আমি তখন প্রথম শ্রেণী, আমি তখন ১৬- থুড়ি! আমি তখন ৬, আদর করে বড় আপুরা মিষ্টি বুড়ি কয়। বাসে করে স্কুলে যাই বাসে করে আসি, স্কুলটাকে আমি তখন ভীষণ ভালোবাসি। জিলা স্কুলের সামনে দিয়ে বাসটা যখন যেত, বড় আপুদের খুশি দেখে ভীষন মজা হতো। (তারা) উঁকি মারে ঝুঁকি মারে, মারে হাসির ঢিল, কোনো ছেলের পড়লে নজর তুলে দেখায় কিল। আমি তখন অনেক ছোট আমি তখন ছয়, হাঁটুর কাছে দাঁড়িয়ে ভাবি এমন কেন হয়? (ছেলেরা)স্কুলে গেলে ভেংচি কাটে, ‘জেঠা স্কুল’ ডাকে,আবার সেই ছেলেদের দেখলে তারা (আপুরা) অবাক চেয়ে থাকে! কোন ছেলেটা লম্বা বেশি কোন ছেলেটা জোশ, কোন ছেলেটা মেধায় ভালো কোন ছেলে চোস্ত! কোন ছেলেটা রোমিও ভারি কোন ছেলেটা বেঁটে, কোন ছেলেটা ডেটিং করে রোডে হেঁটে হেঁটে। এই নিয়ে তো ভীষন আলাপ, আমি কেবল শুনি, কবে যে ছাই বড় হবো এই আশায় দিন গুনি। হাঁটুর কাছের বয়স নিয়ে হলো ভীষণ জ্বালা, কবে জানি আসবে আমার ডেটিং করার পালা। আমিও অনেক বড় হবো বড়আপুদের মতো, হেসে হেসে করবো ডেটিং অফার আসবে কত!
অফার আমার আসলো যখন বয়স হলো ১২, মাদ্রাসার এক ছেলে (ওসমান) লিখলো আমায় বিয়ে করো। আমার তখন ভীষন দাপট,আল কায়েদা পড়ি, রোজ সকালে সব ছেলেদের আরবী পড়া ধরি। এতো বড় সাহস ছেলের আমায় করবে বিয়ে, আজই তোকে বেত খাওয়াবো ছোট হুজুরকে দিয়ে! দিলাম নালিশ বমালসহ ওসমান পড়লো ধরা, ছোট হুজুরের মাইর বাবা ! বেত ছিলো তার জোড়া। জোড়া বেতের কড়া ডোজে ওসমানের প্রেম শেষ, মনের সুখে মিচকি হাসি-বেশ হয়েছে বেশ। পরে আমি জানতে পারি আসল সত্যটি, জামাল ছিলো আসল আগুন ওসমান কেবল ঘি! বিনা দোষে ওসমান সাহেব খেল ভীষণ ধরা, সব ছেলেরা একই রকম, আমার কি আর করা !

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


