজ করতেন। এক সন্ধ্যায় তিনি ৯ টার দিকে কাজে এলেন; দেখেন, নার্সিং স্টেশনে কেহ নেই, সবাই রুমে রুমে কাজে ব্যস্ত। ভিজিটরেরা চলে গেছে, ভিজিটর রুমে টিভি চলছে; নতুন রোগী এনড্রু টিভি দেখছে একা; মিশেল এনড্রুকে হ্যালো বলে, নার্সিং স্টেশনে খাবারের ব্যাগটা রেখে রোগীদের রুমের দিকে গেলো, কোন ইমারজেন্সী আছে কিনা দেখার জন্য। এই সময় ২ জন না্র্স থাকার কথা; দেখলো, একরুমে ন্যান্সী ১ জন রোগীকে খাওয়ায়ে দিচ্ছে; অন্য আরেক রুমে আরেক রোগীর গা মুছিয়ে দিচ্ছে সুজান। সে নার্সিং রুমে ঢূকলো কাপড় বদলায়ে তৈরি হতে।

কাপড় বদলানো সময়, সামনের আয়নায় এনড্রু'র প্রতিবিম্ব দেখলো মিশেল; এনড্রু পেছন থেকে তাকে দেখছে; সে পেছনে না তাকিয়ে কাপড় বদলালো; এনড্রু সরে গেছে; সে বেরিয়ে আসলো; এনড্রু নিজের রুমে চলে গেছে। মিশেল, নার্সিং লগে রোগীদের রিপোর্টে চোখ বুলিয়ে নিলো ২ মিনিটে।

ছোট শহরের এই ছোট হাসপাতালে ক্যান্সার রোগীদের জন্য মাত্র ১২টা সিট, এখন ৭ জন রোগী আছে। এনড্রু এসেছে ৪ দিন হলো; তার ব্রেনে ক্যান্সার টিউমার; ৬ মাস আগে একবার সার্জারী করে সরানো হয়েছিল; আবার ফিরে এসেছে; সার্জারি হবে তিন দিন পর, শক্তিশালী ব্যাথার ঔষধ দিয়ে রাখা হয়েছে; সে অনেকটা ঘোরের মাঝে থাকে।

ন্যান্সীর ডিউটি শেষ, চলে গেলো রাত সাড়ে ৯ টায়; মিশেল রোগীদের দেখার জন্য বের হলো; সবার রুম ঘুরে, শেষে এনড্রু'র রুমে এলো; রুমের ভেতরে লাইট নেভানো, বাইরের আলোয় সব দেখা যায়, এনড্রু শুয়ে আছে, ঘুমায়নি। মিশেল কাছে গিয়ে দাঁড়ালো, এনড্রু উঠে বসলো।
-এনড্রু কেমন আছো, ব্যাথা আছে?
-সামান্য, সুজান ওষধ দিয়েছে ঘন্টা খানেক আগে!
-ভালো, তোমার ভিজিটরদের মাঝে কোন মেয়ে দেখলাম না, তোমার গার্লফ্রেন্ড আছে?
না, গার্লফ্রেন্ড নেই; আমাদের পরিবারটা বেশ ধর্মীয় ধরণের; ক্লাশের একটা মেয়ের সাথে পরিচয় আছে; ক্যান্সার শুনে সে ভয় পেয়েছে।
-স্বাভাবিক, ক্যান্সার সম্পর্কে অনেক মানুষের ভুল ধারণা আছে। তুমি কোন মেয়ের সাথে ঘুমায়েছিলে কখনো?
-না, মা বলেছে পাপ হবে। এনড্রু বেড থেকে উঠে দাঁড়ালো, জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়ালো, মিশলকে প্রশ্ন করলো,
-মিশেল, আমি বাঁচবো?
-এটা কি একটা প্রশ্ন হলো? তুমি শত বছর বাঁচবে; সার্জারীটা হয়ে গেলে তুমি মুক্ত।

এনড্রু দু'হাত বাড়িয়ে মিশেলকে বুকে টেনে নেয়ার জন্য সামনে এলো, কাছে এসে থেমে গেলো। মিশেল বললো,
-এনড্রু, যদি কোন মেয়ে তোমাকে দেখতে আসে, তুমি খুশী হবে?
-আমাকে দেখতে আসার মতো কোন মেয়ে তো নেই; কেহ এলে অনেক খুশী হবো, মনে হয়।
-আগামীকাল রাতে একটা মেয়ে আসবে তোমাকে দেখতে, কাউকে বলো না; মেয়েটাকে তোমার সাথে রাতে এখানে থাকার জন্য অনুরোধ করিও; আমি সুজানকে বলে যাবো; কালকে আমার ছুটি।

এনড্রুর কাছে দিনটা অনেক লম্বা মনে হলো; সন্ধ্যায় মা-বাবা আসলো, খাবার এনেছে; কিন্তু এনড্রু মনে মনে কোন এক অজানা ভিজিটরের জন্য উৎগ্রীব। মা বললো,
-এনড্রু, তোমার খারাপ লাগছে?
-না, আমি আজকে অনেক ভালো।

আটটার মাঝে সব ভিজিটর চলে গেলো, এনড্রু অজানা কোন ভিজিটরের জন্য টিভি রুমে বসে রলো। সাড়ে ৮ টার দিকে সুজান টিভি রুমে ঢুকলো, বললো,
-এনড্রু, তোমাকে দেখার জন্য একটা মেয়ে এসেছে, নাম জেনি, সে তোমার রুমে গেছে।

এনড্রু জীবনে এতো সুন্দর কোন মেয়ের সাথে কথাও বলেনি, সে কিছুটা অপ্রস্তুত; মেয়েটা এনড্রুকে বুকে টেনে নিলো; তারপর বললো,
-এনড্রু, তুমি শীগ্রই ভালো হয়ে যাবে, তুমি খুবই সুন্দর।

মেয়েটি একটি ব্যাগ থেকে ছোট একটা চীজ-কেক ও একটি ফ্লাক্স বের করে, ২টি কাপে কফি ঢাললো। এনড্রু খুবই খুশী হয়ে বললো,
-তুমি কি করে জানো, আমি চীজ-কেক পছন্দ করি?
-মিশেল বলেছে।

মেয়েটি নিজেই রুমের দরজা বন্ধ করে দিলো, জানালা দিয়ে আলো এসেছে; ২জনে বসে কফির সাথে চীজ-কেক খেলো; মেয়েটি নিজের জীবনের গল্প করলো, শেষে বললো,
-রাতে আমি তোমার সাথে থাকবো, তুমি যেন নিজকে একা না ভাবো।
-তোমাকে সারারাত থাকতে দিবে?
-মিশেল সেই ব্যবস্হা করেছে।



সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০২১ সকাল ১১:৫৯
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিপ্লবের শরিকরা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৪১

যারা বিপ্লব আনে, তারা বিপ্লব টেকায় না। যারা বিপ্লব টেকায়, তারা শরিকদের টেকায় না। ১৯৭৯ সালে ইরানে খোমিনি ক্ষমতায় এসেছিল বামদের কাঁধে চড়ে। কমিউনিস্ট, সেকুলার, নারীবাদী—সবাই শাহের বিরুদ্ধে এক কাতারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ ভ্রম

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৩



চোখ বন্ধ করলেই আমি ধোঁয়া দেখি। ঘন, ধূসর ধোঁয়া। যেন কেউ ভেজা কাঠ জ্বালিয়েছে। তার সঙ্গে মিশে থাকে পোড়া কাপড়ের গন্ধ। কখনও মনে হয় প্লাস্টিক, কখনও মনে হয় পুরোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড় আমি ভালোবাসি

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩

পাহাড় আমি ভালোবাসি
...........................................



চললাম তবে তোমার সাথে,
হাতটি রেখে হাত বাড়াতে।
পিছুটানের বাঁধন ছিঁড়ে,
হারাবো ওই মেঘের ভিড়ে।

পাহাড় চূড়ায় রোদের হাসি,
শুনছো ! তোমায় ভালোবাসি।
চলবে নদী আপন বেগে,
নতুন কোনো আশার মেঘে।

ইচ্ছেগুলো পাক না ডানা,
আজকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

"তোমরা আমাদের মানুষদের কেন খুন করলে?"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০১

জাপানের মানুষেরা আজও বুঝতে পারে নাই, কেন তাঁদের ছেলেমেয়েদের এভাবে হত্যা করা হলো। সেই দেশের মুরুব্বীরা এখনো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরেন। আক্ষেপ করেন। আমার বোনের জামাই জাপানে পোস্ট ডক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×