somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাইব্রিড দের ডিজিটাল সুখ,দুঃখ

২২ শে জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমরা কিন্তু না মিলেনিয়াল, না খাটি ৯০এর কিডস। আমাদের জীবন গড়ার বয়সটা ছিল ২০০০এ। আমরা হইছি গিয়া একটা হাইব্রিড জাতি। একটা হাইব্রিড জেনারেশন। আমরা একদম কলম দিয়ে ক্যাসেট যেমন ঠিক করছি তেমনি কলেজ শেষ করতে করতে সোশ্যাল মিডিয়াতে বুদ হয়ে গেছিলাম আবার ভার্সিটি শেষ করতে করতে স্পটিফাই আর ইউটিউব এবং ইন্সটাগ্রাম ধরে ফেলছি।
একারনে আমরা ইউনিক টাইপের অসুখী এবং বিভ্রান্ত। আমাদের আগের পরের জেনারেশন এঁর চেয়ে সম্পূর্নই ভিন্ন।
সোশ্যাল মিডিয়ার ইম্প্যাক্ট আমাদের উপর পজিটিভ এবং নেগেটিভ দুইভাবেই আসে।এই পেইজে আমরা পজিটিভ নিয়া কথা বলি না।তাই নেগেটিভ গুলাই আলাপ হবে।পজিটিভ এঁর জন্য সুন্দর সুন্দর মোটিভেশনাল পেইজ আছে।ফিল্টার দিয়ে কোটেশন শেয়ার দেয়। আর না হয় টাকা খরচ করে মোটিভেশন নেন।ফ্রি তে আমরা দুঃখই বিক্রি করবো।

সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাপার টা বলি এভাবে।যারা আমরা কলোণী কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় টাইপ জায়গায় থাকতাম ওইসব জায়গায় এক ধাচের আন্টি/আংকেল ছিল যাদের কাজই ছিল প্যাসিভলি নিজের ছেলে মেয়েদের বিজ্ঞাপন করে বেড়ানো। রাস্তা ঘাটে দেখলে এইসব ধরনের কনভার্সেশন করতেন,
"কিরে বাবা,কেমন আছো? রোল কত হইছে?আমার ছেলে তো একদম পড়েনাই তাই সেকেন্ড হইছে,আরেকটু পড়লে ফার্স্ট হবে"
নিজেরাই বলতেন, উত্তর শুনার প্রয়োজন বোধ করতেন না।
আবার অনেক সময় আমরা নিজেরা হয়তো খারাপ করছি কিছু একটায় কিন্ত বন্ধু করছে ভালো। তখন আমরা নিজেরা ঘরের ভিতর ঢুকে থাকতাম।ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করতাম।এভয়েড করতাম ওই বন্ধুর আনন্দ গুলোকে। নিজের ভালোর জন্যেই, বন্ধুর প্রতি ঘৃনা বা ওইসব কিছু না। ইনসুলেশন মাঝে মাঝে ক্ল্যারিটি দেয়।মাথা ক্লিয়ার করে।

সোশ্যাল মিডিয়া দিয়া আমরা এই না চাওয়া জিনিস গুলো কে ঘরের ভিতরে নিয়ে আসছি। পাশের বাড়ির আন্টির মেয়ে কয়টা জিপিএ ৫ পাইছে সেটা আমার পকেটে আসে, মিষ্টি খাওয়া দেওয়ার ছবি আসতেছে, সফল বন্ধু বান্ধবীরা আনন্দের ছড়াছড়ি করতেছে দেখি, বিদেশে থাকা বন্ধু বান্ধব রা বেড়াইতেছে,ঠান্ডা বরফ ধরে উষ্ণ ছবি দিয়ে দেশের জন্য আহা উহু করতেছে। এই জিনিস গুলো আমরা টানা ২৪ ঘন্টা ৭ দিন চোখের সামনে রাখি আর ভাবি আমি কেন অসুখী???

কেন সাফারিং করতেছি??কারন আমরা এডিক্টেড এইটার প্রতি। এছাড়াও আমরাও টুকটাক ভালো কিছু করে এইখানে দিতে চাই যাতে আমাদের কেও ভালো বলে। আমাদের কন্টেণ্ট দেখেও যাতে অনেকের এরকম হিংসা হয় সেটাই আমরা চাই। এটা একটা দারুন সার্কেল।ভালো চোখে দেখলে ভালো আর নাহয় আমাদের মতো কুতসিত চোখেও দেখেও হতাশ হওয়া যায় নতুন করে।
তবে,এখন একটা সুবিধা হইছে। কিছু ছাগল টাইপের মানুষের কারনে আমরা হালকা পাতলা প্রতিশোধ ও নিতে পারি এইসবের। ইনস্টাগ্রাম এবং অবারিত পর্ন সাইটের সুবাদে এইসব আন্টি আংকেল দের সফল মেয়েদের অর্ধনগ্ন(ক্ষেত্রবিশেষে সম্পূর্ন নগ্ন) অথবা অনতরংগ দৃশ্য ও আমাদের হাতে চলে আসে এবং আমাদের মতো লুজার দের মধ্যে যারা অতি নিম্ন তারা হাত মারে চুপেচাপে,ঝোপেঝাড়ে। বাকিরা যারা এক্টিভ ছেলেপেলে তারা গর্বের সাথে সাইবার ক্রাইম এবং ব্ল্যাকমেইল শুরু করে। বাংলা পর্ন সাইট বানায় কিংবা গুগল ড্রাইভ লিংক বানায় শেয়ার করে।

কে বলছে বাংলাদেশে তরুন উদ্যোক্তা দের অভাব? এদের উচিত ভার্সিটি গুলোতে ইমার্কেটিং এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন নিয়ে কাজ করা। এটলিস্ট ফেসবুকের এড এলগরিদমের চেয়ে ভাল হবে।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে জানুয়ারি, ২০২১ দুপুর ১২:৫০
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ব্লগার ভাবনা: ব্লগ জমছেনা কেন? এর পেছনে কারণ গুলো কি কি? ব্লগাররা কি ভাবছেন।

লিখেছেন লেখার খাতা, ১৩ ই জুন, ২০২৪ রাত ৮:৩৫


সুপ্রিয় ব্লগারবৃন্দ,
আম পাকা বৈশাখে বৈশাখী শুভেচ্ছা জানিয়ে শুরু করছি। কাঠফাটা রোদ্দুরে তপ্ত বাতাস যেমন জনপ্রাণে একটু স্বস্তির সঞ্চার করে, ঠিক তেমনি প্রাণহীন ব্লগ জমে উঠলে অপার আনন্দ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাকার ২৭ নম্বর সমুদ্রবন্দর থেকে

লিখেছেন অপু তানভীর, ১৩ ই জুন, ২০২৪ রাত ১১:০০

চারটার দিকে বাসায় ফেরার কথা ছিল । তবে বৃষ্টির কারণে ঘন্টা খানেক পরেই রওয়ানা দিতে হল । যদিও তখনও বৃষ্টি বেশ ভালই পড়ছিল । আমি অন্য দিন ব্যাগে করে রেইনকোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুক্তিযুদ্ধা কোটা ব্যাবস্থা কাউকে বঞ্চিত করছে না।

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ১৪ ই জুন, ২০২৪ রাত ৩:৩২

কোটা ব্যাবস্থা কাউকে বঞ্চিত করছে না।
সকল যোগ্যতা জিপিএ-্র প্রমান দিয়ে, এরপর প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, সেকেন্ডারি।
এরপর ভাইবা দিয়ে ৬ লাখ চাকুরি প্রার্থি থেকে বাছাই হয়ে ১০০ জন প্রাথমিক নির্বাচিত।

ধরুন ১০০... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিউ জার্সিতে নেমন্তন্ন খেতে গিয়ে পেয়ে গেলাম একজন পুরনো ব্লগারের বই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৪ ই জুন, ২০২৪ দুপুর ১২:৩৭

জাকিউল ইসলাম ফারূকী (Zakiul Faruque) ওরফে সাকী আমার দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু; ডাঃ আনিসুর রহমান, এনডক্রিনোলজিস্ট আর ডাঃ শরীফ হাসান, প্লাস্টিক সার্জন এর। ওরা তিনজনই ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের একই... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেনজীর তার মেয়েদের চোখে কীভাবে চোখ রাখে?

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৪ ই জুন, ২০২৪ বিকাল ৩:০৬


১. আমি সবসময় ভাবি দুর্নীতিবাজ, ঘুষখোর যারা মিডিয়ায় আসার আগ পর্যন্ত পরিবারের কাছে সৎ ব্যক্তি হিসেবে থাকে, কিন্তু যখন সবার কাছে জানাজানি হয়ে যায় তখন তারা কীভাবে তাদের স্ত্রী,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×