যখন ভালোবাসতো যখন আমাকে দুঃখ দেবার কথা তার ভাবনাতেও আসতো না তখন ছেড়াফেড়া মলাটের একটা সুধীন্দ্রনাথের কবিতার বই আমাকে গিফট করেছিলো, দেবার সময় সেকি কষ্ট তার, মনে হচ্ছে যক্ষের ধন হস্তান্তর হচ্ছে।
-আমারতো ঠিক ঠিকানা নেই, জানি তোমার কাছে যত্নে থাকবে তাই তোমাকেই দিলাম। আমি আলতো করে ধরে যেভাবে লোকে এন্টিকের গা থেকে ধুলো ঝাড়ে সেভাবে আঁচল দিয়ে মুছে দিলাম সময়ের শিলালিপি, ঝন ঝন ঝনাৎ করে বেজে উঠলো অনাবিস্কৃত নহলী সেতার, ভালোবাসি ভালোবাসি ভালোবাসি।
চলে যাচ্ছে সে, এর মধ্যে বুঝিয়ে দিয়েছে ষোল আনা দুঃখ যার পুরোটা আমার প্রাপ্য ছিলো না। তারপর সে বুকশেলফ থেকে ছো মেরে তুলে নিলো সেই ছেড়াফেড়া মলাটের যক্ষপ্রিয়াকে। আমি ঝাঁপিয়ে পড়লাম না না না না আর যা খুশি নাও ওটি না...............
কতদিন তার বাহুতে শুয়ে শুয়ে শুনেছি -
“কিন্তু সে আজ আর কারে ভালোবাসে।
স্মৃতিপিপীলিকা তাই পুঞ্জিত করে
আমার রন্ধ্রে মৃত মাধুরীর কণা :
সে ভুলে ভুলুক, কোটি মন্বন্তরে
আমি ভুলিব না, আমি কভু ভুলিব না।”
পিতলের ফুলদানী তুলে সে আমার মাথায় ঠুকে দিলো
যক্ষ বেরিয়ে গেলো তার প্রিয়াকে নিয়ে।
আমার ঘরহীন ঘরে গম গম করছে তার কণ্ঠ সাথে সঙ্গত করছে স্মৃতির নহলী সেতার -
“কিন্তু সে আজ আর কারে ভালোবাসে।
স্মৃতিপিপীলিকা তাই পুঞ্জিত করে
আমার রন্ধ্রে মৃত মাধুরীর কণা :
সে ভুলে ভুলুক, কোটি মন্বন্তরে
আমি ভুলিব না, আমি কভু ভুলিব না।”

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



