somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কিছুক্ষণ কাঁদলাম----আমার আর ভাষা নেই।

২৬ শে এপ্রিল, ২০১৩ রাত ১০:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


চট্রগ্রামের নাসিরাবাদ শিল্প এলাকার শেরশাহ কলোনীতে আমার বেড়ে উঠা।বলে রাখা ভালো, এই কলোনীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অনেক গার্মেন্টস। ছোটবেলায় খুব বিরক্ত হতাম, যখন দেখতাম সকালবেলা বের হলেই অনেক মেয়ে আর ছেলে লান্স বক্স হাতে নিয়ে হেটে যাচ্ছেন গার্মেন্টস এর উদ্দেশে। ওদের সংখ্যা এত বেশি ছিলো যে, আমি ছোট মানুষ বলে ওদেরকে টপকিয়ে স্কুলে যেতে পারতাম না। মেজাজ খারাপ হয়ে যেতো এত মানুষ এর ভীড় দেখে।
আস্তে আস্তে স্কুলের গন্ডি পেরিয়ে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হলাম। তখন, শিক্ষকদের কাছে জানলাম, আমাদের দেশ মূলত চলছে গার্মেন্টস এর আয় দিয়ে। তার চেয়ে ও গুরুত্বপূর্ণ, এই সেক্টরেই সবচেয়ে বেশি মানুষ কর্মরত আছেন। মানে, এই সেক্টর আমাদের বেকারত্ব দূরীকরণে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখছে। সেইদিন থেকেই,গার্মেন্টস এর প্রতি অন্যরকম ভালোবাসা তৈরি হয়। আর সকালবেলা ঘর থেকে বের হয়ে বিরক্ত হতাম না, ওই মেয়ে আর ছেলেদেরকে লান্স বক্স হাতে নিয়ে গার্মেন্টস এ যেতে দেখতে।
সবাই বলে, আমরা নাকি ডিসিপ্লিন না মানা জাতি।কিন্তু,আমি অবাক হয়ে দেখতাম, সকাল বেলা ঘড়িতে যখন ঠিক ৭.৩০ বাজতো তারা দলবেঁধে গার্মেন্টস এর উদ্দেশে বের হতো। কখনো এর বেতিক্রম হতে দেখিনি। এমন হয়ে গিয়েছিলো, আমি ওদেরকে দেখেই বুঝতাম,এখন ৭.৩০ বাজে।
ইউনিভার্সিটি পাশ করার পর ইচ্ছে হলো, কয়দিন এই সেক্টরে কাজ করবো। যেই ভাবা সেই কাজ। আমার বাসার কাছেই কেডিএস এক্সেসরিজ নামে একটা প্রতিষ্ঠান ছিলো। এপ্লাই করে জয়েন করলাম ওইখানে। এটা মূলত গার্মেন্টস এর একটি সহায়ক প্রতিষ্ঠান। যেদিন জয়েন করলাম, সেইদিন বাসায় এসে ভাবতে লাগলাম, যে আমি ছোটবেলা ৭.৩০ টায় বের হওয়া ছেলে-মেয়েদেরকে দেখে বিরক্ত হতাম,সেই আমি আজকে ওদের পথেই হাঁটছি, ওদেরই সহকর্মী হয়ে।
জয়েন করার পরের দিন আমাকে ফ্যাক্টরিতে ওরিয়েন্টশন করানো হয়। সব ওয়ার্কারদের বলে দেয়া হ্য়,আমি উনাদের নতুন অফিসার। ওয়ার্কাররা আমাকে সালাম দিল। অনেক বয়স্ক ওয়ার্কার ছিলো ওইখানে। তারা যখন স্যার বলে ডাকছিলো, নিজের কাছে কেমন যেন লজ্জা লাগছিলো।তবে, মনে মনে একটা ভাব ও তৈরি হয়েছিলো। আমি ২ হাজার মানুষের স্যার। তিন মাস ওইখানে ছিলাম। প্রতিটা দিন নতুন কিছু না কিছু শিখেছি।

এখনো আমি স্যার। তবে ওই ওয়ার্কারদের নয়। একটা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেকচারার হিসেবে আছি।

সাভারের এই ট্র্যাজেডি, বাংলাদেশের কোন মানুষকে কতটুকু নাড়া দিয়েছে জানি না। টিভিতে বসে দেখছিলাম নিউজগুলো। একেকটা মানুষকে জীবিত বা মৃত যখন উদ্দার করা হচ্ছিলো, মনটা খারাপ হয়ে যাচ্ছিলো।কিছু কিছু ছবি আর ভিডিও দেখে মনের অজান্তে চোখ বেয়ে পানি বেরিয়ে এলো। আমি বুঝছিলাম না কেনো? ওরা তো আমার আপন কেউ না। তবু কেন এমন হচ্ছে।আমি তো ইট-কাঠ পাথরে বেড়ে উঠা একজন মানুষ। এটা তো আমার জন্য বেমানান।

সত্যি করে বলছি, ওই আহত ও নিহত মানুষগুলোকে যখন দেখছিলাম, তখন আমার ছোটবেলার কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। যে মানুষগুলোকে দেখে আমি ছোটবেলায় বিরক্ত হতাম,সেই মানুষগুলোকে দেখে আমি আজ কাঁদছি, স্তব্দ হয়ে যাচ্ছি। আমি আসলে লেখার মত কোন ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না।শুধু একটা কথাই মনে পড়ছে, "সত্যি, মানুষ এর মন কত বিচিত্রময়।"
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×