অামরা জাতি হিসাবে কি হীনমন্যতায় নিমজ্জিত? অথবা বাংলায় বলতে, লিখতে বা বাংলাদেশী হিসাবে প্রকাশ করতে অামরা কি অসাচ্ছন্দ্য বোধ করি? উদাহরণস্বরূপ, কোন বিষয়ে অামরা গুরুত্ব দিয়ে বলতে চাইলে ইংরেজী ব্যবহারে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি - যেন ইংরেজীতে বললে শিক্ষার ওজনে কথার ওজন বেড়ে যায়; অামরা ভাবি ভালো শিক্ষা মানেই ইংরেজীতে পারদর্শিতা। কিন্তু অাসলে তো তা নয়। চীন, জাপান ও কোরিয়ার ইংরেজী ভাষার অাগ্রাসী ব্যবহার করতে হয়নি উন্নতি করতে। অাসলে অামাদের দরকার গুনগত শিক্ষা এবং ইংরেজী শিক্ষাকে দেখা উচিৎ স্রেফ একটি ভাষা শিক্ষা হিসেবে - এর বাড়তি কিছু নয়। কিন্তু অনেকেই দেখি কেউ একটু ইংরেজী উচ্চারণ খারাপ করলেই তাকে কটাক্ষ করে। কিন্তু বাংলাকে নিয়ে ওমন মনোযোগী অামরা নই।
অবশ্য অামাদের এখানে শিক্ষা ব্যবস্থার অারও উন্নয়ন দরকার। অাসলে একটা পর্যােয়র পর বাংলায় ভালো বই তেমন নেই বললেই চলে। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত শিক্ষায় বাংলা বইয়ের অভাব প্রকট। এটাও সম্ভবত একটি কারন অামাদের হীনমন্যতার - যেহেতু সব উচ্চপর্যায়ের তথ্যগুলো অামরা পাই ইংরেজী ভাষার মাধ্যমে। তাই অামার ব্যক্তিগত মতামত হলো অামাদের ইংরেজী শিক্ষার মান বাড়িয়ে লেখক, গবেষকদের উদ্বুদ্ধ করা যাতে তারা স্ব স্ব বিষয়ে ভালো মানের বাংলা বই উপহার দিতে পারেন এবং তবেই অামাদের মধ্যে অনেক মেধাবীকে অামরা পাবো যারা ইংরেজীতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না, অথচ জ্ঞানের কমতি নেই তাদের। অামার ছাত্রজীবনে এমন অনেককেই দেখেছি যারা শুধুমাত্র ভাষার কারনে পিছিয়ে পড়েছে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার প্রজ্ঞা থাকা সত্তেও। ভেবে দেখুন বাংলাদেশের ক্রিকেটার অাশরাফুলের কথা - সে ইংরেজী ভালো জানেনা। কিন্তু তার ক্রিকেটীয় মেধা কি তাতে ম্লান হয়েছে? অামাদের অাসলে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে অারও যদি অামরা এগুতে চাই সামনে।
অনেকেই দেখেছি বাংলাদেশী পরিচয় দিতে কুন্ঠা বোধ করেন বিদেশে গেলে। অামার মাঝে মাঝে বিদেশে যেতে হয় ব্যবসায়িক কাজে। অামি দেখতাম কেউ কেউ কি পরিমান কুন্ঠিত থাকেন বাংলাদেশী পরিচয় দিতে! অামার খুব খারাপ এবং রাগ লাগে এহেন মানসিকতা দেখে। অামার এক অাত্মীয়, বাংলাদেশের উচ্চতর সমাজের প্রতিনিধি সুশীল সমাজের জ্ঞানী ব্যক্তির পুত্র গিয়েছিলেন সিঙ্গাপুর। সে ওখানে শপিং মল এবং অন্যান্য স্থানে নিজেকে ইন্ডিয়ান হিসাবে পরিচয় দেয় যাতে করে কেউ নাক না সিটকায়। এবং সে একথা বলে ঘরোয়া অালোচনায় নিজের কৃতিত্ব জাহির করে। কি মানসিকতা!!! এযেন কাকের পশ্চাদ্দেশে ময়ূরের লেজ!!! তেমন যদি হয় তবে অামি কাক হতেই পছন্দ করবো। অামি এমন মানুষদের এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করি। কিন্তু মনকষ্টে থাকি কষে কড়া থাপ্পড় বসাতে না পেরে।।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


