‘যেন ঝড়ের মুখে প্রদীপের টারে জ্বলতে চাওয়া
কাঁপা ঠোঁটে বোবা মুখে কিছু কথা বলতে চাওয়া’
..মেনকা, তোমাকে আমি কোনোদিনই জানতাম না। কোনো দিন তোমাকে আমার জানতে হবে এরও কোনো প্রয়োজন ছিলো না। আজ আমার বাবার কথা মনে করে তোমাকে লিখছি। তোমার বাবার বুকফাটা হাহাকার আজ আমার বাবার কথা মনে করিয়ে দিলো। বাবার সাথে খাবার জন্যে আমিও তোমার মতো রাত জেগে থাকতাম। বাবার কোল ঘেঁষে বসবো। বাবা আমার মুখে খাবার তুলে দেবেন। মুখে রাগ আর চোখে খুশি নিয়ে বকা দেবেন- সকালে স্কুল আছে না? এতো রাত জাগার কি দরকার ছিলো? মায়ের দিকে চেয়ে আমার বাবার মুখে গর্বের হাসি ফুটতো । মেনকা ..আমার মাও খুব খুশি হতেন বাবার সাথে আমি খেতে বসলে। মায়ের মেয়েবেলার কথা মনে পড়ে যেতো হয়তো! ঠিক তোমার মায়ের মতো।
মেনকা.. মা তোমার শেষ সময়ে একদম কাছেই ছিলেন। দুহাতে আঁকড়ে ছিলেন লোহার দরজা। বুকের ধনের শেষ চিৎকার কান পেতে শুনেছেন। একেক ফোঁটা রক্ত দিয়ে গড়া শরীরের দিকে মৃত্যুকে বিহ্বল চোখে গড়িয়ে আসতে দেখেছেন। মেনকা তোমাকে ধারালো ছুরি দিয়ে ক্ষত বিক্ষত করে ফেলা হয়েছে। যা ঘটবে যাচ্ছিলো তা তুমি বিশ্বাস করতে পারোনি।তাই মৃত্যুর পরও অবিশ্বাস আঁকড়ে ছিলো তোমার দুচোখে । শেষ সময়েও হয়তো তোমার বিশ্বাস হয়নি! কবির তোমাকে খুন করছে!
তোমার কোমল গায়ের চামড়ায় আঁকিবুকি খেলেছে পুরুষ অথবা পশুটি। মাথার নিচে দিয়ে রেখেছিলো তোমার নরম তুলার বালিশটি। বালিশ চাদর তোষক ভিজিয়ে রক্ত গড়িয়ে নেমেছে কালো মেঝেতে। তোমার খালাতো বোনটি চিৎকার করে সেদিন কলেজে বলছিলো - আমার বোনের শরীরে এক ফোঁটা রক্তও ছিলো না গো! কাটা শ্বাসনালী, ক্ষতবিক্ষত শরীর, ফাঁসিয়ে দেয়া পেট...! কি করুণ তোমার শেষযাত্রা!
মেনকা- না চাইতেই লোকের বলাবলিতে অনেক রসদ যুগিয়েছো তুমি । ‘সুন্দরী’ ‘ইডেনের মেয়ে’ ‘উচিত শাস্তি’‘এ রকম মেয়েদের এমনি হয়’-এমনতরো নানান ধাঁচের কথা। যারা বলেছে তারা নিজের ভাই অথবা বোনের কথা ভেবে কথা বলেনি। ভেতরের পশুর কথা মগজে এনে বলেনি। আমাদের সমাজে মৃতের সমালোচনা আছে। কেবল মানুষের হত্যাপ্রবণ মানসিকতার কোনো সমালোচনা নেই। প্রকাশিত কবিরের মতো অসংখ্য পলাকত কবিরের আত্মশুদ্ধি নেই।
মেনকা তোমার জন্য কেবল ইডেনের শিক্ষার্থীরাই গতকাল মানব বন্ধনে দাঁড়িয়েছে। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান সেখানে আসেনি। হয়তো ভেবেছে ওটা মেয়েদের কাজ! ওদের দরকারে ওরা দাঁড়িয়েছে! তুমি মনে কষ্ট নিও না। এমন একদিন আসবে যেদিন সকল মানুষ হত্যাপ্রবণ মানসিকতার বিরুদ্ধে মানবিক চত্ত¦রে দাঁড়াবে। ছেলে মেয়ে ভাগ করবে না। এমন একদিন নিশ্চয়ই দাঁড়াবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


