somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হিমু ও সক্রেটিসের মধ্যে কথোপকথন!

২১ শে জুলাই, ২০১২ রাত ১২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সক্রেটিস এর কিছু কিছু গুণ রয়েছে হিমুর মাঝে। একসময় মনে হলো এমন নয়তো এই যে হিমুর রাস্তায় খালি পায়ে হাঁটা সক্রেটিস থেকে ধার নেয়া। হতেই পারে। নাও পারে। তবে হিমুকে যখন দেখি সক্রেটিসের মতোই খালি পায়ে হাটছে ঢাকা শহরের অলি-গলি রাজপথ তখন কেন জানি সক্রেটিসের কথাই মনে পরে। তিনিও হাটতেন এথেন্সের পথ থেকে পথে।

হিমু এক প্রহেলিকার নাম। তিনি কোনো বন্ধনে আবদ্ধ হন নি। প্রশ্রয় দেন নি কোনো মায়া-মমতাকে। বরঞ্চ এই মায়া মমতা থেকে দূরে থেকেছেন। কি অসীম তার ক্ষমতা! না নিজে তেমন কেউকেটা নন। যারা তাকে চিনেন তারা কেউকেটা। যারা তাকে চিনেন তারা হিমুর জন্য নিবেদিত প্রাণ।

এ যেন অনেকটা সক্রেটিসেরই অন্য রূপ। পান করছেন, কিন্তু কখনো মাতাল হচ্ছেন না। এমন না যে তিনি কম পান করছেন বরংঞ্চ অন্যদের চেয়ে একটু বেশিই পান করছেন। তিনি নিজে তেমন কিছু নন। কিন্তু ছাত্রবৃন্দরা ছিলেন যথেষ্ট নামজাদা বিখ্যাত আর সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি। সক্রেটিসের জন্য করতে পারেন না এমন কিছু নেই।

হিমুর নিজের কোনো বানী নেই। সব তার বাবার নীতিবাক্য। তিনি শুধু মেনে গেছেন। তার জীবন-যাপনের ধরনই যেন একটা দর্শন। সক্রেটিসের ও তাই। তিনি নিজে কোনো দর্শন দিয়েছেন এমন নয়। যেন তার কথা-বার্তা, চাল-চলন, চিন্তা-চেতনা এই সবই যেন একটা দর্শন।

হিমু কি করতেন? এক কথায় কিছুই না। রাস্তায় হাটা-হাটি ছাড়া। সক্রেটিস ও তাই, তিনি হাটে-বাজারে, মেলায়-উৎসবে মানুষের সাথে কথা বলা ছাড়া আর তেমন কিছুই করতে দেখা যায় না।

আসুন হিমুর সাথে যদি সক্রেটিসের দেখা হতো তবে তাদের সাথে কি কথা হতো?

হিমুঃ আপনিই মহান সক্রেটিস?
সক্রেটিসঃ আমিই সক্রেটিস, তবে মহান কিনা এটাতো বলতে পারবোনা। তুমি কে?
হিমুঃ আমি হিমু। হিমালয় থেকে হিমু।
সক্রেটিসঃ হিমালয়টা কি?
হিমুঃ হিমালয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পর্বতশৃঙ্গ।
সক্রেটিসঃ পর্বতশৃঙ্গ না পর্বতমালা?
হিমুঃ একটা হলেই হলো।
সক্রেটিসঃ ধর কেউ তোমাকে বললো, বাংলাদেশের রাজধানী মতিঝিল, কিন্তু তুমিতো জানো বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। তবু তুমি কি বলবে, একটা হলেই হলো?
হিমুঃ তা না, তবে…
সক্রেটিসঃ তুমি কি বলতে চাচ্ছ যে আসলে যেহেতু মতিঝিল ঢাকার প্রানকেন্দ্র, তাই মতিঝিল বাংলাদেশের রাজধানী হতে দোষ নাই।
হিমুঃ না ঠিক তাও না…
সক্রেটিসঃ নাকি তুমি আসলে জানোই না হিমালয়- পর্বতমালা না পর্বতশৃঙ্গ?
হিমুঃ পর্বতশৃঙ্গ শব্দটা সুন্দর। পর্বতের আবার মালা কি? মালা হবে ফুলের। সেই মালা একটি ছেলে আর মেয়ের মধ্যে বদল হলেই বিয়ে সম্পন্ন হলো। এরপর তাহারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করিতে থাকিবে।
সক্রেটিসঃ হিমু, তুমি কি পর্বতশৃঙ্গ মানে জানো? হিমালয়ের যেমন পর্বতশৃঙ্গ আছে, তেমনি এই কেওকেরাডং এর ও পর্বতশৃঙ্গ আছে, আমাদের দেশের অলিম্পাসের ও আছে। শৃঙ্গ মানে কি জানো তো। শৃঙ্গ মানে শিং। যেমন ধরো গরুর শিং, কিংবা ছাগলের শিং। শিং এর উপরে কি আর কিছু আছে?
হিমুঃ না।
সক্রেটিসঃ তার মানে কি হলো? পর্বতশৃঙ্গ মানে হলো পর্বতের সেই জায়গা যার উপর আর কিছু নেই। বুঝলে?
হিমুঃ জ্বি। কিন্তু আমি একটা জিনিস এখনো বুঝতে পারি নাই।
সক্রেটিসঃ সেটা কি?
হিমুঃ চলুন মহান সক্রেটিস আপনাকে একটা চমৎকার জিনিস দেখাই।
সক্রেটিসঃ চলো।
হিমুঃ এই যে গাছটা দেখছেন, গাছে হলুদ হলুদ থোকায় থোকায় ফুটে রয়েছে এগুলোর নাম কদম ফুল।
সক্রেটিসঃ বাহ, সুন্দর তো!
হিমুঃ হুম, খুব সুন্দর। এই দেখুন উপরে এর পরাগগুলো কি সুন্দর! এই পরাগ গুলো যদি ফেলে দেই, তবে এইটা কি একধরনের ফল এর মতো বের হচ্ছে।
সক্রেটিসঃ আরে, তাই তো!
হিমুঃ আচ্ছা আপনিই বলেন- ফুল আর ফল কি এক?
সক্রেটিসঃ না। কখনো না। আগে ফুল, তারপর ফল।
হিমুঃ আচ্ছা এমন কি হতে পারে একটা ফুল একই সাথে ফল।
সক্রেটিসঃ না, প্রকৃতিতে তো এমন কোনো নজির নেই। একজন মানুষ কখনো একই সাথে ভালো অভিনেতা আবার ভালো ডাক্তার হতে পারে না।
হিমুঃ মহান সক্রেটিস আমিও তাই বলি, এটা আসলে কি? কদম কি ফুল না ফল?

সক্রেটিস আর কোনো কথা বলছেন না। তিনি চিন্তা করছেন। কদম ফুল না ফল এর উত্তর তার জানতেই হবে। না জানা পর্যন্ত তার নড়ন-চড়ন নেই। হিমু একটা কদম গাছের নিচে সক্রেটিসকে রেখে পা বাড়ালেন। সক্রেটিস মহান ব্যক্তি। চিন্তার মতো জটিল বিষয় তাকে মানায়, হিমুকে নয়।
(হিমু মনে মনে বললো, মহান সক্রেটিস, হিমালয় পৃথিবীর সবচেয়ে বড় পর্বতশৃঙ্গ, কেননা, তার উপরে আর কেউ নেই।)
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১২ সন্ধ্যা ৭:০১
১৫টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নারী একা কেন হবে চরিত্রহীন।পুরুষ তুমি কেন নিবি না এই বোজার ঋন।

লিখেছেন সেলিনা জাহান প্রিয়া, ০৪ ঠা মে, ২০২৪ রাত ১২:৫৪



আমাদের সমাজে সারাজীবন ধরে মেয়েদেরকেই কেনও ভালো মেয়ে হিসাবে প্রমান করতে হবে! মেয়ে বোলে কি ? নাকি মেয়েরা এই সমাজে অন্য কোন গ্রহ থেকে ভাড়া এসেছে । সব... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুসলিম কি সাহাবায়ে কেরামের (রা.) অনুরূপ মতভেদে লিপ্ত হয়ে পরস্পর যুদ্ধ করবে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা মে, ২০২৪ সকাল ৯:৪৯




সূরাঃ ৩ আলে-ইমরান, ১০৫ নং আয়াতের অনুবাদ-
১০৫। তোমরা তাদের মত হবে না যারা তাদের নিকট সুস্পষ্ট প্রমাণ আসার পর বিচ্ছিন্ন হয়েছে ও নিজেদের মাঝে মতভেদ সৃষ্টি করেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

মসজিদে মসজিদে মোল্লা,ও কমিটি নতুন আইনে চালাচ্ছে সমাজ.

লিখেছেন এম ডি মুসা, ০৪ ঠা মে, ২০২৪ সকাল ১০:২৩

গত সপ্তাহে ভোলার জাহানপুর ইউনিয়নের চরফ্যাশন ওমরাবাজ গ্রামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। লোকটি নিয়মিত মসজিদে যেত না, মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়েনি, জানা গেল সে আল্লাহর প্রতি বিশ্বাসী ছিল, স্বীকারোক্তিতে সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=সকল বিষাদ পিছনে রেখে হাঁটো পথ=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৪ ঠা মে, ২০২৪ সকাল ১১:৩৮



©কাজী ফাতেমা ছবি

বিতৃষ্ণায় যদি মন ছেয়ে যায় তোমার কখনো
অথবা রোদ্দুর পুড়া সময়ের আক্রমণে তুমি নাজেহাল
বিষাদ মনে পুষো কখনো অথবা,
বাস্তবতার পেরেশানী মাথায় নিয়ে কখনো পথ চলো,
কিংবা বিরহ ব্যথায় কাতর তুমি, চুপসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে বিরোধী মতের কাউকে নীতি মালায় নিলে কি সত্যি আনন্দ পাওয়া যায়।

লিখেছেন লেখার খাতা, ০৪ ঠা মে, ২০২৪ সন্ধ্যা ৬:১৮

ব্লগ এমন এক স্থান, যেখানে মতের অমিলের কারণে, চকলেটের কারণে, ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে অনেক তর্কাতর্কি বিতর্ক কাটা কাটি মারামারি মন্তব্যে প্রতিমন্তব্যে আঘাত এগুলো যেনো নিত্য নৈমিত্তিক বিষয়। ব্লগটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×