somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

‘কুতুব + নীলিমা’

১১ ই মার্চ, ২০১৫ দুপুর ২:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জুনায়েদ আলাভোলা কিছিমের মানুষ। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয় পাশ করে সে সিদ্ধান্ত নিল লেখক হবে! ফেসবুকে লেখালেখি করে তার হাত পেকেছিল। তার চারশ বিশ জন ফলোয়ার ও ছিল। কাজেই টিউশনি করার ফাঁকে ফাঁকে ‘হনুমানের উল্লাস’ নাম দিয়ে জুনায়েদ একটা উপন্যাস লিখে ফেলল।

নতুন লেখক কে বই প্রকাশ হবার পর পোস্ট ম্যানের দায়িত্ব পালন করতে হয়। হাতে সময় থাকলে এই দায়িত্ব পালনে আনন্দ আছে। জুনায়েদের হাতে যেহেতু প্রচুর সময় ছিল সেহেতু সে ফেসবুক ফ্রেন্ড, ফেসবুক গার্ল ফ্রেন্ড(!), ফেসবুক মুরব্বি সবার কাছে প্যাকেট করে করে কুরিয়ারে ‘হনুমানের উল্লাস’ এর কপি পাঠাতে লাগল। বলা বাহুল্য এরা সবাই জুয়ায়েদের লেখায় লাইক দিত। লাইক দিত না এরকম একজন ইনবক্স করে জুনায়েদের কাছে সৌজন্য কপি চাইলে জুনায়েদ গালি দিয়েছিল- শাআলা!
সেদিন ও জুনায়েদ কুরিয়ার অফিসে গিয়েছে। আজকে বই যাবে দুই ঠিকানায় দুইটা। একটা খুলনায় তার ছোটবেলার বন্ধু কুতুবের কাছে। আরেকটা নাটোরে নীলিমা’র কাছে! নীলিমার সাথে ফেসবুকে পরিচয়। জুনায়েদের লেখা নীলিমার কেন ভাল লাগে এই প্রশ্নের জবাবে নীলিমা বলেছে- আপনার লেখায় প্রেমের কচলাকচলি কম। আবার পড়ে হাসি ও আসে! এটুক শুনে জুনায়েদ গলে গিয়েছে। ধুম করে নীলিমাকে বলে বসেছে- লেখক দের বৌ হওয়া খুব কঠিন। লেখকের গল্পের নায়িকা মানেই লেখকের বৌয়ের সতীন! নীলিমা লজ্জায় নীল হবার ইমো দিয়েছে!

জুনায়েদ বই দুটাতে আলাদা আলাদা উপহার বানী বাসা থেকেই লিখে এনেছে। কুরিয়ার অফিসের পাশের দোকান থেকে বড় সাইজের দুটা খাম আর স্কচ টেপ কিনেছে। জুনায়েদ বই দুটা আলাদা আলাদা খামে ভরে স্কচ টেপ দিয়ে মুখ বন্ধ করল। মুখ যাতে না খোলে সেজন্য ডবল ডবল স্কচ টেপ মারল। ঠিকানা লেখার জন্য কলম টা হাতে নিয়েছে তখন হঠাৎ নতুন একটা গল্পের প্লট মাথায় আসায় জুনায়েদের মাথা কিঞ্চিত আউলা হল!মাথা আউলা হবার কারনে জুনায়েদ নীলিমার বইয়ের খামের উপর কুতুবের ঠিকানা এবং কুতুবের বইয়ের খামের উপর নীলিমার ঠিকানা লিখে ফেলল! কুতুবের ঠিকানা একটু বেশি খস খস করে লিখল। নীলিমার টা একটু কোমল ভাবে লিখল!

তারপর খাম দুটো কাউন্টারে দিয়ে আশি দুগুনে একশ ষাট টাকা নগদ দিয়ে রিসিট নিয়ে বের হয়ে আসল।
।
।
।
খুলনার কুতুব বই খুলল!

‘প্রিয় নীলিমা,
ভালোবাসা কখনো কখনো চুয়াত্তর পাতার একটা বই হয়ে একজন মানুষ থেকে আরেকজন মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে পারে। তোমাকে বুঝতে হবে!

ভালোবাসা সহ,
জুনায়েদ আখন্দ’

কুতুব জুনায়েদ কে শালা বলে গালি দিল এবং নীলিমা কে সার্চ করার জন্য তৎক্ষণাৎ ফেসবুকে বসল!
।
।
।

নাটোরের নীলিমা বইয়ের খাম নিয়ে ছাদে গেল! অন্য ছাদে টাঙ্কি মারা ছেলেটা নাই দেখে নিশ্চিন্ত মনে খাম খুলল। তারপর মলাট উল্টাল।

‘শালা কুতুইব্বা!

শালা, মনে করছ বই মাগনা দিছি!! বই পাবার সাথে সাথে বইয়ের দাম (একশ পঁচিশ টাকা) এবং কুরিয়ার খরচ(একশ টাকা!) মোট দুইশ পঁচিশ টাকা বিকাশ করবি।

আর দোস্ত! বইটা আশপাশে দুচার জনকে পড়তে দিস। যদি কেউ কিনতে চায়! তোকে দশ পার্সেন্ট কমিশন দিব!

ঘৃণা এবং ভালোবাসা সহ,
জুনায়েদ।‘

টাঙ্কি মারা ছেলে ততক্ষনে অন্য ছাদে চলে এসেছে।সে বিস্মিত হয়ে দেখল তার ‘সোনাপাখী’ কি যেন পড়তে পড়তে ধপ করে ছাদের উপর পড়ে যাচ্ছে! কাল্পনিক ভিলেন কে সে অশ্লীল গাল পাড়ল। তারপর কি করবে বুঝতে না পেরে একটা বিড়ি ধরাল!

ফেসবুকে কুতুব এবং নীলিমার পরিচয় হল। ইনবক্স কথোপকথনে জুনায়েদের আলাভোলামি নিয়ে দুজনের মধ্যে ব্যাপক হাসাহাসি হল! তারপর একদিন দেশের একটা মফঃস্বল শহরের একটা পার্কের বেঞ্চিতে চিকা মারা হল- কুতুব + নীলিমা!
৫টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আত্মহনন ও পক্ষপাতিত্ব

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:২৮


রবীন্দ্রনাথ কি বাংলাদেশের নাগরিক ??!! শুধুমাত্র জাতীয় সংগীতের রচয়িতা এবং বাংলাদেশে কিছু সুশীলদের (ভালো নাপিত) তাকে নিয়ে নানা রকমের কলহ-বিবাদ-বিভক্তি তৈরী ব্যতিত; বাংলাদেশে তার আর অবদান কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারা ভারতের এই সফট টুলস রবীন্দ্রনাথকে রক্ষা করবে।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩


কয়েকদিন আগে পাকিস্তান রাষ্ট্রের জাতীর পিতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলা হলো, সেখানে তো গ্রেপ্তার দেখলাম না! সেখানে কি পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের অবণতির শঙ্কা ছিলো না? পাকিস্তানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি হল অথর্ব আর ইডিয়েটদের দল। বর্তমানে এদের দেশ পরিচালানার করার কোন যোগ্যতা ই নেই।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩

রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি দেয়াটা নিন্দনীয় কিন্ত তার বিচার হবে কিসে? রাষ্ট্রদ্রোহিতা মামলায়?? রিমান্ডে নিয়ে?

চৈতালি চক্রবর্তী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী, সে আইন বুঝে। প্রায় প্রতিদিন জুলাই, আবু সাইদ, বাংলাদেশ সব কিছু সম্পর্কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এআই মন্তব্যের পর ব্লগারগণের পোষ্ঠ ভালো বুঝে আসে

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২০



চাঁদগাজী/সোনাগাজী বলতেন অনেক ব্লগার গরুর রচনা এবং অনেক ব্লগার গার্বেজ লেখেন। তাঁর এমন মন্তব্যের কারণে তাঁর বিরোধী ব্লগার সংখ্যা বেড়ে যায়। ফলে তিনি বার বার ব্যানের শিকার... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনে রং নেই আর=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫২


মন তো ছিল গোলাপী রঙ আভায় বন্দি, মন ছিল চন্দ্র মল্লিকা,
মন আর সেই মন নেই, মনের চারিপাশে এক সমুদ্দুর কুহেলিকা;
মন যেন পাথর হয়ে আছে, নেই অফুরন্ত ফুরসত
মন গোলাপী রঙ নয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×