
৪০ শতকে বাংগালী শক্ত লেখক, সৈয়দ মুজতবা আলী সাহেব 'ওয়াতনম' গল্পটি লিখেছিলেন; আমরা ৬০ দশকে স্কুলের পাঠ্য বইয়ে পড়েছি; আফগানিস্তানের কোন এক পাঠানের দেশপ্রেম দেখে উহ: আঃ করেছি, ও আমাদের দেশে গ্রামে গ্রামে কাবুলীওয়ালাদের দেখে মন খারাপ করেছি, বেচারারা জীবিকার জন্য স্ত্রী, পরিবার-পরিজন ফেলে বাংলার মাটিতে পিঠে বিরাট বোঝা টেনেটুনে হকারী করছে গ্রামে গ্রেমে; যেখানে রাত, সেখানে কাত।
১৯৭৩ সাল অবধি, আফগান নারীরা ছিলো বিশ্বের সবচেয়ে দু:খী নারী, এরা স্বামীর দেখা পেতেন না; স্বামীরা বিদেশে, "কাবুলীওয়ালা": পাকিস্তান, ভারত, ইরান, সিরিয়া, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তানের রাস্তায়, এরা সুদখোর "কাবুলীো্যালা"। কেহ কেহ প্রতি বছর দেশে যেতো, ২/১ মাস পরিবারের সাথে থাকতো, অনেকে ২/৩ বছরও দেশে যেতে পারতো না। '৭৩ সালে থেকে নারীদের ভাগ্য বদলাতে শুরু করলো, জাতি দেশের রাজা, জহির শাহ'কে ক্ষমতাচ্যুত করেছে, আগের থেকে ভালো থাকতে চেষ্টা করেছে, দেশকে 'প্রজাতন্ত্র' করেছে। কিন্তু দেশে অশান্তি, স্বামীরা স্ত্রীকে ফেলে যে বিদেশে যাবে সেই অবস্হা রলো না।
আজকে ১ সপ্তাহ দেখছেন, কিভাবে এই পাঠানেরা পালাচ্ছে; শুধু গতকালই, এয়ারপোর্টে ঢুকতে গিয়ে ৭ জন পায়ের তলায় পড়ে নিহত হয়েছে; এর আগে ২ বার চলন্ত সামরিক বিমানে উঠতে গিয়ে ১২ জনের প্রাণ গেছে। আমেরিকা ও ইউরোপ মিলে, প্রায় সোয়া ১ লাখ কাবুলীওয়ালাদের নিয়ে যাবে রিফিউজী হিসেব। আমেরিকা যারা আসবে, তারা লিগ্যালী আসবে, এদের আর ফেরত যেতে হবে না। এরাই ছিলো দেশের মোটামুটি শিক্ষিত অংশ; এরা পালিয়ে গেলে বন্যদের থামাবে কে?
সৈয়দ মুজতবা আলী সাহেব কি ভুল দেখেছিলেন, নাকি আমরা ভুল দেখছি? আসলে, উনি ভুল দেখেননি, উনি সঠিক পাঠান সমাজ দেখেছিলেন, আমরা যাদেরকে চলন্ত সামরিক বিমানে উঠার জন্য দৌঁড়তে দেখছি, এটাও চলমান ঘটনা থেকে, এটাও আসল ঘটনা; মাঝখানে কি ঘটলো? মাঝখানে আফগানীরা পাকী, আরব, সেসনিয়ান, ইরানীনের সাথে মিশেছে; ২০/২২ জংগী সংগঠন আফগানীদের আফিম চাষী থেকে হিরোইন ব্যবসায়ী ও ধর্মের নামে জংগীতে পরিণত করেছে। আজকে একাংশ নিজের দেশ দখল করছে চেংগিস খানের কা্যদায়, আরেক অংশ চলন্ত বিমানের চাকার সাথে নিজকে বেঁধে দেশকে থেকে পালাচ্ছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে আগস্ট, ২০২১ বিকাল ৪:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


