somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ব্লগে সেফ হলাম। ব্লগারদের আন্তরিক অভিনন্দন ও আমার পরিচয়।

২৫ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ৯:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নিকটি তৈরী করে ফেলে রেখেছিলাম। বাংলা ব্লগজগতে প্রচুর লেখালেখি করেছি বিভিন্ন নিকে, এই নিকটিও ছিল। এখন ব্লগ অত্যন্ত টাইম কিলিং বিষয় বলে বোধ হয়।

আমার একাউন্টের নাম হলো 'দস্তার'। এটি একটি ফারসী শব্দ, যার অর্থ উষ্ণীষ বা পাগড়ী। শিখরা পাঞ্জাবী ভাষায় তাদের পাগড়ীকে 'দস্তার'ই বলে থাকে। তবে এটি মুসলমানদেরও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল। শিখরা আবার দাড়িও রাখে, যেটা মুসলমানদের জন্য রাখাটা ফরয ওয়াজিব। কিন্তু শিখরাই হলো ভারতবর্ষে মুসলমানদের সবচেয়ে হিংস্র শত্রু। শিখধর্মের উৎপত্তি ও বিকাশ পুরোটাই ইসলামবিরোধিতাকে কেন্দ্র করে। সেটি খুব লম্বা ইতিহাস সেখানে আমি যাচ্ছি না।

মুসলমান ও অন্যান্য ধর্মের মধ্যে কিছু কিছু বিষয়ে মিল দেখা গেলেও সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে বিচার করলে বেশকিছু পার্থক্য চোখে পড়বে। যেমন মুসলিমদের সুন্নতী পোষাক হল লম্বা কোর্তা, যাতে কোনাটা হালের দোকানের পাঞ্জাবীর মতো ফাঁড়া বা কাটা থাকবে না। নিছফুস সাক্ব আজানুলম্বিত বা হাঁটুর নিচ পর্যন্ত যা বিস্তৃত হবে। খৃস্টান সাধকদের ক্ষেত্রেও তাই, কিন্তু তাদের পোষাকে একটি কলার থাকে, শেরওয়ানী কলারের অনুরূপ। আবার শিখরা পাগড়ী পরলেও তারা মুসলমানদের পাগড়ীর সাথে পার্থক্য বজায় রাখে, অর্থাৎ তাদের পাগড়ীর পিছনে শামলা তথা পিছনের ঝোলানো অংশটি থাকেনা। যেটা মুসলিমদের পাগড়ীতে থাকতে হবে।

হাদীছ শরীফ উনার সহীহ্‌‌ কিতাব “হাশিয়ায়ে তিরমিযী শরীফ” উনাতে উদ্ধৃত রয়েছে, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,“নিঃসন্দেহে পাগড়ী পরা (দায়িমী তথা ব্যবহারিক বা সর্বক্ষণের) সুন্নত।” নামাযের মধ্যে পাগড়ী পরার ফযীলত সম্পর্কে কিতাবে আরো বর্ণিত রয়েছে যে, “নিশ্চয়ই পাগড়ী পরে দু’রাকাত নামায আদায় করা, পাগড়ী ছাড়া ৭০ রাকায়াত নামায আদায় করার চেয়ে অধিক ফযীলতপূর্ণ।”

মুসলিম সর্বক্ষণ পাগড়ী পরবে। কিন্তু এই সুন্নতটি হারিয়ে গিয়েছে সাধারণ মুসলিমদের মাঝ হতে। কাকরাইলে লাল রূমাল বাঁধা কিছু লোকদের দেখা যায়, যারা কোনভাবে একটি কাপড় মাথায় প্যাঁচ দিয়ে রেখেছে। কিন্তু পাগড়ী আর রূমালের মাপ ও মাসয়ালা আলাদা। দ্বীন ইসলামে পাগড়ীর কাপড় হতে হয় তিন হাত, সাত হাত অথবা বার হাত। সাত হাত পাগড়ীই প্রচলিত। পাগড়ীর মাঝখানে থাকতে হয় একটি ইংরেজি V আকৃতির খাঁজ, যেন সিজদার সময় কপাল মাটিতে লাগে(উপরের ছবির সবুজ পাগড়ীটি খেয়াল করুন)। পাগড়ীর প্যাঁচের উপর দিয়ে সিজদা দেয়াটা হবে অনুচিত। অনেকে ওসামা বিন লাদেনের মত পাগড়ী বাঁধে, মাঝখানে কোন খাঁজ না রেখে



এভাবে বাঁধাটা শুদ্ধ হবে না।

আমি আমার নানীর কাছে শুনেছিলাম, তার একটি মসলিনের শাড়ী ছিল। যে মসলিন আংটির মধ্যে ২০০ বার পেঁচানো যেত তার সূক্ষ্মতার জন্য। সেটি তিনি তার কোন ভাইকে দিয়ে দিয়েছিলেন পাগড়ী বানাতে, কারণ অতিরিক্ত পাতলা হওয়ার জন্য সাধারণ পরিবারে সেগুলো পরার উপযুক্ত ছিল না। মুসলিম তাঁতীদের মসলিনের কদর ছিল রাজপরিবারগুলোতে। পাগড়ী পরার আসল নিয়মও আজ মুসলিমদের মাঝ থেকে হারিয়ে গিয়েছে, সেই বিলুপ্ত মসলিনের ন্যায়।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে নভেম্বর, ২০১২ রাত ৯:২১
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাদা নীল জার্সি

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪২


গায়ে ভাই রে সাদা নীল জার্সি
গন্ধ বাতাসে উম্মুখ হয়ে আছি;
কখন হবে- কণ্ঠ নালীর মিছিল-
তারপর- তারপর- সজোরে কিক
গোল- গোল শব্দটা আনন্দ মুখর!
আমার জার্সির রঙগুলো আত্মহারা
রাতজাগা পাগলাপাড়া ফুটবল খেলা
নয়ন জলে টলমলে- স্মৃতির... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাইরে এসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬

এসো, বৃত্তবদ্ধ খাঁচা ছেড়ে বাইরে এসো,
কল্পনাতীত উদাত্ত আকাশে চোখ পেতে
দুজনে বসি ঘাস গালিচাতে আজ পাশাপাশি ,
দেখ, পুস্প-ফলে বৃক্ষদের একাগ্র তপস্যা
দেখ, পূর্নিমাকে অর্থ দেয় বিপরীত অমাবশ্যা ।

দেখ, সাপ ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা ও তাঁর মন্ত্রীবর্গের দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত নয় কি?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৪

"হে কাবা! তুমি কতই না উত্তম, তোমার সুঘ্রাণ কতই না চমৎকার! তোমার মর্যাদা কতই না মহান! তবে সেই সত্তার শপথ, যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ! নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে একজন মুমিনের জান,... ...বাকিটুকু পড়ুন

স্পর্শে_ _ _ _ _

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৩ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০০

-কি পাও আমার মাঝে ?
-দুটি চোখ।
যেখানে আমার সর্বসুখ নিহিত,
ছমছমে সন্ধ্যা, ভয় জাগানিয়া অন্ধকার রাত,
এসব বৃথা হয়ে যায়,
তোমার একটি ছোঁয়ায়।
তোমার চোখের একটি পলক, আমার হাজার বছর,
আর কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেসুরো গলায় গান গাওয়ার অপরাধে

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৩ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৯


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চৌধুরী মো. তাশরিক-ই-হাবিবকে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে

যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় পপুলিস্ট দিক ও ন্যায়বিচারের দিক উভয়ই খেয়াল রাখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×