একসময় নটি বয় শু পরার বয়স শেষ হয়ে এলো। ফুল হাতে ছবি তোলা অথবা ভাইয়ের কাঁধে চড়ে বেড়ানোর সময় পার হয়ে বয়স হলো ছয়। আমার লাল নীল স্ট্রাইপ দেয়া জামাটা হাঁটুর উপরে উঠে এলো একসময়। এবার স্কুলে যেতে হবে। আমার মা তখন গ্রামের বাড়ি থাকতেন। ঠিক হলো আমি আর আমার বাবা শহরে থাকবো। একসময় স্কুলে ভর্তি হলাম। স্কুলের নাম নোয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। প্রধানসড়কের পাশে ফুলের দোকান পেরিয়ে অল্প পুর্বে যেতে হয়। স্কুলের সামনে ছিল সার্কিট হাউজের লাল শাপলা ফোটা পুকুর। সার্কিট হাউজ ঘিরে পরিখার মতো করে কাটা ছিলো পুকুরটি। এই বর্ষায় নির্ঘাত জল থইথই করছে। আজ সকালের মতো বৃষ্টিতে কুমারী মেয়ের মতো দুলছে জলজ ফুলগুলি।
ভর্তি পরিক্ষার দিনের স্মৃতি মনে পড়ছে। আজ সেই গল্পটাই করা যাক। আমার মেজভাই আমাকে হলে বসিয়ে দিল। হাবুরাম আমি অবাক হয়ে চারদিক দেখছি । ওমা! আমার মতো কতো মেয়ে! কি সুন্দর তারা দেখতে! আমার পাশে বসা মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে তার মাকে ডাকছিলো..ওআম্মুগো ওআম্মুগো..! আমি ভাবলাম- মেয়েটা কি বোকা! আম্মু তো বাড়ি থাকে। আম্মুকি এখানে আসবে? ওর আসলে আব্বুকে ডাকা উচিত!
হঠাৎ আমার পাশে বসা মেয়েটা কাঁদতে কাঁদতে ভয়ে প্রসাবই করে দিল । আর আপা এসে তাকে দিল এক রাম ধমক। সাথে সাথে সব চুপ। আমি তো ভয়ে একশা। বাবারে! কি দার্জিলিং বেটি!!
স্বরবর্ণ ব্যাঞ্জনবর্ণের গোলক ধাঁধাঁ পেরিয়ে আমি একসময় লেখা শেষ করলাম। আরো কিকি যেন বাকি ছিলো । আমি কি ছাই বুঝি এতো কিছু? ঘন্টা পড়তেই বকুনি আপাকে তাড়াতাড়ি খাতাটা দিয়ে নিচে নেমে এলাম। ওরে সর্বনাশ! পুরো মাইজদী জেলা শহর নিচে দাঁড়িয়ে আছে। আমি তো আবার বোঁচা বনে গেলাম। ভাগ্যিস আমি আমার ভাইয়ের মুখটা চিনি। নইলে যে কি হতো! ‘সব দিছোস?’ আমি মাথা নাড়লাম। তারপর আমার মেজ ভাইয়ের সাইকেলে চড়ে চলে এলাম বাড়িতে। হোম সুইট হোম!
ঐ ভর্তি পরিক্ষায় আমি নবম স্থান লাভ করি। ১৯৯১ সালের কথা। আমি তারপর প্রথম শ্রেণীতে ভর্তি হলাম। রোল নম্বর ২২। প্রভাতি শাখা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


