somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনি মানুষটা কেমন?

২৬ শে মে, ২০২০ রাত ২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আপনি মানুষটা কেমন? কেউ যখন আমাকে জিজ্ঞেস করে –
আমি বলি আমি অর্ধেক ভাল অর্ধেক খারাপ। সেটা কেমন, একটু ঝেড়ে কাশি - আমি অর্ধেক ভাল মানে আমি কারোর অনিষ্ঠ করিনা, কারোর হক নষ্ট করিনা, কারোর মনে ব্যাথা দিইনা সর্বপরি কারোর মাথায় কাঁঠাল ভাঙ্গি না। কিন্তু কেউ আমারে ধোকা দিলে, অনিষ্ঠ করলে বা আমার হক হরন করলে আমি তাকে কমে ছাড়িনা। এক কথায় আমার উপর সুবিধা নিতে চাইলে আমি সেটা প্রতিরোধ করি। যারা আমার কাছ থেকে সুবিধা নিতে পারে না, তারা আমার নামে দুর্নাম রটায়, আমাকে খারাপ ভাবে দেখে এবং তা অবলিলায় প্রচার করে। আর সেই অর্থে আমি অর্ধেক খারাপ।

মানুষ আপনার কাছথেকে সুবিধা হাসিল করতে না পারলে আপনার নামে কটুক্তি করতে, আপনার নামে বদনাম ছড়াতে এতটুকু দ্বিধাবোধ করবে না। সমাজে অনেক মানুষ আছে যাদেরকে আমরা নির্জল্য ভদ্রলোক বা ভালমানুষ বলি। তারা কারোর অনিষ্ঠ করে না, আবার কেউ তাদের উপর অনিষ্ঠ করলে, তারা হয়ত অনুভব করে কিন্তু মুখফুটে কিছু বলতে পারেনা বা প্রতিরোধ করার সাহস পায় না। আমরা তাদের বলি নিরেট ভাললোক। এই ধররেন ভাললোক হওয়ার ইচ্ছা আমার মোটেও করেনা, তাই আমি অর্ধেক খারাপ।

যদি কোন মানুষ এমন হয় যে সে কোন অন্যায় করেনা আবার কোন অন্যায়ের প্রতিবাদ বা প্রতিরোধও করেনা - অনেকটা গা বাচিঁয়ে চলার মত, এই ধরনের ভালমানুষ আমি হতে চাই না। আমার মনে হয়, অন্যায়ের প্রতিবাদ বা প্রতিরোদ করতে গেলে বা কোন ভালকাজ করতে গেলে অথবা নিদেনপক্ষে কারোর উপকার করতে গেলে কিছু বঞ্চনা, কিছু ভৎসনা ঘাড়ে নিতে হয় - এটা ধ্রুব সত্য। আপনি একটা ভাল কাজ করবেন আর আপনার কোন বদনাম হবে না, এদুটো জিনিষ একসঙ্গে যায় না। দেখবেন কোন ত্রুটি বা দুর্বলতা না পেলেও একদল তাচ্ছিলেয়ের সুরে বলবে “হিহ্, বাড়ীর খেয়ে বনের মহিষ তাড়াচ্ছে”। সে কারনে সবসময় সব ভাল কাজে কিছু মানুষের কাছে আপনি খারাপ হবেন। সুতারাং আমার কাছে মনে হয় এই অর্ধেক ভাল আর অর্ধেক খারপ হয়ে থাকাটা অনেকটা Better.

একদিকে আপনি অন্যায় করলেন না এতেকরে আপনি নিজের কাছে এবং আরো অনেকের কাছে ভাল থাকলেন, সেইসাথে অন্যদিকে কারোর অন্যায় কে প্রতিরোধ করলেন – দেখবেন সেই অন্যায়কারী এবং তার দোসরদের কাছে আপনি খারাপ হয়ে গেলেন। গাধারা অন্যায় করেনা আবার তাদের উপর অন্যায় আচারন (অতিরিক্ত বোঝা চাপালেও) করলেও প্রতিবাদ করে না, কিন্তু আমরা তো মানুষ। আমাদের সমাজে অন্যায় সইতে সইতে এবং দেখতে দেখতে আমাদের কাছে অন্যায়ের সংজ্ঞাটাই change হয়ে গেছে। কোন বদলোক কারোর কাছথেকে টাকা ধার নিয়ে সেটা মেরে দিলে বা তাল-বাহানা করলে আমরা তাকে বলি ব্যাটা বিরাট বুদ্ধিমান বা চালাক। আবার কেউ কুড়িয়ে পাওয়া টাকা তার মালিককে ফিরিয়ে দিলে আমার তাকে বলি বোকার হদ্দ – সত্যবাদি যুধিষ্টীর (নানা ভৎসনা)। আমার কাছে যে মানুষটা অন্যের টাকা কুড়িয়ে পেয়ে ফিরিয়ে দিল তাকে বেশি বুদ্ধিমান বা বিবেচক মনে হয়। এক্ষেতে সে অনেকগুলো বিষয় বিবেচনায় আনে –

১। টাকাটা নিয়ে হজম করবে কিভাবে।
২। মানুষ জানলে সমাজে মুখ দেখাবে কিভাবে।
৩। সন্তান-সন্ততি পরিবারের কাছে কত ছোট হতে হবে তাকে।
৪। খোদার কাছে কি জবাব দেবে।
৫। এ টাকা তো তার না।
৬। সর্বপরি থানা-পুলিশ সামলাবে কিভাবে।

দেখুন, এতগুলো বিষয় যে মাথায় এনে, চিন্তা-বিশ্লেষন করে finally decision নেয় টাকাটা তার মালিককে ফেরত দেওয়ার, তাকে আমরা বলি বোকা। আর যে টাকাটা আগ-পাছ কিছু না ভেবে এদিক ওদিক তাকিয়ে গাটিতে ভরে, তাকে আমরা বলছি বিরাট চালাক।
কোন চাকুরীতে কম বা মোটেও কাজ (সাধারনতঃ সরকারী চাকুরী) করতে না হলে আমরা সেটাকে বলছি আহা কি ভাল চাকুরী। কাজ করতে না হলে সেটা ভাল জব আর বেশি কাজ করতে হলে সেটা খারাপ জব। আমরা একদম ভাবি না যে কম কাজের বা কোন কাজ না করার জবে দক্ষতা দিন দিন শুন্যের কোঠায় নামে, বছর শেষে ক্যরিয়ারে কিছুই যোগ হয় না। আরো অনেক উদহারণ আছে – নেগেটিভটা দেখতে দেখতে সেটাই এখন পজেটিভ হয়ে গেছে। তবে দিন বদলাবে সে ভরসা আমার আছে।

এ লেখাটা সম্পুর্ণ আমার নিজের আত্ব-বিশ্লেষন, কারোর উপদেশ দেওয়ার উদ্দেশ্যে নয়। - ধন্যবাদ।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মে, ২০২০ রাত ২:৫১
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জন্য ৭-গ্রেডভিত্তিক ন্যায়সংগত সরকারি বেতন ও প্রশাসনিক সংস্কার একটি প্রস্তাবিত নীতিপত্র

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:২০


ন্যায়সংগত পারিশ্রমিক, বেতন বৈষম্য হ্রাস, মেধার মূল্যায়ন এবং দক্ষ রাষ্ট্রীয় প্রশাসন প্রতিষ্ঠার একটি সমন্বিত প্রস্তাব

বাংলাদেশের সরকারি বেতন কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে ২০টি গ্রেডের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুlie ২৪ আন্দোলন পরবর্তী বৈষম্যহীন বাংলায় (যেহেতু বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই), বেসরকারী ও সরকারী কর্মজীবীর জীবন...

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২১

/বাংলাদেশের মোট কর্মজীবীদের মধ্যে সরকারী আর বেসরকারী কত শতাংশ?

/গত ২ বছরে যত শিল্প কারখানা ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে এবং তাতে যত সংখ্যক বেসরকারী কর্মজীবী (কর্মকর্তা, কর্মচারী, শ্রমিক….) চাকরী... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ যখন মানুষটা চলে যায়

লিখেছেন সামিয়া, ০১ লা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৩




স্ত্রী বাসা থেকে চলে যাওয়ার পর মানুষের মাথায় কী কী চিন্তা আসে আমি জানি না। কেউ হয়তো প্রথমে রাগ করে। কেউ ভেঙে পড়ে। কেউ সঙ্গে সঙ্গে আত্মীয়স্বজনকে ফোন করে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেতন বৃদ্ধি পাওয়ায় এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই ।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:০২


নতুন পে স্কেল নিয়ে মানুষের কৌতূহলের শেষ নেই। বেতন কত বাড়বে এবং নতুন কাঠামো বাস্তবে কেমন হবে, এসব প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। নতুন বেতন কাঠামোয় ১ থেকে ১১... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্পঃ অদৃশ্য পাতায় লেখা ছিল যে

লিখেছেন সামিয়া, ০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২১



আমি একটা বায়িং হাউসে চাকরি করতাম। তখন জীবনটা খুব সাধারণ ছিল। সকালবেলা অফিস, সারাদিন কাজের চাপ, সন্ধ্যায় বাসায় ফেরা। ভবিষ্যৎ নিয়ে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা ছিল না। বিয়ে নিয়ে তো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×