
জনৈক আলেম ওয়াজ করেছেন যে টেলিফোনে উত্তর দেয়ার সময় ইহুদি নাসারাদের অনুকরণে হেলো বলা যাবে না, বললে গুনাহ হবে, হেলো শব্দটি নাকি এসেছে হেল (অর্থাৎ জাহান্নাম ) শব্দ থেকে এবং হেলো বলা নাকি ফোনের অপর প্রান্তের লোককে জাহান্নামী বলা হয়। হেলো না বলে সালাম বলতে হবে । এটা একটা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত এবং বিভ্রান্তিকর ধারণা যা নেহায়েতই একজনের নিজস্ব মনগড়া । হেল এবং হেলো দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন শব্দ, একটি থেকে আরেকটির আসার কোনো কারণ নেই, যেমন রামের সাথে আরাম (comfort) বা বিরাম (break or rest) এর কোনো সম্পর্ক নেই ।
ইসলামে কোনো বস্তু বা বিষয় হারাম হালাল হওয়ার জন্য একটা মূল নীতি রয়েছে । যে কোনো ইবাদাত (যে কাজ আখেরাতে সওয়াব পাওয়ার বা আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে করা হয়) করার জন্য বা কোনো ইবাদাত জায়েজ হওয়ার জন্য তার অনুমতি/অনুমোদন থাকতে হবে আল্লাহর পক্ষ থেকে কোরানে এবং/ অথবা রাসূল (স) থেকে হাদিসে এবং হতে হবে রাসূল (স) এর প্রদর্শিত পন্থায়, অন্যথায় সে ইবাদাত করা যাবে না । যেমন নামাজ ভালো কাজ, তাও পাঁচ ওয়াক্তের জায়গায় ছয় বা সাত ওয়াক্ত পড়া যাবে না । পক্ষান্তরে দুনিয়াবী কাজ কর্মের (যে কাজ কেউ মূলত সওয়াবের আশায় করেনা) ভিতর যে কোনো কাজ করা যাবে কিনা তা নির্ভর করবে তা কোরান বা হাদিস মোতাবেক কোথাও নিষেধ বা হারাম করা আছে কিনা । হারাম বা নিষেধ করা না থাকলে তা করা যেতে পারে, যতক্ষণ না কাজটা অন্যের জন্য বা এমনকি নিজের জন্যও ক্ষতিকর না হয় ।
অন্য্ প্রান্তের লোকটি যদি মুসলমান হয়, আপনি জানেন, আপনি সালাম দিয়ে উত্তর দিবেন এটা ইসলামী এটিকেট, তবে হেলো বললে কোনো অভদ্রতা বা গুনাহ হওয়ার কোনো কারণ নেই ।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে নভেম্বর, ২০১৭ রাত ১১:২১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




