somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মানুষের গাধা, কুকুর এবং বানর জীবন (রম্য ছোট গল্প)

০৪ ঠা জুন, ২০১২ রাত ১২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইহা একটি বিনোদন মূলক অতিছোট গল্প। কেউ ইহাতে অন্য কিছু আনিবার বৃথা চেষ্টা করিবেননা।

ঈশ্বরের ইচ্ছায় এই মহাবিশ্ব সৃষ্টি হইলো। এরপর অনেক অনেক দিন ঈশ্বর বিশ্রাম লইলেন। এরপর ঈশ্বরের মনে হইলো মহাবিশ্বের কোন একজায়গায় প্রাণ সৃষ্টি করা যাক। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। ঈশ্বর তখনি প্রাণ সৃষ্টিতে উঠিয়া পড়িয়া লাগিলেন। এমন করিয়া ক্রমে ক্রমে মানুষ, গাধা, কুকুর এবং বানর বানাইলেন। এরপর ঈশ্বরের মাথায় চিন্তা আসিলো প্রানীতো বানাইলাম, ইহাদের মেয়াদকাল হইবে কতদিন? অনেক চিন্তা ভাবনা করিয়া সবার মাঝে সমতা বজায় রাখিয়া ঈশ্বর সবাইকে ২০ বছর মেয়াদকাল দান করিলেন।

তো মানুষ তখন চিন্তা করিলো, মাত্র ২০ বছর জীবনকালে আমি করিবো কি? আমার ২০ বছর তো জীবন বুঝিতে বুঝিতেই কাটিয়া যাইবে। আমি জীবন উপভোগ করিবো কখন? মানুষ তখনি ঈশ্বরের কাছে ফরিয়াদ লইয়া হাজির হইলো। বলিলো, “ঈশ্বর মাত্র ২০ বছর জীবনকাল আমার জন্য অতি অল্প সময়। এমন একটা সময় আসিবে যখন মানুষ ২০ বছর বয়সে ভার্সিটিও পাস করিতে পারিবেনা। ঈশ্বর আপনি আমার মেয়াদকাল বাড়িয়ে দিন।” ঈশ্বর বলিলেন “আমি চিন্তা করিয়া দেখিবো। তুমি এখন প্রস্থান করো।”

মানুষ ঈশ্বরে দরবার থেকে বের হইবার সময় দেখিলো গাধা,কুকুর আর বানরও লাইন দিয়া দাঁড়িয়ে আছে ঈশ্বরের কাছে আর্জি জানাতে। মানুষ চিন্তা করিলো এখন স্বর্গে ফেরত যাইয়া কি হইবে তারচেয়ে ইহাদের কার কি ফরিয়াদ তা শুনা যাক। তখনও ঈশ্বর নারী সৃষ্টি করেন নাই। তো মানুষ দরবারের পাহারাদার ফেরেস্তাকে ম্যানেজ করিয়া দরবারের কোনায় চুপচাপ দাড়াইয়া রইলো।

গাধা ঈশ্বরের নিকট হাজির হইয়া বলিলো, “হে ঈশ্বর আপনি আমার মেয়াদকাল করিয়াছেন ২০ বছর। কিন্তু ২০ বছর আমার জন্য অনেক বেশি লম্বা। আমি জন্মানোর ২ বছর পর থেকেই মালামাল বহন করিতে থাকিবো। ইহা করিতে করিতে ২ – ৩ বছরের মাঝেই আমার হাড় সব নড়বড়ে হইয়া যাবে।এরপর বেচে থাকাটা আমার জন্য অনেক কষ্টকর হইবে। সুতরাং আপনি আমার মেয়াদকাল কমিয়ে দিন।” ঈশ্বর বলিলেন “আমি চিন্তা করিয়া দেখিবো। তুমি এখন প্রস্থান করো।”

এরপর আসিলো কুকুর। বলিলো, “ঈশ্বর ২০ বছর মেয়াদকাল আমার জন্য অনেক কষ্টকর হইবে। আমি সারারাত জাগিবো, চোর ডাকাত তাড়াইবো। কিন্তু দিনের বেলায় একটু শান্তিতে ঘুমাইতেও পারিব না। আমার জন্য থাকিবে ফেলে দেওয়া হাড়, কাঁটা , পচা খাবার। শান্তিতে কোথাও দু’দন্ড বসিতেও পারিবোনা। দুষ্টের দল ইট লইয়া আমারে ইটাইবে। তারচেয়ে আপনি আমার মেয়াদকাল কমিয়ে দিন।” ঈশ্বর বলিলেন “আমি চিন্তা করিয়া দেখিবো। তুমি এখন প্রস্থান করো।”
শেষে আসিলো বাঁদর। “ঈশ্বর আমার জন্য আপনি ২০ বছর মেয়াদকাল বরাদ্দ করিয়াছেন। কিন্তু একবারও কি ভাবিয়া দেখিয়াছেন এই লম্বা সময় আমি কেমন করিয়া বাচিবো। আমার জন্ম হইবে জঙ্গলে। সারাজীবন গাছে গাছে ঝুলিয়া থাকিবো, বাঁদরামি করিবো। কিন্তু ঝুলাঝুলিও একটা সীমা থাকিবে। একটা সময় আমার হাত পা দুর্বল হইয়া যাইবে। আমি তখন যেকোন সময় গাছ থেকে পড়িয়া যাইতে পারি। পড়িয়া যে আমি ইঞ্জুর্ড বা বাঘের সামনে পড়িবো না তাহার কোন গ্যারান্টি আছে ? তাই আপনি আমার মেয়াদকাল কমিয়ে দিন।” ঈশ্বর বলিলেন “আমি চিন্তা করিয়া দেখিবো। তুমি এখন প্রস্থান করো।”


মানুষতো দেখিলো এইতো সুযোগ। সে তখন আবার ঈশ্বরের দরবারে হাজির হইলো। বলিলো “ঈশ্বর গাধা, কুকুর আর বানর মেয়াদকাল কমাইবার আবেদন করিয়াছে, উহাদের মেয়াদকাল হইতে সময় আপনি আমাকে দিন।“ ঈশ্বর বলিলেন “ তথাস্তু। তাহার আগে তুমি আমাকে বলো উহাদের আর্জি তুমি কিভাবে জানিলা?” মানুষ বলিলো “আমি দরবারের দারোয়ান ফেরেস্তাকে ম্যানেজ করিয়া দরবারেই রইয়া গিয়াছিলাম।” ঈশ্বর “ঠিক আছে। সবাইকে দরবারে হাজির করা হোক। দরবারের দারোয়ান ফেরেস্তাকেও।”

সবাই আসিয়া উপস্তিত হইলো। ঈশ্বর বলিতে লাগিলেন “আজিকে সবাই আমার কাছে মেয়াদকাল লইয়া আর্জি জানাইতে আসিয়াছিলো। আমি সবার আর্জি শুনিয়া একটা সিদ্ধান্তে আসিয়াছি। গাধার মেয়াদকাল হইতে ১৫ বছর , কুকুরের মেয়াদকাল হইতে ১৫ বছর এবং বানরের মেয়াদকাল হইতে ১০ বছর কাটিয়া লয়া হইলো। এই সমস্ত মেয়াদকাল মানুষের মেয়াদকালে যুক্ত করা হইলো। কিন্তু এই অতিরিক্ত মেয়াদকালের উপসর্গ হিসেবে নারী বলিয়া আরেক প্রকার মানুষ সৃষ্টি করা হইলো, যা এই অতিরিক্ত মেয়াদকাল জুড়িয়া মানুষের জীবনে বিচরন করিবে। এবং অতিরিক্ত মেয়াদকাল সম্পর্কে চিন্তা করিতে সাহায্য করিবে। এবং শেষে মানুষ দ্বারা ম্যানেজ হইবার অপরাধে ফেরেস্তা ইবলিসকে অনন্তকালের জন্য একটা বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হইলো। আজ হইতে ইবলিস মানুষকে কুপথে আসিবার জন্য ম্যানেজ করিয়া যাইবে।” এই বলিয়া ঈশ্বর দরবার সমাপ্ত করিলেন।


এরপর হইতে মানুষ তার জীবনের প্রথম ২০ বছর মানুষের , পরের ১৫ বছর গাধার মত (কাজ করিতে করিতে) , পরের ১৫ বছর কুকুরের মত (খিটখিটে মেজাজ, অল্পতেই গরম হয়ে যাওয়া) এবং ১০ বছর বাদরের জীবন (নাতি নাতনিদের সাথে বাঁদর বাঁদর খেলা, ভেংচি কাঁটা) কাটায়। এবং এক্সট্রা পাওয়া ৪০ বছরের প্রায় পুরোটা সময় নারী বউরুপে মানুষের জীবনে বিচরন করে আর মনে করিয়ে দেয় মেয়াদকাল না বাড়াইলেই মনে হয় ভালো হইতো। আর হা ইবলিস আজো মানুষকে ম্যানেজ করিয়া যাইতেছে।


ব্যাক্তিগত ভাবে লেখক এখন গাধা পর্যায়ের সুচনায় আছে।
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×