"পাগল মন, মনরে...
মন কেন এত কথা বলে।"
আজকাল মনটা অনেক কথাই বলে। যেমন ধরুন, আমরা মানুষ, কিন্তু মানুষ হয়ে কি করলাম? প্রতিনিয়ত অন্যদের দেখে রসিকতা, দরিদ্রদের অবহেলা, ক্ষমতার বড়াই দেখিয়ে ক্ষমতাহীনদের ওপর জোরদারি করা, ক্ষুধার যণ্ত্রণায় কাতর হয়ে ১টি টাকা চাওয়ার বিনিময়ে ভিক্ষুককে জোরালো ধমক, এটা সেটা আরও কত কী! কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছি, এগুলোই কি মানুষের কাজ! মানুষ হয়ে মানুষের উপকার করতে পারবো না বলে কি শুধু অপকার করে যাব। মানুষকে না হয় সাহায্য করতে নাই পারলাম, তাই বলে একটি পশুর সাথে এই আচরন!
অবাক হচ্ছেন কথাগুলো পড়ে? তাহলে প্রিয় পাঠক, চলুন, একটি পশুর আর্তনাদ শুনি......
কুকুর একটি বিশ্বস্ত প্রাণী। মনিবের অবর্তমানে তার ঘর-বাড়ি পাহারা দেয়।বাড়িতে চোর-ডাকাত এলে সবার আগে কুকুরই আমাদের জানিয়ে দেয়। এমনই একটি কুকুরের বাস আমার নিজ গ্রামে। গত দুদিন আগে এটি কয়েকটি বাচ্চা প্রসব করে গ্রামের এক পরিবারের কাচারি ঘরে।
বড়জোর ১৫ দিন থাকবে সেখানে। ক্ষুধার্ত মা কুকুরটি যখন খাবারের সন্ধানে বের হয় তখনই তার বাচ্চাদের ওপর বয়ে যায় মৃত্যুর রাহু।
সেই পরিবারের নিষ্ঠুরমনা কয়েকজন মিলে বাচ্চাগুলোকে বস্তাবন্দী করে
দুরের একটি পুকুরে ফেলে আসে। একটি বাচ্চাও বাঁচতে পারেনি। এদিকে মা কুকুরটি তার বাচ্চাগুলোর খোঁজে ব্যকুল হয়ে পড়ে।একদিকে ক্ষুধার যণ্ত্রণা, অন্যদিকে বাচ্চা হারানোর বেদনা ।দু' দিন অঝোরে চোখের জল ফেলে আর অনবরত খোঁজ করেও বাচ্চাদের কোনো হদিস মেলাতে পারেনি।এদিকে অনবরত কাঁদতে কাঁদতে চোখের কোণে ঘা হয়ে গেছে। ক্ষুধার যণ্ত্রণায় একটু খাবারের আশা নিয়ে যখন কুকুরটি একটি চায়ের দোকানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, তখন জনৈক ব্যক্তি তার ওপর গরম চা ঢেলে চামড়া পুড়িয়ে দেয়।তার ওপর চলে অমানবিক আচরন।
যে পোষা প্রাণীটি তার জীবন দিয়ে আমাদের উপকার করে আসছে , তার ওপর এভাবে নির্মম অত্যাচার !---আমরা কি মানুষ না পশু? আমরা তার চাইতেও অধম।
(আজই বাবার কাছে ঘটনাটি শুনলাম)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


